• ধ্বলেশ্বরী দূষণের কবলে
    ধ্বলেশ্বরী দূষণের কবলে

বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার পাশে বুড়িগঙ্গা নদীকে দূষণ থেকে বাঁচাতে হাজারীবাগের ট্যানারিগুলোকে সাভারের চামড়াশিল্প নগরে সরিয়ে নেয়া হচ্ছে। কিন্তু এরই মাঝে খবর এসেছে, সাভারের চামড়া প্রক্রিয়াজাতকারী ট্যানারির বর্জ্যে দূষণের শিকার হচ্ছে পার্শ্ববর্তী ধলেশ্বরী নদী।

উল্লেখ্য, সাভারের হেমায়েতপুরের হরিণধরা গ্রামের ধলেশ্বরী নদীর পাশে ১১৯ একর জমিতে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প কর্পোরেশন (বিসিক) চামড়া শিল্পনগরী প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। 
পরিবেশ অধিদপ্তর গত ২৯ ডিসেম্বর ধলেশ্বরী নদীর পানি ও কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগার (সিইটিপি) থেকে বের হওয়া বর্জ্য পরীক্ষা করে ক্ষতিকর ১১টি উপাদানের মাত্রাতিরিক্ত উপস্থিতি দেখতে পেয়েছে। 

সেখানে এখনো পরিকল্পিত ডাম্পিং স্টেশন গড়ে ওঠেনি। ট্যানারির বর্জ্য পরিশোধন না করে সরাসরি ও আংশিক পরিশোধিত বর্জ্যের ড্রেনেজের লাইন সংযুক্ত করা হয়েছে নদীর জলধারায়। এ কারণে ধলেশ্বরী দূষিত হতে শুরু করেছে।  এর সাথে যুক্ত  কালিগঙ্গা, তুরাগ নদী তাই হুমকির মুখে। 

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) সাধারণ সম্পাদক ডাক্তার আবদুল মতিন রেডিও তেহরানকে বলেন, ট্যানারি স্থানান্তরের জন্য পরিকল্পিতভাবে শিল্প নগরায়ন গড়ার কোনো বিকল্প নেই। বুড়িগঙ্গাকে বাঁচাতে ট্যানারি স্থানান্তর করা হয়েছে। কিন্তু সেখানেও যদি তদারকি না হয়, নিয়ম না মানা হয় তবে আরও মারাত্মক ক্ষতির কারণ হবে। দূষণে আক্রান্ত হবে  চারটি নদী।  

ট্যানারির বর্জ্যে নদীর পানি দুষিত হলে তা শুধু যে জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর তা নয়, এর ফলে  মাছসহ যাবতীয় জলজ প্রাণীও ধংস হয়ে যাবে বলে মন্তব্য করেন এই পরিবেশবিদ। 

ওদিকে, সাভারের চামড়া শিল্পাঞ্চল ঘুরে এসে সাংবাদিকরা জানিয়েছেন, প্রকল্পের একটি গুরুত্বপূর্ণ কম্পোনেন্ট হিসেবে নির্মাণ হওয়ার কথা কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগার (সিইটিপি)। কিন্তু সিইটিপি’র অনেক অপরিহার্য অংশ এখনো নির্মাণ করা হয়নি।

লবণ পানি শোধণের কাজও শুরু হয়নি। এ অবস্থায় ৩ টি কারখানার চামড়া প্রক্রিয়াজাতকরণ শুরু হয়েছে। যা নিয়মিত বর্জ্য উৎপাদন ও নিঃসরণ করছে। এ সমস্ত বর্জ্য অপরিশোধিত অথবা আংশিক পরিশোধিত অবস্থায় পার্শ্ববর্তী ধলেশ্বরীতে গিয়ে পড়ছে।#


পার্সটুডে/আব্দুর রহমান খান/গাজী আবদুর রশীদ/১০  
 

২০১৭-০১-১০ ২০:০৭ বাংলাদেশ সময়
মন্তব্য