• বক্তব্য রাখছেন ঢাকাস্থ ইরানি রাষ্ট্রদূত আব্বাস ভায়েজী দেহনবী
    বক্তব্য রাখছেন ঢাকাস্থ ইরানি রাষ্ট্রদূত আব্বাস ভায়েজী দেহনবী

ঢাকায় নিযুক্ত ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের রাষ্ট্রদূত আব্বাস ভায়েজী দেহনবী বলেছেন, ‘ন্যায় প্রতিষ্ঠায় কবিতা একটি শক্তিশালী মাধ্যম আর আদর্শ বিকাশে শিল্প সাহিত্য সংস্কৃতির গুরুত্ব অপরিসীম।’

মহান আশুরা উপলক্ষে ‘আশুরার বার্তা বহনে কবিদের ভূমিকা’ শীর্ষক এক আলোচনা সভা ও কবিতা পাঠের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। জাতীয় কবিতা মঞ্চ ও ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের যৌথ উদ্যোগে ঢাকাস্থ আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রবীণ সাংবাদিক ও কবি এরশাদ মজুমদার।

ইরানের রাষ্ট্রদূত জনাব দেহনবী আরো বলেন, ‘মানুষ তাঁর চিন্তা-চেতনা, আদর্শ, দর্শন ও অভিব্যক্তিকে বিভিন্ন মাধ্যমে প্রকাশ করে থাকে। সেটি যখন শিল্পীত শব্দমালায় প্রকাশ করা হয় তখন তা হয় কবিতা। যখন বিস্তৃত ও বিশদ বাক্যমালায় প্রকাশ করে তখন হয় প্রবন্ধ বা গবেষণা। আঁকিবুকির মাধ্যমে প্রকাশ করলে হয় চিত্রকলা, যখন মুখে উচ্চারণের মাধ্যমে প্রকাশ করে তখন সেটি হয় বক্তব্য, যখন চরিত্র চিত্রণের মাধ্যমে গল্প বা কাহিনী তৈরি করে তখন হয় কথাশিল্প আর তাকে সংলাপে রূপ দিলে হয় নাটক। কণ্ঠ ও অঙ্গভঙ্গির মাধ্যমে মঞ্চস্থ করলে হয় থিয়েটার আর মুভির সহায়তায় নির্মিত হয় চলচ্চিত্র।

তিনি বলেন, ‘কবিরাই পারে মহান ঘটনাকে ও এর তাৎপর্যকে শিল্পীত শব্দমালা ও যথার্থ বাক্যাবলীর মাধ্যমে হৃদয়ে গৃহিত ও অনুপ্রবিষ্ট করতে। আশুরায় ইমাম হুসাইন (আ.)-এর আত্মত্যাগের ঘটনাকে ন্যায় প্রতিষ্ঠার উজ্জ্বল পথরেখা সৃষ্টির উদাহরণ হিসেবে কবিরা তাদের কাব্যভাষার ভেতর দিয়ে ফুটিয়ে তুলতে পারেন।’

বক্তব্য রাখছেন ঢাকাস্থ ইরানি রাষ্ট্রদূত

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ইরানের সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের কালচারাল কাউন্সিলর মুসা হুসাইনী বলেন, ‘প্রখ্যাত উর্দূ কবি মুহাম্মদ আলী জওহর বলেছেন ‘কাতলে হুসাইন আসল যে মরগে ইয়াজিদ হায়/ইসলাম জিন্দা হোতা হায় হার কারবালা কে বাদ’’ অর্থাৎ ‘হুসাইনের শাহাদাত আসলে ছিল ইয়াজিদের মৃত্যু।’

তিনি প্রখ্যাত কবি ও দরবেশ খাজা মাইনুদ্দিন চিশতি, কবি ইকবাল লাহোরী, নজরুলের কবিতা থেকে উদাহরণ পেশ করে বলেন, 'জালিম ইয়াজিদের নৈতিক পরাজয় ঘটেছে এবং সে গণধীকৃত, নিন্দিত, লানতপ্রাপ্ত হয়েছে। পক্ষান্তরে ইমাম হুসাইন যুগ যুগান্তর ধরে মানুষের হৃদয়ে নৈতিকতার আলো জ্বেলে দিয়েছে।'

বিশেষ অতিথি ব্রিগেডিয়ার (অবসরপ্রাপ্ত) নাসিমূল গণি বলেন, ‘‘কারবালার মহান ঘটনা নিয়ে আমরা একসময় পুঁথি পাঠ শুনতাম, রেডিও টিভিতে অনুষ্ঠান হতো। এখন আর তা শোনা যায় না। হয় না কোন ওয়াজের মঞ্চ। এটা আমাদের দৈন্য দশা। একটা আত্মত্যগের মহান দর্শনকে আমরা ভুলে যেতে বসেছি কারণ আমরা আত্মবিমূখ হয়ে পড়ছি। এ অবস্থা থেকে আমাদেরকে বেড়িয়ে আসতে হবে।”

সভাপতির ভাষণে এরশাদ মজুমদার কারবালার আত্মত্যাগকে ‘ইতিহাসের এক করুণ ঘটনা’ হিসেবে উল্লেখ করেন এবং অনুষ্ঠানে আগত কবি সাহিত্যিক ও মেহমানবৃন্দকে ধন্যবাদ জানান।

জাতীয় কবিতা মঞ্চের প্রতিষ্ঠাতা ও কেন্দ্রীয় সভাপতি কবি মাহমুদুল হাসান নিজামীর সঞ্চালনায় উক্ত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আরও উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ কবি ড. ঈশা শাহেদী, ছড়াকার কবি আবু সালেহ, কবি আবদুল মুকিত চৌধুরী, উদীচি শিল্পীগোষ্ঠীর প্রতিষ্ঠাতা সদস্য আবৃত্তিকার বদরুল হাসান খান, কবি রেজাউদ্দীন স্টালিন, অধ্যাপক ডা. হাসিনা বানু, প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক কাশেম বিন আবু বাকার, ইরানি কবি জয়নব ভায়েজী দেহনবী, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক কথাশিল্পী ও কবি ড. নাজিব ওয়াদুদ, নুতন এক মাত্রা সম্পাদক ড. ফজলুল হক তুহিন প্রমূখ।

উক্ত অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে কবিরা অংশ নেন। আশুরা ও মুহররমের চেতনা নিয়ে শোহাদায়ে কারবালা স্মরণে উক্ত অনুষ্ঠানটি ছিল এ সময়ের একটি যুগান্তকারী ঘটনা। #

পার্সটুডে/আশরাফুর রহমান/৮

২০১৭-১০-০৮ ১২:০০ বাংলাদেশ সময়
মন্তব্য