মিয়ানমার সেনাবাহিনী ও উগ্র বৌদ্ধদের জুলুম-নির্যাতনের কারণে রোহিঙ্গা মুসলমানদের আবাসভূমি রাখাইন এখন বিভীষিকায় পরিপূর্ণ। মুসলমান অধ্যুষিত রাজ্যটিকে নরক বানিয়ে ফেলেছে বার্মিজ সেনাবাহিনী ও তাদের দোসর বৌদ্ধ উগ্রবাদীরা। তারা রোহিঙ্গা মুসলমানদের গুলি করে, কুপিয়ে, পুড়িয়ে কিংবা পানিতে ডুবিয়ে মারছে। ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দিচ্ছে। নারীদের ধর্ষণ করছে। তাদের কাপুরুষোচিত হামলায় ইতোমধ্যে ৩০০০ থেকে ৬০০০ রোহিঙ্গা নিহত হয়েছে।

সামগ্রিকভাবেই অন্ধকারে ছেয়ে গেছে মিয়ানমার, সেখানে জীবনবোধ আর খুঁজে পাওয়া যায় না। জীবনহরণের জিঘাংসায় জর্জরিত অং সান সু চির সরকার। তাদের দমন-পীড়ন ও ধর্ষণ থেকে বাঁচতে হাজার হাজার রোহিঙ্গা মিয়ানমার ছেড়ে বাংলাদেশে চলে আসছে। নাফ নদী পাড়ি দিতে গিয়ে ইতোমধ্যে নৌকাডুবি শতাধিক রোহিঙ্গা প্রাণ হারিয়েছে। রোহিঙ্গাদের রক্তে নাফ নদী টালমাটাল হলেও মানবতার দুশমন সুচি সরকারের বিরুদ্ধে তেমন কোনো কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না। 

কিন্তু বিশ্বের শান্তিকামী মানুষজন কোনো গণহত্যা দেখতে চান না। রক্তস্রোত নয়, তারা নাফ নদীতে শান্তির সফেদ জলধারা দেখতে চান। এ বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশের শিল্পী আমিরুল মোমেনীন মানিক একটি গান লিখেছেন। 'আহারে রোহিঙ্গা' শিরোনামের গানটি সম্পর্কে শিল্পী মানিক রেডিও তেহরানকে বলেছেন,

'মিয়ানমারে রোহিঙ্গা নির্যাতন হলেও সারা বিশ্বের অধিকাংশ দেশ নিশ্চুপ। মানবতার চরম বিপর্যয়ে তারা কোন প্রতিবাদ করছে না। সেই উপলব্ধি থেকেই বাংলাদেশের একজন শিল্পী হিসেবে গানটি করা। রোহিঙ্গাদের বড় পরিচয় তারা মানুষ। মুসলমান বলে যারা এটাকে এড়িয়ে যাচ্ছেন তারা ঘৃণিত কাজ করছেন। এই গান দিয়ে বিবেকবোধ, জাগ্রত করাই মূখ্য উদ্দেশ্য।'

গানটির সঙ্গীত আয়োজনে ছিলেন এস কে সমীর। ভায়োলিন বাজিয়েছেন সেলিম আহমেদ। ক্যামেরায় ছিলেন আবু সাঈদ খান। মিউজিক ভিডিওটি সম্পাদনা করেছেন সাফায়াত সাকিব।

আরাকানে রোহিঙ্গাদের গণহত্যার প্রতিবাদে এর আগেও মানিক একটি গান করেছেন শিল্পী এস আই টুটুলের সঙ্গে। 'আরাকান জ্বলে' শিরোনামের গানটির কথা লিখেছেন বিলাল হোসাইন নূরী। সুর করেছেন মাহফুজ বিল্লাহ শাহী। সঙ্গীত আয়োজনে ছিলেন এস কে সমীর।#

পার্সটুডে/আশরাফুর রহমান/১৩ 


 
 

২০১৭-০৯-১৩ ১৬:৪৮ বাংলাদেশ সময়
মন্তব্য