আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, "এক-এগারো থেকে আওয়ামী লীগ শিক্ষা নিয়েছে। বিএনপির কারণে এ ঘটনার পুনরাবৃত্তির আশঙ্কা থাকলেও এটা আর ঘটবে না।"

আজ (বৃহস্পতিবার) দুপুরে ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলের সম্পাদকমণ্ডলীর সভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, "ভয়-আশঙ্কা আছে এই কারণে যে ওয়ান-ইলেভেন থেকে আমরা শিক্ষা নিয়েছি। কিন্তু বিএনপি নেয়নি। বিএনপি তার বর্তমান অবস্থা জেনে গেছে। নির্বাচনের আগেই সারা দেশে আওয়ামী লীগের জোয়ার দেখে বিএনপি বুঝে গেছে যে আগামী নির্বাচনে তাদের পরিণতি কী।"

তিনি বলেন, "বিএনপি ভোট পাওয়ার মতো কোনো কাজ করেনি। সে কারণে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করার চেষ্টা করছে। আওয়ামী লীগ বিএনপির সেই দুরভিসন্ধি বাস্তবায়ন করতে দেবে না, বাংলাদেশে আর এক-এগারোর পুনরাবৃত্তি ঘটানো যাবে না।"

উল্লেখ্য, বাংলাদেশে ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি জরুরি অবস্থা জারির মধ্য দিয়ে সেনাবাহিনীর সমর্থনে ক্ষমতায় আসে জেনারেল মঈন উদ্দিন আহমেদ ও ফখরুদ্দিন আহমেদের নেতৃত্বে তত্ত্বাবধায়ক সরকার।

তাদের নানা কর্মকাণ্ড - বিশেষ করে রাজনৈতিক সংস্কারের উদ্যোগ ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দিয়েছিল। বিশেষ করে আওয়ামী লীগ প্রধান শেখ হাসিনা এবং বিএনপি প্রধান খালেদা জিয়াকে রাজনীতি থেকে দুরে রাখার কিছু তৎপরতা চালাতে গিয়ে তারা  ব্যর্থ হয়।

বিএনপি’র ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু

আওয়ামী লীগ বরাবরই সামরিক বাহিনীর পক্ষে: দুদু

এ প্রসঙ্গে বিএনপি’র ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু রেডিও তেহরানকে বলেন, আওয়ামী লীগ বরাবরই সামরিক বাহিনীর পক্ষে থেকেছে। এক-এগারোর পরিবর্তনকে নিজেদের অন্দোলনের ফসল বলে প্রথমে স্বাগত জানিয়েছিল আওয়ামী লীগ। এরশাদের সামরিক শাসনকে স্বাগত জানিয়েছে তারা। এমনকি '৭৫ সালের সেই বিয়োগাত্মক ঘটনার নেতৃত্ব দিয়েছেন আওয়ামী লীগেরই দ্বিতীয় প্রধান নেতা  খন্দকার মোস্তাক আহমেদ।

শামসুজ্জামান দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, আওয়ামী লীগ '৭৫ সাল সামরিক বাহিনী ডেকে আনলেও প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান গণতন্ত্র পূনরায় চালু করেন। বিএনপি অতীতের মতো অগামী দিনেও গণতন্ত্রের পক্ষেই খাকবে।

আওয়ামী লীগ ক্রমে ব্যবসায়ীদের দিকে ঝুঁকছে, এ বিষয়ে দল কী ভাবছে—সাংবাদিকের এমন প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের আজ বলেছেন, ‘দলের প্রার্থী, দলীয় নেতা আর নির্বাচন এটার মধ্যে পার্থক্য আছে। এটা রাজনৈতিক কৌশল। স্ট্র্যাটেজিক অ্যালায়েন্স। নির্বাচনে স্ট্র্যাটেজিক অ্যালায়েন্স হয়।’

তিনি পাল্টা প্রশ্ন করেন, ‘একজন রাজনীতিবিদ কি ব্যবসা করতে পারেন না? তাঁরা চাঁদাবাজি করে খাবেন?’#

পার্সটুডে/আবদুর রহমান খান/আশরাফুর রহমান/১১

 

ট্যাগ

২০১৮-০১-১১ ১৯:৫৮ বাংলাদেশ সময়
মন্তব্য