• ছাত্রীদের ওপর হামলা: রাজশাহী আইএইচটি শাখা ছাত্রলীগের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা

ছাত্রীদের ওপর হামলার পরিপ্রেক্ষিতে রাজশাহী ইনস্টিটিউট অব হেলথ টেকনোলজি (আইএইচটি) শাখা ছাত্রলীগের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে। বুধবার রাতে রাজশাহী মহানগর ছাত্রলীগের সভাপতি রকি কুমার ঘোষ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছেন।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, মহানগর ছাত্রলীগের অন্তর্ভুক্ত ইউনিট আইএইচটি শাখা ছাত্রলীগের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হল। সংগঠনের নিয়ম-শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও বুধবার আইএইচটিতে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটানোর কারণে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, আইএইচটি শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি জাহিদুল ইসলাম জাহিদ, সহ-সভাপতি মিজান আলী, ফয়সাল হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন তুহিনকে বহিষ্কারের জন্য ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির কাছে সুপারিশ পাঠানো হয়েছে।

উল্লেখ্য, বুধবার সকালে আইএইচটি শাখা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ক্যাম্পাসে ছাত্রীদের ওপর হামলা চালায়। ছাত্রী হোস্টেলে প্রবেশ ও অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজসহ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তুলে এসব বন্ধের দাবিতে ছাত্রীরা অধ্যক্ষর কাছে স্মারকলিপি দিয়ে বের হলে তাদের ওপর এ হামলার ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় অন্তত পাঁচ ছাত্রী আহত হয়েছেন। হামলায় আহত ছাত্রীরা হলেন ফার্মেসি বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের রূপা খাতুন, একই বর্ষের নাজনিন আক্তার, তৃতীয় বর্ষের মিম আক্তার এবং ল্যাব বিভাগের প্রথম বর্ষের মোহনা খাতুন ও আফরিন শারমিন। ছাত্রলীগ ও বহিরাগতসহ অর্ধশতাধিক তরুণ এ হামলা চালায় বলে ছাত্রীদের অভিযোগ। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে।

ঘটনার পর অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলের জরুরি সভায় অনির্দিষ্টকালের জন্য প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ ঘোষণার সিদ্ধান্ত হয়। পরে তা শিক্ষার্থীদের জানিয়েও দেওয়া হয়। দুপুর ১টার মধ্যে আবাসিক ছাত্র এবং বেলা ৩টার মধ্যে ছাত্রীরা হোস্টেল ত্যাগ করেছেন।

আইএইচটির ছাত্রীরা জানান, ৩ ডিসেম্বর তাদের ক্যাম্পাসে মেডিক্যাল টেকনোলজিস্টদের একটি কেন্দ্রীয় কর্মসূচি ছিল। ওই কর্মসূচিতে কয়েকজন ছাত্রী না যেতে পারায় এ নিয়ে ছাত্রলীগের নেতারা ছাত্রীনিবাসে ঢুকে ছাত্রীদের অকথ্য ভাষায় গালাগালি করেন। একপর্যায়ে ভেতরের কলাপসিবল গেট পর্যন্ত চলে যান তারা। এ ঘটনার প্রতিবাদে বুধবার সকাল সাড়ে নয়টার দিকে সব আইএইচটির অধ্যক্ষের কাছে অভিযোগ দিতে যান ছাত্রীনিবাসের শিক্ষার্থীরা। ছাত্রীদের কথা শোনার পর অধ্যক্ষ তদন্ত করে এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দেন। এ সময় বাইরে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা মিছিল বের করলে ছাত্রীরা ছাত্রীনিবাসে ঢুকতে ভয় পান। তখন ছাত্রীদের নিয়ে ছাত্রীনিবাসে পৌঁছে দিতে যান অধ্যক্ষ নিজে। তাদের নিরাপত্তার জন্য অধ্যক্ষ নিজেই ছাত্রীদের ছাত্রীনিবাসে ঢুকিয়ে দিচ্ছিলেন। এ সময় পেছনে পড়া কয়েকজন ছাত্রীর ওপরে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা হামলা চালায়।#

পার্সটুডে/আশরাফুর রহমান/৭

 

২০১৭-১২-০৭ ০১:৫৮ বাংলাদেশ সময়
মন্তব্য