বাংলাদেশের প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য সরকার কর্তৃক সরবরাহকৃত ভুলে ভরা পাঠ্যবইগুলো অবিলম্বে প্রত্যাহার ও নবীন শিক্ষার্থীদের সাম্প্রদায়িক ও কূপমণ্ডূক হওয়ার হাত থেকে রক্ষার দাবি জানিয়েছেন বাংলাদেশের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।

গতকাল গণমাধ্যমে পাঠানো এক যৌথ বিবৃতিতে তাঁরা পাঠ্যপুস্তকে সাম্প্রদায়িক ও ধর্মীয় বৈষম্যমূলক বিষয় অন্তর্ভুক্তি এবং গুরুত্বপূর্ণ ও প্রগতিশীল লেখকদের লেখা বাদ দেয়াসহ নানা অসংগতির নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন।

এর আগে গতকাল এক সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেছেন, ছাত্ররা নতুন বছরে নতুন বই পেয়ে আনন্দ উৎসব করছে। কেবল ভুলত্রুটি নিয়ে সমালোচনা করে তাদের হতাশ করে দেয়া ঠিক নয়।

এ প্রসঙ্গে রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. তুহিন ওয়াদুদ রেডিও তেহরানকে বলেন, বছরের প্রথম দিন ছাত্রদের হাতে নতুন বই তুলে দেয়াটা প্রশংসনীয় কাজ। তবে যারা ভুলে ভরা বই ছাত্রদের হাতে দিয়েছেন  তাদের অবশ্যই শাস্তি পেতে হবে।

পাঠ্যবইয়ে ভুলের নমুনা তুলে ধরে বরিশালের বানারিপাড়া উপজেলার একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা খালেদা ইয়াসমিন রেডিও তেহরানকে বলেন, কবিতায় ভুল ছাপা অমার্জনীয় অপরাধ। আর ছাগল গাছে উঠে আম খাচ্ছে এমন উদ্ভট জ্ঞান দেয়াটা তো রীতিমত শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

খালেদা ইয়াসমিন এ জন্য দায়ী ব্যক্তিদের শাস্তি দাবি করেন এবং ভুল সংশোধন করে এসব পাঠ্যপুস্তক নতুন করে ছাপার দাবি জানান।

ওদিকে, বিবৃতিদাতা বিশিষ্টজনেরা পাঠ্যপুস্তকগুলোতে তিন ধরনের ভুল ও তথ্য বিকৃতি দেখতে পেয়েছেন। এগুলো হচ্ছে- বানান ও তথ্যগত বিকৃতি, বাক্য গঠনে ভুল এবং মৌলবাদ ও সাম্প্রদায়িক মনোবৃত্তির অনুপ্রবেশ। পাঠ্যপুস্তকে দলীয়করণ ও তোষামোদি করার অভিযোগ তুলে তারও নিন্দা জানান বিশিষ্ট এই ব্যক্তিরা।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বই এনসিটিবির মাধ্যমে ছাপানো হয়। বছরের প্রথম দিন ৪ কোটি ৩৩ লাখ ৫৩ হাজার ২০১ জন শিক্ষার্থীর হাতে এবার ৩৬ কোটি ২১ লাখ ৮২ হাজার বই ও শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করে সরকার শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই যাওয়ার পর থেকেই বিভিন্ন ভুল-ক্রটি ধরে সামাজিক যোগাযোগের বিভিন্ন মাধ্যমে সমালোচনা চলছে  

তীব্র সমালোচনার পর ওইসব ভুল-ক্রটি পর্যালোচনায় একটি কমিটি করেছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড  তদন্ত কমিটির প্রাথমিক রিপোর্টের ভিত্তিতে  জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের প্রধান সম্পাদক প্রীতিশ কুমার সরকার ও ঊর্ধ্বতন বিশেষজ্ঞ লানা হুমায়রা খানকে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) করা হয়। তাছাড়া, বোর্ডের আর্টিস্ট কাম ডিজাইনার সুজাউল আবেদিনকে সাময়িক বরখাস্ত  করা হয়েছে।

এ ছাড়াও, পাঠ্যপুস্তকে ভুল-ত্রুটি বিষয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব রুহী রহমানকে আহ্বায়ক করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ সোমবার এই কমিটি গঠন করে সাত কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করতে নির্দেশ দিয়েছে।#

পার্সটুডে/আবদুর রহমান খান/আশরাফুর রহমান/১১

২০১৭-০১-১১ ১৯:০৮ বাংলাদেশ সময়
মন্তব্য