কারাবন্দী বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার বড় ছেলে ও দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। বৃহস্পতিবার রাতে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

তারেক রহমান এখন লন্ডনে অবস্থান করছেন। ১৯৮৪ সালে বেগম খালেদা জিয়া বিএনপির চেয়ারপার্সন হওয়ার পর কেউ দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হননি।

আজ (শুক্রবার) সকালে রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য নিশ্চিত করে রিজভী বলেন, দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ীই তারেক রহমান ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। গঠনতন্ত্রে বলা হয়েছে, চেয়ারপার্সনের অনুপস্থিতিতে সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান ও স্থায়ী কমিটির নেতৃত্বে দল পরিচালিত হবে।

ওবায়দুল কাদের

'সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান করেছে বিএনপি'

তারেক রহমানে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান করায় হতাশ আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, দুর্নীতির দায়ে সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান করেছে বিএনপি। এতে বোঝা যায়- খালেদা জিয়ার সাজার পর দেশের রাজনৈতিক সংকট বাড়েনি, বিএনপির অভ্যন্তরীণ সংকটই বরং বেড়েছে।

আজ (শুক্রবার) সকালে গাজীপুরের ভোগড়ায় বিআরটি প্রকল্পের অগ্রগতি পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন সড়ক পরিবহনমন্ত্রী।

তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিতে কাকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে? যার আগে সাত বছর দণ্ড হয়েছে। তিনি দণ্ডিত ব্যক্তি। অর্থ পাচারের অপরাধে দণ্ডিত। আর এই মামলায়ও তার ১০ বছর কারাদণ্ড ও দুই কোটি টাকার বেশি জরিমানা হয়েছে।

শামসুজ্জামান দুদু

'কাঁচের ঘরে বসে ঢিল মারার শামিল'

এদিকে, ওবায়দুল কাদের এমন বক্তব্য কাঁচের ঘরে বসে ঢিল মারার শামিল বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু। তিনি বলেন, ওবায়দুল কাদের সাহেব যা বলেছেন, তা তারা প্রত্যাশা করেন এবং প্রমাণ করতে চান। কিন্তু শেয়ারবাজার থেকে ৯৬ হাজার কোটি টাকা, সোনালী ব্যাংক থেকে সাড়ে চার হাজার কোটি টাকাসহ বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাট করা হয়েছে। রিজার্ভের অর্থ পাচার করা হয়েছে। অর্থমন্ত্রীসহ সরকারের মন্ত্রীরা এ অভিযোগ তুলেছেন। ওবায়দুল কাদের যদি আয়নায় নিজের চেহারা দেখেন, তাহলে তার এবং নেতা-নেত্রীদের অনেক আগেই পদত্যাগ করে দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরে দাঁড়াতে পারতেন। 

গতকাল (বৃহস্পতিবার) জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বেগম খালেদা জিয়ার পাঁচ বছরের কারাদণ্ড হয়। এখন পুরাতন কেন্দ্রীয় কারাগারে আছেন তিনি। এ মামলায় তারেক রহমানসহ অন্য ৫ আসামীর ১০ বছর করে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেন আদালত। এর আগে, ২০১৬ সালে মানি লন্ডারিংয়ের মামলায় তারেক রহমানকে সাত বছর কারাদণ্ড দেন হাইকোর্ট।#

পার্সটুডে/শামস মণ্ডল/আশরাফুর রহমান/৯

ট্যাগ

২০১৮-০২-০৯ ১৯:১৫ বাংলাদেশ সময়
মন্তব্য