• বাংলাদেশে চালের দাম সহনীয় পর্যায়ে রাখতে জেলা প্রশাসকদের চিঠি

বাংলাদেশের মানুয়ের প্রধান খাদ্য চালের দাম নিয়ন্ত্রনের বাইরে চলে যাচ্ছে। দুই দফা বন্যায় ফসলহানি এবং সরকারি গুদামে পর্যাপ্ত মজুদ না থাকার খবরে প্রতিদিনই দাম বাড়ছে। বিদেশ থেকে চাল আমদানী করেও বাজার মূল্য নিয়ন্ত্রন করতে পারছে না সরকার। ব্যবসায়ীরা বলছেন, দাম আরও বাড়বে।

বাজারে সরু চালের দাম কেজিপ্রতি ৬০ টাকার ওপরে উঠেছে, যা বছরের এ সময়ে সাধারণত ৫০ টাকার নিচে থাকে। অন্যদিকে মাঝারি মানের চালের মধ্যে বিআর-২৮ প্রতি কেজি ৫২ থেকে ৫৪ টাকা এবং মোটা চাল মানভেদে ৪৬ থেকে ৪৮ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

গত বছরের এ সময়ের সঙ্গে তুলনা করলে দেখা যায়, মাঝারি চালের দাম এবার কেজি প্রতি  ১০ টাকা ও মোটা চালের দাম কেজিতে ১৩ টাকা বাড়তি।

খাদ্য অধিদপ্তরের গুদামে যেখানে ন্যূনতম ছয় লাখ টন চাল থাকার কথা, সেখানে আছে মাত্র সোয়া তিন লাখ টন। দেশের চালকলমালিক ও কয়েকটি দেশের সঙ্গে একের পর এক চুক্তি করেও খাদ্য মন্ত্রণালয় চালের মজুত বাড়াতে পারেনি।

খাদ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, গত ২৬ আগস্ট পর্যন্ত প্রায় দুই মাসে ৩ লাখ ৬৩ হাজার টন চাল আমদানি হয়েছে। চালের সংকট মোকাবিলায় ঈদের আগে সরকার দুই দফায় আমদানির শুল্ক কমিয়ে ২৮ থেকে ২ শতাংশে নিয়ে এসেছে। এ ছাড়া বেসরকারি পর্যায়ে চাল আমদানির জন্য বাকিতে ঋণপত্র খোলার সুযোগ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর প্রভাব চালের বাজারে পড়ার কথা। কিন্তু ইতিবাচক কোনো প্রভাব দেশের চালের বাজারে দেখা যাচ্ছে না।

এদিকে , চালের দাম সহনীয় পর্যায়ে রাখতে গতকাল জেলা প্রশাসকদের চিঠি দিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। তাছাড়া, চাল সংকটের কারনে সামাজিক নিরাপত্তার নামে ১০ টাকায় চাল দেবার কর্মসূচীও স্থগিত রাখা হয়েছে।

বাংলাদেশের  চাল  বাজারের এ অস্থিরতার সুযোগ ভারত এক সপ্তাহেরও কম সময়ের ব্যবধানে চালের রফতানি মূল্য বাড়িয়েছেন টনপ্রতি ৬০-৭০ ডলার। ঋণপত্রে (এলসি) নির্ধারিত মূল্যে চাল না পাওয়ায় ব্যাংক থেকে তা সংশোধন করতে হচ্ছে বাংলাদেশি আমদানিকারকদের।

ভারত থেকে সবচেয়ে বেশি চাল আমদানি হয় দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর দিয়ে। এ বন্দরের আমদানিকারকরা জানান, দুদিন আগেও ভারত থেকে তারা চাল আমদানি করেছিলেন প্রতি টন ৪৮০-৫০০ ডলারে। এখন সেখানে দাম চাওয়া হচ্ছে ৫৬০-৫৭০ ডলার। কয়েক মাস ধরেই ভারতীয় ব্যবসায়ীরা চালের দাম বাড়ালেও গত কয়েক দিনে বাড়িয়েছেন অস্বাভাবিক বেশি।

রফতানি মূল্য বেড়ে যাওয়ায় স্থানীয় বাজারেও চালের দাম আরেক দফা বেড়েছে। হিলি স্থলবন্দরে গতকাল ভারত থেকে আমদানি করা স্বর্ণা ও রত্না চাল পাইকারিতে (ট্রাক সেল) বিক্রি হয় ৪৫-৪৬ টাকা কেজিদরে। দুদিন আগেও এসব চালের দাম ছিল প্রতি কেজি ৪১-৪২ টাকা। একই চাল ঈদের আগে বিক্রি হয়েছিল ৩৮-৪০ টাকা কেজিদরে।

ওদিকে ভোমরা স্থলবন্দরের চাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান মেসার্স আরডি এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী পঙ্কজ কুমার দত্ত বলেছেন, টনপ্রতি ৭০-৭৫ ডলার বাড়তি মূল্যেও চাল দিতে চাইছেন না ভারতীয় ব্যবসায়ীরা। এতে বিপাকে পড়েছেন বাংলাদেশী আমদানিকারকরা।

এ অবস্থায় আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশে চাল রফতানি না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারত। এ বিষয়ে ভারতীয় কাস্টমস একটি চিঠি দিয়েছে বাংলাদেশকে।

ভারতের এ সিদ্ধান্তের বিষয়ে জানতে চাইলে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ আজ সাংবাদিকদের বলেছেন, তিনি এ বিষয়ে কিছুই জানেন না। তিনি আরও বলেছেন, ‘চাল মজুতের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে সরকারি অভিযান শুরু হয়েছে। যাদের গোডাউনে চাল মজুতের প্রমাণ পাওয়া যাবে তাদের গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠানো হবে।#

পার্সটুডে/বাবুল আখতার/১৩

 

 

২০১৭-০৯-১৩ ১৮:৩০ বাংলাদেশ সময়
মন্তব্য