বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নারীদের আত্মবিশ্বাস এবং মর্যাদা বজায় রেখে নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে দেশের উন্নয়নে ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছেন।

আজ (বৃহস্পতিবার) সকালে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহবান জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'মেয়েদের স্বাবলম্বী হবার ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক স্বাধীনতাটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কাজেই মেয়েদেরকে লেখাপড়া শিখতে হবে এবং নিজেদের পায়ে দাঁড়াতে হবে।'

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সমাজকে উন্নয়ন করতে হলে নারী-পুরুষ সবাইকেই সমানভাবে সুযোগ করে দিতে হবে। নারীদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থাও করতে হবে এবং কর্মক্ষেত্রেই তাদের যে শক্তি ও মেধা সেটা যেন কাজে লাগে তার ব্যবস্থাও করতে হবে।'

এ সময় মেয়ের বিয়ের জন্য তাড়াহুড়ো না করে তাদের নিজের পায়ে দাঁড়ানোর মতো শিক্ষা প্রদানে মনোনিবেশ করার জন্য অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

তার সরকার দেশে বাল্যবিবাহ বন্ধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে একটা সামাজিক সচেতনতা সৃষ্টি করা একান্তভাবে প্রয়োজন, যেটা তার সরকার করে যাচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী এ সময় ‘জাতীয় নারী উন্নয়ন নীতি ২০১১’ প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের জন্য জাতীয় কর্মপরিকল্পনা-২০১৩ গ্রহণ, মাতৃত্বকালীন ছুটি চার মাসের পরিবর্তে স্ব-বেতনে ছয় মাসে বর্ধিতকরণ এবং সন্তানের পরিচয়ের ক্ষেত্রে বাবার নামের পাশাপাশি সর্বত্রই মায়ের নাম বাধ্যতামূলক করাসহ তার সরকারের নারী উন্নয়নে গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপ তুলে ধরেন।

বিশ্ব নারী দিবস ও নারী অধিকার প্রসঙ্গে ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরে জাতীয় তফসির পরিষদ, বাংলাদেশ-এর চেয়ারম্যান মাওলানা আহমেদ আবদুল কাইয়ুম রেডিও তেহরানকে বলেন, প্রচলিত ব্যবস্থায় যতই নারীর অধিকার বা মর্যাদার কথা বলা হোক না কেন, সমাজে এখন নারীরা নানাভাবে নির্যাতিত ও নিগৃহীত হচ্ছে। তারা ইভটিজিংয়ের মতো ভয়াবহ সন্ত্রাসের শিকার হচ্ছে। আমরা যদি তাদের সম্মান দিতে চাই তাহলে পর্দার বিধান প্রবর্তনের মধ্যে দিয়েই তা সম্ভব।     

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী নারীর উন্নয়ন-অগ্রযাত্রায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ পাঁচ জন জয়িতার হাতে সম্মাননা পদক তুলে দেন। তারা হলেন- অর্থনৈতিক সাফল্য অর্জনে ঢাকা বিভাগের দৃষ্টি, শিক্ষা ও চাকরির ক্ষেত্রে সাফল্য অর্জন করায় খুলনা বিভাগের মোসাম্মাৎ নাছিমা খাতুন, সফল জননী ক্যাটাগরিতে চট্টগ্রাম বিভাগের পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়ির হলা ক্রা প্রু মারমা, নির্যাতনের বিভীষিকা পেছনে ফেলে নতুনভাবে জীবন শুরু করায় ঢাকা বিভাগের ফিরোজা খাতুন এবং সমাজ উন্নয়নে অসামান্য অবদান রাখায় রাজশাহী বিভাগের আমেনা বেগম।#

পার্সটুডে/আবদুর রহমান খান/আশরাফুর রহমান/৮

 

ট্যাগ

২০১৮-০৩-০৮ ১৯:২৯ বাংলাদেশ সময়
মন্তব্য