বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘আমরা সরকার গঠনের পর থেকে সার্বিক উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছি। আমরা ব্যবসা করতে আসিনি, দেশ গড়তে এসেছি। ১৯৭৫-এর পর যেসব সরকার ক্ষমতায় এসেছে, তারা বিভিন্ন সময়ে নিজেদের ক্ষমতা ব্যবহার করে ব্যবসা-বাণিজ্য করেছে। কিন্তু আমরা জনগণের জন্য কাজ করে যাচ্ছি।’

আজ (রোববার) দুপুরে প্রধানমন্ত্রী তার সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে মুন্সিগঞ্জ জেলা প্রশাসন কার্যালয়ের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের অধীন কয়েকটি উন্নয়ন প্রকল্প উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

বিএনপি সরকার দেশকে পিছিয়ে দিয়েছিল উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যে খুলনা শিপইয়ার্ডকে একসময় বিএনপি সরকার পরিত্যক্ত ঘোষণা করেছিল, আমরা নৌবাহিনীর হাতে তুলে দিয়েছি সেটা। আজ সেখান থেকে যুদ্ধজাহাজ পর্যন্ত তৈরি হচ্ছে। বিএনপি আমলে মোংলা বন্দর বন্ধ করে দিয়েছিল, আমরা তা আবারও চালু করেছি। সুন্দরবনের অনেক নদী খনন করার মাধ্যমে পানিপ্রবাহ বৃদ্ধি করা হয়েছে।’

দেশকে এগিয়ে নিতে সরকার ধাপে ধাপে বিভিন্ন বাস্তবমুখী প্রকল্প হাতে নিচ্ছে এবং তা বাস্তবায়ন করছে বলেও জানিয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

শেখ হাসিনা ধরলা সেতু

এ সময় মুন্সিগঞ্জের উন্নয়নের ব্যাপারে তিনি বলেন, পদ্মাসেতু হওয়ায় দক্ষিণাঞ্চলের গুরুত্ব আরও বেড়ে যাবে। এদিকে নৌপথগুলো আবারও ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে সচল করা হলে খুব অল্প খরচে পণ্য পরিবহন করা যাবে।’

তিনি  উল্লেখ করেন, পদ্মা, মেঘনা, ধলেশ্বরী, ইছামতি- চারটি নদী মুন্সিগঞ্জের ওপর দিয়ে প্রবাহিত  হচ্ছে। এ অঞ্চলের জন্য নদীপথ গুরুত্বপূর্ণ। তাই ড্রেজিং করে নদীর নাব্যতা বৃদ্ধির জন্য কাজ করা হচ্ছে।’

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘এছাড়াও দক্ষিণাঞ্চলের জন্য আরও একটি শিপইয়ার্ড তৈরি করা হবে, সরকারের এ পরিকল্পনা আছে।

এ প্রসঙ্গে রংপুরের স্থানীয় সাংবাদিক আব্দুস শাহেদ রেডিও তেহরানকে বলেন, এ সেতুটি নির্মাণের ফলে বৃহত্তর রংপুরের মানুষদের দীর্ঘদিনের আশা পুরণ হয়েছে। এর ফলে বিভাগীয় মহানগর রংপুরের সাথে কুড়িগ্রাম, ভুরুঙ্গামারি, নাগেস্বারি ও লালমনিরহাটের সাথে সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা অনেক সহজ হয়ে গেল।  

এর আগে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে কুড়িগ্রামের ধরলা সেতুর উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী।

এসময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট ও রংপুর অঞ্চলের মানুষের জন্য এই সেতুটি আমার পক্ষ থেকে ঈদের উপহার হিসেবে নেবেন। এটি আপনাদের ঈদের উপহার হিসেবে দিলাম। আপনারা এই সেতু রক্ষণাবেক্ষণ করবেন, দেখেশুনে রাখবেন।#

পার্সটুডে/আবদুর রহমান খান/আশরাফুর রহমান/৩

২০১৮-০৬-০৩ ১৬:২৫ বাংলাদেশ সময়
মন্তব্য