বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের মেয়াদ ফুরিয়ে আসলেও এ বছরের শেষ দিকে অনুষ্ঠেয় জাতীয় নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তা এখনো কাটে নি।

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া গতকালও বলেছেন, বিএনপি নির্বাচনে যাবেই। চাইলেও বিরত রাখা যাবে না। তবে সে নির্বাচন হতে হবে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে। আমরা শেখ হাসিনা ও বর্তমান পার্লামেন্টের অধীনে নির্বাচনে যাব না।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে আয়োজিত  ছাত্র সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বেগম জিয়া আরো বলেছেন, এই সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত নয় বলেই তাদের অধীনে নির্বাচন হবে না। বিএনপি বড় রাজনৈতিক দল। তাকে বাদ দিয়ে কোনো নির্বাচন হবে না।

ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বেগম খালেদা জিয়া

তবে, সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মোহাম্মদ নাসিম বলেছেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে বিএনপির সাথে কোনো সংলাপ হবে না। নির্বাচন যথাসময়ে অনুষ্ঠিত হবে। এ নিয়ে সংলাপের কিছু নেই।

মঙ্গলবার রাজধানীতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মোহাম্মদ নাসিম বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের উদ্দেশে বলেন, এতো সংলাপ সংলাপ করেন কেন। এখানে সংলাপের কি হলো। সংলাপের কথা ভুলে যান। নির্বাচন হবে নির্বাচন কমিশনের অধীনে। সরকার সেখানে সহায়তা করবে মাত্র। তাই সংলাপ ভুলে নির্বাচনে অংশগ্রহণের প্রস্তুতি নিন।

মোহাম্মদ নাসিম

এ প্রসঙ্গে নির্বাচন পর্যবেক্ষকদের মোর্চা ইলেকশন ওয়াকিং গ্রুপ-এর পরিচালক মো. আবদুল আলিম রেডিও তেহরানকে বলেন, যে সকল রাজনৈতিক দল নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় যেতে চাইবে তারা অবশ্যই নির্বাচনে আসবে। বিএনপি ও আওয়ামী লীগ তাদের আগের বারের ভুল করবে না। অবশ্যই সকলের অংশগ্রহণে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজন করতে হবে।

শাহরিয়ার আলম

ওদিকে, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম বলেছেন, আগামী নির্বাচন নিয়ে বিদেশি কোনো রাষ্ট্র আমাদের সরকারের ওপর চাপ প্রয়োগ করবে না। মঙ্গলবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘তারা (কূটনীতিকরা) এসব ইস্যুতে সময় নষ্ট করবেন না। বিগত বছরগুলোতে তাদের সঙ্গে আমরা সার্বক্ষণিক সম্পৃক্ততা বজায় রেখেছি। অতীতের মতো বিদেশি চাপ সংক্রান্ত কোনো ঘটনার পুনরাবৃত্তি হবে না বলেও আশা করছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

নির্বাচন নিয়ে কোনো শঙ্কা নেই উল্লেখ করে শাহরিয়ার জানান, নির্বাচন ও নির্বাচন প্রক্রিয়া সহজতর, আধুনিক ও যুগোপযোগী করার জন্য অতীতের মতো আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সহযোগিতা আগামী দিনেও অব্যাহত থাকবে। #

পার্সটুডে/আবদুর রহমান খান/আশরাফুর রহমান/৩

২০১৮-০১-০৩ ১৯:৪৬ বাংলাদেশ সময়
মন্তব্য