ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্সি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের ইরানি ভিজিটিং প্রফেসর কবি ড. ফরহাদ দরুদ গরিয়ান ও তাঁর সহধর্মিণী কবি ইলহাম হাদ্দাদী ইরান ও বাংলাদেশের ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্ক এবং ভাষা ও সংস্কৃতিকে শাণিত ও পরিশীলিত করার কাজে কবিদের বিশেষ ভূমিকার কথা উল্লেখ করেছেন।

ইরানি কবি ইলহাম হাদ্দাদী

শুক্রবার বিকেলে রাজধানী ঢাকায় ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে সমকালিন বাংলা কবিতার প্রতিনিধিত্বশীল কিছু তরুণ কবি ও সাহিত্য সংগঠকের সঙ্গে এক গোল টেবিল বৈঠক তারা বলেন, যুগে যুগে কবিরাই ন্যায় নীতি আদর্শ মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় তাদের কলমযুদ্ধ চালিয়ে গেছেন। তারা বলেন, বেদনা ছাড়া কোনো কিছু সৃষ্টি হয় না। প্রসব বেদনা ছাড়া যেমন সন্তান জন্ম হয় না তেমনি পৃথিবীর সব মহান সৃষ্টির পেছনে একটি বেদনা রয়েছে।

(ডান থেকে) ড. আব্দুস সবুর খান,  জাকির আবু জাফর, আমিন আল আসাদ, মাহমুদুল হাসান নিজামী, রহমতুল্লাহ খন্দকার ও আতিক হেলাল

যুগে যুগে কবিরা অনেক অত্যাচারেরও শিকার হয়েছেন উল্লেখ করে প্রফেসর কবি ড. ফরহাদ দরুদ গরিয়ান বলেন, ইরানের কবি ফেরদৌসি, হাফিজ শিরাজী, শেখ সা’দী এবং বাংলাদেশের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম, ফররুখ আহমদরা শাসকদের পক্ষ থেকে নানা অত্যাচারের সম্মুখীন হয়েছেন। ইরানে রাজতান্ত্রিক আমলে কবিরা ছিলেন নির্যাতিত, তারা স্বাধীন মতামত ব্যক্ত করতে পারতেন না। ইসলামী বিপ্লবের পর বর্তমানে ইরানের কবিদের ওপর কোনো রাজনৈতিক প্রভাব নেই। তারা স্বাধীনভাবে তাদের কাব্য চর্চা করে চলেছেন এবং মতামত ব্যক্ত করতে পারছেন। রাষ্ট্রপক্ষ থেকে তাদের ওপর কোনো চাপ নেই।

(বাম থেকে) ড. জহির উদ্দিন মাহমুদ, ড. ফরহাদ দরুদ গরিয়ান ও ইলহাম হাদ্দাদী

গোলটেবিল বৈঠকে ঢাকা বিদ্যালয়ের ফার্সি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের চেয়ারম্যান কথাশিল্পী ড. আব্দুস সবুর খান তার বক্তৃতায় সমকালিন ইরানি কবি ও বাংলাদেশের কবিদের কবিতা বিষয়বস্তু, তাদের কাব্য চর্চার গতি-প্রকৃতি, সমকালিন কবিদের মন মানসিকতার ওপর সময়ের প্রভাব, কবিদের ব্যক্তিগত চাহিদা, রুচিবোধের কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, কবিতা তখনি কালোত্তীর্ণ হয় যখন তা গণমানুষের সার্বজনীন ইচ্ছা ও স্বপ্নের কথা ব্যক্ত করতে সক্ষম হয়।

সভায় উপস্থিত ছিলেন ইরানি সংস্কৃতি কেন্দ্রের কর্মকর্তা ও মাসিক নিউজ লেটারের সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য ড. জহির উদ্দিন মাহমুদ, জাতীয় ছড়া আন্দোলন ও জাতীয় আধ্যাত্মিক কবিতা পরিষদ-এর সভাপতি কবি মহিউদ্দিন আকবর, শিশু সাহিত্যিক, কবি ও গীতিকার আহমেদ কায়সার, দৈনিক নয়া দিগন্তের সাহিত্য সম্পাদক কবি জাকির আবু জাফর, জাতীয় কবিতা মঞ্চের সভাপতি কবি মাহমুদুল হাসান নিজামী, বাংলাদেশ লেখক সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক কবি মানসুর মুজাম্মিল, মাসিক অর্থ বীমার সম্পাদক, ছড়াকার কবি আতিক হেলাল, লালকুঠি সাহিত্য পরিষদ-এর সেক্রেটারি জেনারেল কবি আমিন আল আসাদ, অনুশীলন সাহিত্য পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক কবি তাসলিমা রুবী, সাহিত্য পত্রিকা বর্গমূল সম্পাদক কবি রহমতুল্লাহ খন্দকার, প্রকাশক, গবেষক কবি নাসিমুল বারী, ছড়াকার কবি শাহজাহান মুহাম্মদ, কবি রেহানা চৌধুরী, সাংবাদিক কবি ফারুক আজম, ছড়াকার কবি মর্সিয়া লেখক শাহ নেওয়াজ তাবীব, কবি ফাতেমা খাতুন রুনা, কবি মুমতাহিনা মুন ও সাহিত্যকর্মী কবি আলমগীর হোসেন জোয়ারদার।

(বামে) ড. আব্দুস সবুর খান

উল্লেখ্য, চলমান বাংলা কবিতার ওপর ফার্সি ভাষায় একটি গবেষণা প্রতিবেদন তৈরির লক্ষ্যে ইরানি কবি দম্পতি কবি ড. ফরহাদ দরুদ গরিয়ান ও কবি মিসেস ইলহাম হাদ্দাদি বাংলাদেশের কবি-সাহিত্যিকদের সঙ্গে ওই গোলটেবিল বৈঠকে মিলিত হন। #

পার্সটুডে/আশরাফুর রহমান/১১

 

২০১৭-০২-১১ ১২:৫৯ বাংলাদেশ সময়
মন্তব্য