• বৈঠকে শেখ হাসিনা ও বরিস জনসন
    বৈঠকে শেখ হাসিনা ও বরিস জনসন

ঢাকায় সফররত ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী বরিস জনসন বলেছেন, বাংলাদেশে একটি অবাধ, সুষ্ঠু এবং গণতান্ত্রিক নির্বাচন দেখতে চায় ব্রিটেন। একইসঙ্গে মুক্ত গণমাধ্যমের উপস্থিতিও আশা করে তার দেশ। এ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠকে তার বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে বলে জানান তিনি।

শুক্রবার রাতে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মা পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলীর সঙ্গে বৈঠক শেষে উপস্থিত সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হকসহ অন্যরা। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে মিয়ানমারের ভূমিকা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন।

বরিস জনসন বলেন, ‘অন্যক্ষেত্রে (মিয়ানমার) এ নিয়ে কীভাবে কাজ করা যায় তা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে ভাবতে হবে। আমরা রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও মর্যাদাকর প্রত্যাবাসন দেখতে চাই।’

বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গা শরণার্থীকে আশ্রয় দেয়ায় বাংলাদেশকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় মিলেই এই সমস্যার সমাধান করতে হবে।

এর আগে সন্ধ্যায় গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠক করেন ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী। বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম সাংবাদিকদের জানান, বৈঠকে তাঁরা পারস্পরিক স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়, বিশেষ করে রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে আলোচনা করেন।

মাহমুদ আলীর সঙ্গে বৈঠকে বরিস জনসন

প্রেস সচিব বলেন, বরিস জনসন দ্রুত রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেছেন, প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় বিলম্ব হলে রোহিঙ্গা ইস্যুতে আরও জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে। এর সঙ্গে একমত পোষণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের দ্রুত প্রত্যাবাসনের জন্য মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সুচিকেই উদ্যোগী হতে হবে। রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের পর তাঁদের দেখভালের জন্য জাতিসংঘসহ অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থাকে অনুমতি দিতে হবে।

রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশের জন্য একটি বড় ধরনের বোঝা হিসেবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, বাংলাদেশ মানবিক কারণে মিয়ানমারের দশ লাখের বেশি নাগরিককে অস্থায়ীভাবে আশ্রয় দিয়েছে। রোহিঙ্গাদের তাঁদের দেশে ফিরিয়ে নেয়া প্রয়োজন। তাঁরা এখানে মানবেতর জীবনযাপন করছে।

রোহিঙ্গা শরণার্থী, কক্সবাজার

ইহসানুল করিম আরও বলেন, রোহিঙ্গা সমস্যাকে ১৯৪৮ সালে ফিলিস্তিনে ঘটে যাওয়া অনুরূপ একটি ঘটনার সঙ্গে তুলনা করেছেন বরিস জনসন। যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র ও কমনওয়েলথ বিষয়ক মন্ত্রী বলেছেন, তখন ছয় লাখ লোক বাস্তুচ্যুত হয়েছিল। তিনি রোহিঙ্গাদের জীবন বাঁচাতে তাঁদের পাশে দাঁড়ানো এবং মর্যাদার সঙ্গে দেশে ফিরিয়ে নিতে শেখ হাসিনার অবস্থানের প্রশংসা করেন।

বৈঠকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বরিস জনসনের সঙ্গে ঢাকায় নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার অ্যালিসন ব্লেক উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপদেষ্টা গওহর রিজভী, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব মো. নজিবুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব সাজ্জাদুল হাসান।

শুক্রবার বিকেলে ঢাকায় আসেন ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী বরিস জনসন। ১০ বছরের মধ্যে এই প্রথম কোনো ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ঢাকা সফরে এলেন। আজ (শনিবার) তিনি রোহিঙ্গাদের দেখতে কক্সবাজার যাবেন। পরে তিনি মিয়ানমার ও থাইল্যান্ড সফর করবেন।#

পার্সটুডে/আশরাফুর রহমান/১০ 

 

২০১৮-০২-১০ ০২:২২ বাংলাদেশ সময়
মন্তব্য