• শোলাকিয়ায় ঈদের জামায়াত
    শোলাকিয়ায় ঈদের জামায়াত

রমজানের রোজার শেষে খুশির সওগাত নিয়ে এসেছে ঈদ। আজ (সোমবার) বাংলাদেশে যথাযোগ্য মর্যাদা ও উৎসাহ-উদ্দীপনায় উদযাপিত হচ্ছে পবিত্র ঈদুল ফিতর।

বরাবরের মতো এবারো ঈদের প্রধান জামাত হয়েছে ঢাকার জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে, যেখানে অংশ নিয়েছেন বিভিন্ন শ্রেণি, পেশা, বয়সের লাখো মুসলমান।

সকালে দলে দলে মানুষ রাজধানীর বিভিন্ন ঈদগাহ ময়দান ও মসজিদে ছোটে ঈদের নামাজ আদায় করতে। বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে ঈদের প্রথম জামাত হয় সকাল ৭টায়। এর দেড় ঘণ্টা পর রাজধানীতে ঈদুল ফিতরের প্রধান জামাত হয় জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে, সকাল সাড়ে ৮টায়।

ঈদুল ফিতর উপলক্ষে রোগীদের জন্য হাসপাতাল এবং এতিমখানা ও কারাগারে বন্দীদের জন্য জেলখানায় থাকবে বিশেষ খাবারের আয়োজন। সরকারি শিশুসদন, ছোটমণি নিবাস, সামাজিক প্রতিবন্ধী কেন্দ্র, বৃদ্ধাশ্রম, ভবঘুরে কল্যাণ কেন্দ্র এবং দুস্থ কল্যাণ কেন্দ্রে রয়েছে উন্নত মানের খাবার এবং বিনোদনের ব্যবস্থা।

প্রতিবারের মতো এবারও দেশের সবচেয়ে বড় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হলো কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়ায়। সোমবার ঈদুল ফিতরের নামাজ পড়তে আসা দেশ-বিদেশের লাখো মুসল্লির ভিড়ে জনসমুদ্রে পরিণত হয় শোলাকিয়া ময়দান। 

এদিকে, গত বছরের ঈদুল ফিতরের দিন শোলাকিয়ার পুলিশ চেকপোস্টে জঙ্গি হামলা ঘটনা ঘটায় এ নিয়ে মুসল্লিদের মাঝে অস্বস্তি থাকলেও তা বৃহত্তম এই জামাত আয়োজনে প্রতিবন্ধক হয়ে দাঁড়াতে পারেনি। বরং ভয়কে জয় করে দেশের সর্ববৃহৎ এ জামাতে অংশগ্রহণ করতে ভোর থেকেই মুসল্লিদের ঢল নামে শোলাকিয়া ঈদগাহের উদ্দেশ্যে। জেলা শহরের পূর্বপ্রান্তে নরসুন্দা নদীর তীরে অবস্থিত শোলাকিয়া ঈদগাহমুখি সকল সড়ক চলে যায় মুসল্লিদের দখলে। কয়েক ঘণ্টার জন্য এসব সড়কে যান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। কেবল শোলাকিয়া সেতু দিয়ে মুসল্লিদের ঈদগাহে যাতায়াতের জন্য কিশোরগঞ্জ-করিমগঞ্জ সড়ক খোলা রাখা হয়। জামাত শুরুর আগেই সাত একর আয়তনের বিশাল ঈদগাহ ময়দান কানায় কানায় ভরে যায়। আগত মুসল্লিদের অনেকে মাঠে জায়গা না পেয়ে পার্শ্ববতী রাস্তা, শোলাকিয়া সেতু ও নদীর পাড়ে জায়গা করে নিয়ে জামাতে শরিক হন।
১৮২৮ সালে অনুষ্ঠিত ঈদের প্রথম বড় জামাতের হিসাব অনুযায়ী শোলাকিয়া ময়দানে এবার ছিল ১৯০তম ঈদ জামাত। সকাল ১০টায় শুরু হওয়া জামাতে ইমামতি করেন বাংলাদেশ ওলামা-মাশায়েখ সংহতি পরিষদের চেয়ারম্যান মাও. ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ। জামাতকে কেন্দ্র করে নেওয়া হয় চার স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা। মাঠের চারপাশের অন্তত দুই কিলোমিটার এলাকাজুড়ে বসানো হয় নিরাপত্তা চৌকি। পুরো এলাকায় সিসি ক্যামেরা বসানো ছাড়াও মাঠের ৬টি প্রবেশ আর্চওয়ে দিয়ে মুসল্লিদের দেহ তল্লশি করা হয়। সহ¯্রাধিক পুলিশ ও আর্মড পুলিশ ছাড়াও বিজিবি ও র‌্যাব সদস্যের কঠোর নিরাপত্তা ও নজরদারিতে শন্তিপূর্ণভাবে নামাজ শেষ হয়। নামাজ শেষে ইমাম তাঁর বয়ান ও মোনাজাতে জঙ্গিবাদকে ইসলামের শত্রু হিসেবে আখ্যা দিয়ে জঙ্গিবাদের পতন কামনা করেন। জঙ্গিবাদ রুখতে গিয়ে সে সকল পুলিশ সদস্য নিহত হয়েছেন তাদের রুহের মাগফিরাত কামনা করা হয়। এছাড়া দেশ-জাতি ও মুসলিম উম্মাহর জন্য মঙ্গল কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। কয়েক লাখ মুসল্লির উচ্চকিত হাত আর আবাল-বৃদ্ধ-বনিতার আমীন, আমীন ধ্বনিতে এ সময় মুখরিত হয়ে উঠে পুরো ঈদগাহ এলাকা। মাঠের সুনাম ও নানা জনশ্রুতির কারণে ঈদের কয়েক দিন পূর্ব থেকেই কিশোরগঞ্জের প্রত্যন্ত অঞ্চল ও সারাদেশের বিভিন্ন জেলা তথা ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, রাজশাহী, কুষ্টিয়া, গাজীপুর, নরসিংদী, ব্রাক্ষ্মণবাড়িয়া, হবিগঞ্জ, সুনামগঞ্জ, সিলেট, জামালপুর, খাগড়াছড়ি, শেরপুর, যশোর, খুলনা ও চট্রগ্রামসহ অধিকাংশ জেলা থেকে শোলাকিয়ায় মুসল্লিদের সমাগম ঘটে। এদের অনেকেই ওঠেছিলেন হোটেলে, কেউবা আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে ও শোলাকিয়া ঈদগাহ মিম্বরে। আবার অনেকেই কোথাও জায়গা না পেয়ে রাত কাটিয়েছেন বিভিন্ন মসজিদে।#

পার্সটুডে/সিরাজুল ইসলাম/২৬

 

২০১৭-০৬-২৬ ১৩:১৯ বাংলাদেশ সময়
মন্তব্য