• ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায়ের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নিতে সংসদে প্রস্তাব পাস

বাংলাদেশ সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিল ও আপিল বিভাগের পর্যবেক্ষণের কিছু বিষয়ের বিরুদ্ধে ‘আইনি পদক্ষেপ’ নেয়ার একটি প্রস্তাব জাতীয় সংসদে সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়েছে।

গতকাল (বুধবার) রাতে এ সংক্রান্ত একটি প্রস্তাবের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১৮ জন সংসদ সদস্যের দীর্ঘ আলোচনার পর প্রস্তাবটি সর্বসম্মতিক্রমে পাস হয়। এ সময় তারা সংসদ, বিচারবিভাগ ও স্বাধীনতাযুদ্ধে একক নেতৃত্বসহ কিছু বিষয়ে পর্যবেক্ষণে ‘আপত্তিকর’ মন্তব্য করায় প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার কড়া সমালোচনা করেন।

কণ্ঠভোটে প্রস্তাবটি পাস হওয়ার আগে আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “সংবিধান সংশোধনের কোনো এখতিয়ার আদালতের নাই। আইনের ব্যত্যয় হলে তারা শুধু আইনের ব্যাখ্যা দিতে পারেন। এই রায়ে ‘অনেক কন্ট্রাডিকশন’ রয়েছে। কোথা থেকে, কীভাবে, কারা (এই রায়) তৈরি করে দিয়েছে; এটা একটা প্রশ্ন।”

সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের আওতায় প্রধান বিচারপতি ও তার অধীনস্ত দুজন বিচারপতিকে নিয়ে কোনো বিচারপতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে পক্ষপাতের সুযোগ থাকার বিষয়টি উল্লেখ করেন সরকার প্রধান।

শেখ হাসিনা বলেন, “তিনি (প্রধান বিচারপতি) বিভিন্ন কথা বলতে গিয়ে নিজেকে এবং সংসদ ও গণতন্ত্রকে শ্রশ্নবিদ্ধ করেছেন। তার উদ্দেশ্যটা কী; আমার প্রশ্ন।” এই রায়ের প্রসঙ্গ ধরে গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতা সমুন্নত রাখার কথা বলেন শেখ হাসিনা।

রায়ে যে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল ফিরিয়ে আনা হয়েছে, তাকে ‘তাইরে-নাইরে খেলা’ বলে মন্তব্য করেন আনিসুল হক। তিনি বলেন, “যে যুক্তিতে ষোড়শ সংশোধনী বাতিল করেছে; তা গ্রহণযোগ্য নয়। আমি খুবই দৃঢ়তার সাথে বলছি, দিস জাজমেন্ট উইল নট গো উইদাউট লিগ্যাল চ্যালেঞ্জ।

প্রধান বিচারপতির সমালোচনা করে আইনমন্ত্রী বলেন, “এই পদে যিনি বসবেন, তাকে আইনি ভাষায় কথা বলার যোগ্যতা অর্জন করতে হবে। কাউকে হেয় প্রতিপন্ন করা ঠিক নয়। প্রধান বিচারপতির দুটোরই অভাব দেখা গেছে।”

রায় ও পর্যবেক্ষণের সমালোচনা করে সংসদ সদস্যরা বলেন, এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশকে পাকিস্তান বানানোর পাঁয়তারা চলছে। ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের চেষ্টা চলছে। একইসঙ্গে তারা ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রিটে অ্যামিকাস কিউরি হিসেবে দায়িত্ব পালনকারীদেরও (একজন ছাড়া) তীব্র সমালোচনা করেন। এই রায় ও পর্যবেক্ষণকে অশুভ শক্তিকে ক্ষমতায় আনার পাঁয়তারা বলেও অভিযোগ তোলেন আলোচক সংসদ সদস্যরা। তারা এসকে সিনহার বিরুদ্ধে অসাদাচরণের অভিযোগ উত্থাপন করে বলেন, তার বিরুদ্ধে (এসকে সিনহা) অনিয়ম, দুর্নীতি, যুদ্ধাপরাধীদের পরিবারের সঙ্গে সখ্যতার অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগ খতিয়ে দেখে এসকে সিনহার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ারও দাবি জানান তারা।

সংসদের কার্যপ্রণালি বিধির ১৪৭ ধারায় এ বিষয়ে আলোচনার প্রস্তাব উত্থাপন করেন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) একাংশের কার্যকরী সভাপতি মইন উদ্দীন খান বাদল। প্রস্তাবটির ওপর সরকারি, বিরোধী দল ও স্বতন্ত্র সদস্যদের অনেকে আলোচনায় অংশ নেন। পরে এটি সর্বসম্মতভাবে গৃহীত হয়।

গত ১ আগস্ট ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়, যা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে তুমুল আলোচনা চলে। রায়ে ষোড়শ সংশোধনীকে সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ঘোষণা করা হয় এবং সামরিক শাসনামলে চালু করা সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের ব্যবস্থা পুনঃস্থাপিত করার কথা বলা হয়। সাত বিচারপতির ঐকমত্যের ভিত্তিতে দেয়া ৭৯৯ পৃষ্ঠার এই রায়ে প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা নিজের পর্যবেক্ষণের অংশে দেশের রাজনীতি, সামরিক শাসন, নির্বাচন কমিশন, দুর্নীতি, সুশাসন ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতাসহ বিভিন্ন বিষয়ে সমালোচনা করেন।#

পার্সটুডে/আশরাফুর রহমান/১৪

 

২০১৭-০৯-১৪ ০২:৩৪ বাংলাদেশ সময়
মন্তব্য