• প্রেসিডেন্টের সঙ্গে শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ

বাংলাদেশে একটি নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন নিয়ে রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংলাপের ধারাবাহিকতায় আজ বঙ্গভবনে প্রেসিডেন্ট আবদুল হামিদের সঙ্গে দেড় ঘণ্টাব্যাপী বৈঠক করেছে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ। বৈঠকে আওয়ামী লীগের  সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১৯ সদস্যের  প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন।

প্রতিনিধি দলে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত, আবুল মাল আবদুল মুহিত, এইচ টি ইমাম, ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন, মোহাম্মদ জমির, প্রেসিডিয়াম সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম, মোহাম্মদ নাসিম, মতিয়া চৌধুরী, সাহারা থাতুন ও সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. দীপু মনি, এডভোকেট জাহাঙ্গীর কবীর নানক, আইন বিষয়ক সম্পাদক আব্দুল মতিন খসরু, প্রচার সম্পাদক হাছান মাহমুদ ও আইনমন্ত্রী আনিসুল হক ছিলেন।

বৈঠক থেকে বের হওয়ার পথে বিকেল ৫ টা ৪০ মিনিটে বঙ্গভবনের গেটে উপস্থিত সাংবাদিকদের দলটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের জানিয়েছেন, 'বৈঠক ফলপ্রসূ হয়েছে। আমরা আমাদের প্রস্তাবনা মহামান্য রাষ্ট্রপতির কাছে উপস্থাপন করেছি। আমাদের প্রস্তাব গ্রহণ করা বা না করার সম্পূর্ণ এখতিয়ার রাষ্ট্রপতির। ইসি পুনর্গঠনে মহামান্য রাষ্ট্রপতির যে কোনো ন্যায়সঙ্গত উদ্যোগে আমাদের পূর্ণ আস্থা রয়েছে।’

প্রেসিডেন্ট আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

এ সময় আওয়ামী লীগের দেয়া সুপারিশগুলোও তুলে ধরেন ওবায়দুল কাদের। সুপারিশগুলো হলো-

এক. গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১১৮-এর বিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি প্রধান নির্বাচন কর্মকর্তা ও অন্য কমিশনারদের নিয়োগ দেবেন।

দুই. প্রধান নির্বাচন কর্মকর্তা ও অন্য কমিশনারদের নিয়োগের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতি যা উপযু্ক্ত বিবেচনা করবেন, সে প্রক্রিয়ায় তিনি নির্বাচন কমিশনারদের নিয়োগ দেবেন।

তিন. প্রধান নির্বাচন কর্মকর্তা ও অন্য কমিশনারদের নিয়োগের লক্ষ্যে সম্ভব হলে এখনই একটি উপযুক্ত আইন প্রণয়ন অথবা অধ্যাদেশ জারি করা যেতে পারে। সময় স্বল্পতার কারণে ইসি পুনর্গঠনের ক্ষেত্রে তা সম্ভব না হলে পরবর্তী নির্বাচন কমিশন গঠনের সময় যেন এর বাস্তবায়ন সম্ভব হয়, সংবিধানের নির্দেশনার আলোকে এখন থেকেই সেই উদ্যোগ গ্রহণ করা।

চার. অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য বিরাজমান সব বিধিবিধানের সঙ্গে জনগণের ভোটাধিকার অধিকতর সুনিশ্চিত করার স্বার্থে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ই-ভোটিং (ইলেক্ট্রনিক ভোটিং) চালু করা।

ওবায়দুল কাদের বলেন, নির্বাচন কমিশন গঠনে রাষ্ট্রপতি চাইলে গতবারের মতো সার্চ কমিটি গঠন করতে পারেন। কমিটি সর্বসম্মতভাবে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্য কমিশনারদের নাম প্রস্তাব করবে।

এর আগে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, পূর্ববর্তী নির্বাচন কমিশন যেভাবে গঠন করা হয়েছিল এবারেও সেভাবে রাষ্ট্রপতি সার্চ কমিটির মাধ্যমে নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন করবে।

ওদিকে, নির্বাচন কমিশন (ইসি) গঠনে আইন প্রণয়নের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট করেছেন এক আইনজীবী। বুধবার (১১ জানুয়ারি) হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় রিট আবেদনটি করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইউনুছ আলী আকন্দ।

আবেদনে বলা হয়, ‘সংবিধানের ১১৮ অনুচ্ছেদে নির্বাচন কমিশন গঠন ও দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সংবিধান ও আইনের অধীনে পরিচালিত হওয়ার কথা বলা থাকলেও এখন পর্যন্ত আইন প্রণয়ন করা হয়নি। একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান সংবিধানের বিধানের বাইরে চলতে পারে না। ’

মন্ত্রী পরিষদ সচিব, আইন সচিব ও বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশনকে এ রিটে বিবাদী করা হয়েছে।#

পার্সটুডে/আবদুর রহমান খান/আশরাফুর রহমান/১১

 

২০১৭-০১-১১ ১৯:৫৯ বাংলাদেশ সময়
মন্তব্য