• জাতীয় সংসদে বক্তৃতা করছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা
    জাতীয় সংসদে বক্তৃতা করছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

রোহিঙ্গাদের রাখাইনে ফিরিয়ে নেয়ার শর্তে বাংলাদেশ মিয়ানমারের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। রোহিঙ্গাদের নিজ ভূখণ্ডে ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমারকে আন্তর্জাতিকভাবে কূটনৈতিক চাপ প্রয়োগের বিষয়ে আজ (সোমবার) রাতে জাতীয় সংসদে এক প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় তিনি এ কথা বলেন।

শেখ হাসিনা বলেছেন, মানবিক কারণে রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশ আশ্রয় দিচ্ছে। মিয়ানমার থেকে আসা সব রোহিঙ্গাকে মিয়ানমারে ফিরিয়ে নিতে হবে। ওই দেশে নিরাপদ অঞ্চল গঠন করে তাদের সুরক্ষা দিতে হবে কারণ রোহিঙ্গা সংকটের সৃষ্টি করেছে মিয়ানমার। তাদেরই এর সমাধান করতে হবে। প্রতিবেশী হিসেবে বাংলাদেশ প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করবে।

তিনি বলেন, ১৬ কোটি মানুষের খাবার দিই। সেই সঙ্গে কয়েক লাখ মানুষকে খাবার দেওয়ার সক্ষমতা বাংলাদেশের আছে। সত্যিকার যারা এসেছে তাদের ছবিসহ তালিকা করা হবে। রোহিঙ্গা সংকটকে কেন্দ্র করে কেউ যেন রাজনৈতিক ফায়দা বা আর্থিক সুবিধা নেয়ার চেষ্টা না করেন সেই আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমাদের অভিজ্ঞতা আছে, ১৯৭১ সালে পাকিস্তানী বাহিনী যেভাবে নির্যাতন করেছে সে দৃশ্য ভেসে ওঠছে। আমাদের জন্য কঠিন এত মানুষ রাখা, আশ্রয় দেওয়া। তারা মানুষ, তাদের ফেলে দিতে পারি না। আমারওতো রিফিউজি ছিলাম। রিফিউজি থাকার যন্ত্রণা কী তা আমরা বুঝি।’

রোহিঙ্গাদের দুর্দশার কথা বলতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নারী শিশু, নৌকা ডুবি হয়ে লাশ ভাসছে। এমনিক গুলি খাওয়া লাশ নদীতে সাগরে ভেসে আসছে। সেখানে আগুন দিয়ে ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। একটা জাতির প্রতি এ আচরণ কেন, তা বোধগম্য নয়।

রোহিঙ্গা শরণার্থীদের মানবিক কারণে আশ্রয় দেয়ার কথা উল্লেখ করে প্রধামন্ত্রী বলেন, কিন্তু মিয়ানমারকে স্পস্ট করে মানতে হবে, এরা তাদের নাগরিক। বাঙালিতো শুধু বাংলাদেশে নেই, পশ্চিমবঙ্গেও আছে।

তিনি বলেন, কারো সঙ্গে সম্পর্ক বৈরী হোক চাই না। শত শত বছর ধরে রোহিঙ্গারা মিয়ানমারে বাস করছে। হঠাৎ তাদের বিতাড়িত করার ফলাফল কী দাড়াতে পারে, তারা কি সেটা চিন্তা করছে? প্রধানমন্ত্রী মিয়ানমার সেনাবাহিনীর ওপর আক্রমণেরও সমালোচনা করেন। তিনি এসব বন্ধ করারও আহ্বান জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সমস্ত বিশ্বে যেন মুসলমানদের ওপর আক্রমণ করার মানসিকতা দেখতে পাচ্ছি। সমস্ত মুসলিম উম্মাহ যদি অনুভব করতে পারত, ঐক্যবদ্ধ থাকত, কেউ মুসলমানদের ওপর আক্রমণ করতে পারত না।

রোহিঙ্গা বিষয়ক প্রস্তাবের ওপর আলোচনাকালে সংসদ সদস্যরা মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সু চির সমালোচনা করেন। এ প্রধান শেখ হাসিনা বলেন, ‘এখানে অনেকেই অং সান সু চির ব্যাপারে তুলেছেন কথা। কিন্তু এখানে একটা কথা বলি। আপনারা জানেন যে ওখানে দীর্ঘদিন ধরে মিলিটারি ডিকটেটরশিপই চলছে। কেবল গণতন্ত্রের যাত্রা শুরু। কিন্তু সেখানেও আইন করে অং সান সু চিকে কিন্তু ওই মিয়ারমারের রাষ্ট্রপতি হতে দেয়নি বা সরকারপ্রধান হতে দেয়নি। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে তাঁকে দেওয়া হয়েছে। কাজেই তাঁর ক্ষমতাই বা কতটুকু আছে?

রোহিঙ্গা সংকটের বিষয়ে এ মাসে অনুষ্ঠেয় জাতিসংঘের অধিবেশনের ভাষণে প্রস্তাব উত্থাপন করবেন বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। সেইসঙ্গে জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব কফি আনান কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নের দাবিও জানান তিনি।#

পার্সটুডে/এআর/১১

 

২০১৭-০৯-১২ ০০:০২ বাংলাদেশ সময়
মন্তব্য