• পোপ ফ্রান্সিসের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা
    পোপ ফ্রান্সিসের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গা শরণার্থীদের নিজ দেশে ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমারের ওপর চাপ অব্যাহত রাখার জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

গতকাল (সোমবার) ভ্যাটিকান সিটির রাষ্ট্রপ্রধান ও পোপ ফ্রান্সিস এবং সেক্রেটারি অব স্টেট কার্ডিনাল ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী পিয়েট্রো প্যারোলিনের সঙ্গে আলাদা বৈঠকে তিনি এ আহ্বান জানান। বৈঠক শেষে পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হক এবং ভ্যাটিকান সিটিতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত শামীম আহসান সাংবাদিকদের এ কথা জানান।

পোপের সঙ্গে বৈঠকের বিষয়টি তুলে ধরে পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হক সাংবাদিকদের বলেন, পোপের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর দীর্ঘ আলোচনায় মিয়ানমারের ১ মিলিয়নের বেশি রোহিঙ্গা উদ্বাস্তু আশ্রয় দেয়ার কথা উঠে এসেছে। এই রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ায় প্রধানমন্ত্রীর ভূয়সী প্রশংসা করেন পোপ।

পররাষ্ট্র সচিব বলেন, পোপ প্রধানমন্ত্রীর কাছে রোহিঙ্গা সংকটের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ বিষয়ে জানতে চেয়েছেন। প্রত্যাবাসন কিভাবে হবে, কিভাবে প্রত্যাবাসন নিরাপদ ও টেকসই হবে, সে বিষয়ে জানতে চেয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীও পোপকে রোহিঙ্গা সংকট ও এর সমাধানের বিষয়ে বলেন।

গত নভেম্বর-ডিসেম্বরে পোপের বাংলাদেশ সফরের কথা উল্লেখ করে শহীদুল হক বলেন, পোপ বাংলাদেশে বিদ্যমান ধর্মীয় সম্প্রীতির প্রশংসা করেছেন। সফরের মাধ্যমে বাংলাদেশ সম্পর্কে খুব ভালো এবং উঁচু মানের ধারণা তৈরি হয়েছে তার।

শেখ হাসিনা ও কার্দিনাল পিয়েত্রো পারোলিন

পোপের সঙ্গে বৈঠকের পর প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক হয় ভ্যাটিকান সিটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী কার্দিনাল পিয়েত্রো পারোলিনের। এ বৈঠকের বিষয় তুলে ধরে রাষ্ট্রদূত শামীম আহসান বলেন, মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা ১০ লাখ রোহিঙ্গার প্রত্যাবাসনে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে বলে ভ্যাটিকান সিটির পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সীমান্তের ওপার থেকে সমস্যার সৃষ্টি করা হয়েছে এবং এর সমাধানও রয়েছে সেখানে। তাই চুক্তি বাস্তবায়নও করতে হবে মিয়ানমারকে। কিন্তু এ ব্যাপারে আমরা এখনো মিয়ানমারের কাছ থেকে কোনো সাড়া পাইনি।’

রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেছেন, রোহিঙ্গারা যাতে তাদের স্বদেশ ভূমিতে ফিরে যেতে উৎসাহিত হয়, মিয়ানমারকে সে ধরনের পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে। এ দায়িত্ব মিয়ানমার সরকারকে নিতে হবে। কারণ সমস্যার মূল রয়েছে মিয়ানমারে, এর সমাধানও বের করতে হবে তাদেরকেই।

রাষ্ট্রদূত জানান, প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘প্রক্রিয়াটা শুরু করতে হবে। ওখানে সে অবস্থা সৃষ্টি করতে হবে, যে অবস্থা সৃষ্টি করলে রোহিঙ্গারা ফিরে যেতে চাইবে, সে দায়-দায়িত্ব মিয়ানমারের’।

এ প্রসঙ্গে তিনি গত বছর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে তাঁর পেশ করা পাঁচ দফা প্রস্তাবের কথা আবার উল্লেখ করেন। তিনি আরো বলেন, মিয়ানমার এখনো কফি আনান কমিশনের রিপোর্ট বাস্তবায়ন করেনি।

বৈঠকে ভ্যাটিকান সিটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ সরকারের কঠোর লড়াইয়ের প্রশংসা করেন।#

পার্সটুডে/আশরাফুর রহমান/১৩

ট্যাগ

২০১৮-০২-১৩ ১২:৩৩ বাংলাদেশ সময়
মন্তব্য