বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি’র চেয়ারপারসন বেগম জিয়াকে একটি দুর্নীতির মামলায় পাঁচ বছর দণ্ড দিয়ে আজ বিকেলে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

এ রায়কে একটি 'অনৈতিক সরকারের' 'স্বৈরাচারী ইচ্ছা বাস্তবায়ন' বলে আখ্যায়িত করে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, তিনবারের প্রধানমন্ত্রী ও গত নয় বছর ধরে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনের অবিচ্ছিন্ন নেতা বেগম খালেদা জিয়াকে ভুয়া নথি তৈরি করে সাজা দেয়া হয়েছে।

রায়ের প্রতিবাদে শুক্রবার জুমার নামাজের পরে সারাদেশে একযোগে বিক্ষোভ ও শনিবার সারাদেশে প্রতিবাদ কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছেন ফখরুল ইসলাম।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম

'বেগম জিয়া এ রায়কে প্রত্যাখ্যান করেছেন' 

আদালতে বিএনপি নেত্রী বেগম জিয়ার প্রতিক্রিয়ার কথা জানিয়ে তাঁর অন্যতম আইনজীবী অ্যাডভোকেট মাসুদ আহমেদ তালুকদার রেডিও তেহরানকে জানান, বেগম জিয়া এ রায়কে প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং এটিকে মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলক বলে অভিহিত করেছেন। একইসঙ্গে তিনি দলের নেতা-কর্মীদের ধৈর্য ধারণ করা ও ঐক্য বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। 

মাহফুজ ঊল্লাহ

'প্রতিহিংসার রাজনীতি ফুটে উঠেছে' 

এ মামলার রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া প্রসঙ্গে বিশিষ্ট সংবাদ বিশ্লেষক মাহফুজ ঊল্লাহ রেডিও তেহরানকে বলেন, এ রায়ের মাধ্যমে ফলে প্রতিহিংসার রাজনীতি ফুটে উঠেছে। আগামী জাতীয় নির্বাচনে এর প্রতিক্রিয়া নিঃসন্দেহেই আওয়ামী লীগের পক্ষে যাবে না। 

'প্রমাণ হলো, দেশে আইনের শাসন আছে'

এদিকে, সরকারের আইনমন্ত্রী আনিসুল হক তার প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন, রায়ের মাধ্যমে এটিই প্রমাণ হলো, দেশে আইনের শাসন আছে, কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়। এখন এটাই প্রতিষ্ঠিত হয়েছে যে, অপরাধ করলে তার বিচার হয় এবং সুষ্ঠু বিচার হওয়ার পরে তার শাস্তি হয়।

আনিসুল হক

আদালতে দণ্ডিত হবার কারণে খালেদা জিয়া নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন কি-না, সে প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, “তা উচ্চ আদালত ও নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের উপর নির্ভর করে।"# 

পার্সটুডে/আবদুর রহমান খান/আশরাফুর রহমান/৭
 

২০১৮-০২-০৮ ২০:২১ বাংলাদেশ সময়
মন্তব্য