বাংলাদেশ সরকারের সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, "আশ্বস্ত করেছিলাম গত কয়েক বছরের চেয়ে এবার ঈদযাত্রা ভালো হবে। এখন পর্যন্ত কোথাও যানজট দেখা যায়নি। আশা করছি, শেষ অবধি এ ধারাবাহিকতা আমরা অব্যাহত রাখতে পারব। সকলকে নিয়ে সে চেষ্টা চলছে।"

আজ (বুধবার) সকাল সাড়ে ১০টায় রাজধানীর গাবতলী বাস টার্মিনালের নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও ঘরমুখো যাত্রীদের ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের বিরুদ্ধে ভিজিলেন্স টিমের কার্যক্রম পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।

সেতুমন্ত্রী বলেন, "রাস্তার কারণে এবার কোথাও যানজট হবে না। কারণ, আমরা চন্দ্রা থেকে বঙ্গবন্ধু সেতু পর্যন্ত ফোর লেন চালু করেছি।"

মুফতি মোহাম্মদ ফয়জুল্লাহ

সড়ক পরিবহন মন্ত্রীর আশ্বাস প্রসঙ্গে ইসলামী ঐক্যজোটের মহাসচিব মুফতি মোহাম্মদ ফয়জুল্লাহ রেডিও তেহরানকে বলেন, পথে-ঘাটে চলাচল করতে মানুষের কষ্ট হচ্ছে- এটা না বুঝে অবিবেচকের মতো কথা বলা জনগণের প্রতি অবহেলা ও অবমাননার সামিল। মুফতি ফয়জুল্লাহ সংশ্লিষ্টদের কথা কম বলে কাজ করে মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ, নিরাপদ ও দুর্ভোগমুক্ত করার জন্য দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করার পরামর্শ দিয়েছেন।

মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া অংশের ঢাকামুখী মেঘনা সেতু থেকে ভাটেরচর এলাকা পর্যন্ত যানজট

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ৭ কিলোমিটার যানজট

ওদিকে, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া অংশের ঢাকামুখী মেঘনা সেতু থেকে ভাটেরচর এলাকা পর্যন্ত সাত কিলোমিটার এবং কুমিল্লাগামী ভবেরচর থেকে দাউদকান্দি পর্যন্ত ছয় কিলোমিটার এলাকাজুড়ে তীব্র যানজট দেখা দিয়েছে। আজ সকাল থেকে গাড়ির চাপ বেশি থাকায় এ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। ঢাকামুখী সড়কে যানজটের তীব্রতা বেশি থাকায় অনেকটা স্থবির হয়ে পড়েছে এই সড়কটি। 

ভবেরচর হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. আলমগীর হোসেন বলেন, গজারিয়া ভাটেরচর  থেকে মেঘনা ব্রিজ পর্যন্ত ঢাকামুখী গাড়ির চাপে যানজটের সৃষ্টি হয়েছে।  রাস্তায় অতিরিক্ত গাড়ির কারণে  যানজটের সৃষ্টি হয়েছে।

ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে বৃষ্টির পানি জমে তীব্র যানজটের সৃষ্টি

গাজীপুরে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি

ওদিকে, গাজীপুরে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে বৃষ্টির পানি জমে তীব্র যানজটের সৃষ্টি করেছে। বুধবার সকালে সৃষ্ট এ তীব্র যানজটে ঈদের ঘরমুখো যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। মঙ্গলবার বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত প্রবল বর্ষণে ১২ কিলোমিটার সড়কের বিভিন্ন স্থান পানিতে তলিয়ে যায়। ফলে সড়কের এক লেন ব্যবহার করায় যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হচ্ছে।

বুধবার থেকে গাজীপুরের বিভিন্ন কলকারখানা ও গার্মেন্ট ছুটি হয়ে যাওয়ায় গাজীপুর ছাড়তে শুরু করেছেন শ্রমিকরা। রাস্তায় গাড়ি ও যাত্রীদের চাপ সকাল থেকে বেড়েই চলেছে।

পাটুরিয়া নৌবন্দর

নৌপথে যাত্রা

ওদিকে দেশের দক্ষিণ এবং দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১টি জেলার মানুষ মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া ও রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া নৌপথে যাতায়াত করে বলে যাত্রী ও যানবাহনের চাপ বেড়েছে। ঈদযাত্রার অংশ হিসেবে মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার শিমুলিয়া ঘাট এলাকায় যাত্রী ও যানবাহনের চাপ বেড়েছে।

আজ ভোর থেকেই ফেরিঘাট অভিমুখী রাস্তায় অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ দেখা গেছে। বেলা ১১টা পর্যন্ত  শিমুলিয়া ঘাটে তিন শতাধিক যানবাহন ফেরি পারের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে ছিল।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন সংস্থার (বিআইডব্লিউটিসি) আরিচা কার্যালয় সূত্র জানায়, এই ঈদে ঘুরমুখো মানুষের ভোগান্তির বিষয়টি বিবেচনা করে এই নৌপথে ফেরির সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। মঙ্গলবার এই পথে আটটি রো রো (বড়), সাতটি ইউটিলিটি (মাঝারি) ও চারটি কে-টাইপসহ (ছোট) মোট ১৯টি ফেরি দিয়ে যানবাহন পারাপার করা হয়। আজ বুধবার আরেকটি রো রো ফেরি এই পথে যানবাহন পারাপারে যুক্ত হওয়ার কথা রয়েছে।

এদিকে, পুলিশ, র‍্যাব, আনসারসহ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর পাঁচ শতাধিক সদস্য ১১ জুন থেকে শিমুলিয়া ঘাট থেকে ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কের শ্রীনগরের ছনবাড়ি পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করছেন। মাওয়া নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ সুরজিৎ কুমার ঘোষ জানান, ‘যদি ফেরি ঠিকমতো চলে আর আবহাওয়া ভালো থাকে তাহলে ঈদে ঘরমুখো যাত্রীদের তেমন অসুবিধা হবে না।’

ট্রেন যাত্রা

অপর দিকে, প্রতিবছরের মতো এবারও ঈদুল ফিতরে অতিরিক্ত ৩০ হাজার যাত্রীবহনের জন্য চালু হয়েছে স্পেশাল ট্রেন। তবে যাত্রার প্রথম দিনেই শিডিউল বিপর্যয়ে পড়ে চরম ভোগান্তির শিকার হন যাত্রীসাধারণ।#

পার্সটুডে/আবদুর রহমান খান/আশরাফুর রহমান/১৩

 

ট্যাগ

২০১৮-০৬-১৩ ১৭:১৮ বাংলাদেশ সময়
মন্তব্য