বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত তিনটি কোম্পানির শেয়ারের দাম অস্বাভাবিক বাড়তে থাকার কারণ জানতে চেয়ে নোটিস দিয়েছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) জবাবে কোম্পানিগুলো ডিএসইকে জানিয়েছে, শেয়ারদর এভাবে বাড়ার জন্য তাদের কাছে কোনো মূল্য সংবেদনশীল তথ্য নেই।

তাছাড়া, দীর্ঘদিন ধরে উৎপাদন বা ব্যবসায়িক কার্যক্রম বন্ধ থাকায় রহিমা ফুড ও মডার্ণ ডাইং অ্যান্ড স্ক্রিন প্রিন্টিংকে তালিকাচ্যুত (ডিলিস্টিং) করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) কর্তৃপক্ষ।

ডিএসই'র পরিচালক মিনহাজ মান্নান জানিয়েছেন, কোম্পানি দু’টি দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে। শীঘ্র উৎপাদন শুরু করার কোনো সম্ভাবনা নেই। তারপরও এই দুটি কোম্পানির শেয়ার দর অস্বাভাবিক হারে বাড়ে, যা পুঁজিবাজারের জন্য ক্ষতিকর।

ওদিকে, সপ্তাহের শেষ দিন বৃহস্পতিবার বাংলাদেশের দুই পুঁজিবাজারে (ঢাকা ও চট্টগ্রাম) সূচক ও লেনদেন বেড়েছে।

বৃহস্পতিবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স প্রায় ৩ পয়েন্ট বেড়ে প্রায় ৫ হাজার ৩৩৭ পয়েন্টে অবস্থান করছে।

ডিএসইএস বা ডিএসই শরিয়াহ সূচক ৩ দশমিক ৯৮ পয়েন্ট বেড়ে প্রায় একহাজার ২৭৩ পয়েন্টে রয়েছে; এবং ডিএস৩০ সূচক ৪ দশমিক ৪৮ পয়েন্ট বেড়ে প্রায় ১ হাজার ৯০৪ পয়েন্টে অবস্থান করছে।

এদিন, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) লেনদেন ৯১ কোটি ৬৭ লাখ টাকা বেড়ে ১৫২ কোটি ১৩ লাখ টাকার শেয়ার হাতবদল হয়েছে।

তবে শেয়ারবাজার বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে দিয়েছেন, যত টাকাই থাকুক না কেন পুঁজিবাজারে একসঙ্গে ১৫টির বেশি শেয়ারে বিনিয়োগ করা উচিত নয়। এ প্রসঙ্গে  শান্তা অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ এমরান হাসান বলেন, একজন দক্ষ বিনিয়োগকারী বা সম্পদ ব্যবস্থাপকও ৮টি বা ১০টির বেশি শেয়ারের বিষয়ে ঠিকভাবে নজর রাখতে পারেন না ।

পুঁজিবাজারের পরিস্থিতি বোঝার জন্য জিডিপি, মূল্যস্ফীতি, প্রবাসী আয়, বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবাহ ও আমানতের সুদের হারের মতো অর্থনীতির সূচকগুলোর সঙ্গে রাজনৈতিক পরিস্থিতিও পর্যবেক্ষণ করার ওপর জোর দেন এমরান।

পুঁজিবাজারে জেনে-বুঝে বিনিয়োগ করলেও পরিবর্তিত পরিস্থিতির কারণে লোকসান হতেই পারে। তখন নির্দিষ্ট শেয়ারের দাম কমার পেছনে যৌক্তিক কারণ আছে কি না তার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেয়ার পরামর্শ দেন এমরান।

তিনি বলেন, শেয়ারে দাম কমে যেতে থাকলে অথবা অবস্থার পরিবর্তন হতে দেখলে  যত দ্রুত সম্ভব কিছুটা লোকসান নিয়ে নেওয়া উত্তম।

বাংলাদেশে বর্তমানে শেয়ারবাজারের মোট মূলধনের ৪০ শতাংশের বেশি ব্যাংক ও আর্থিক খাতের। কিন্তু বিগত ২-৩ বছরে অধিকাংশ ব্যাংকের খেলাপি ঋণ বৃদ্ধি ও কয়েকটি ব্যাংকের মালিকানা বদলের ঘটনায় দীর্ঘদিন ধরেই টানা নেতিবাচক ধারায় রয়েছে এ খাতের শেয়ার দর।

ফলে, বিনিয়োগকারীরা আস্থা হারাচ্ছেন শেয়ারবাজার থেকে। এরই ধারাবাহিকতায় গত তিন বছরে প্রায় ৪ লাখের বেশি বিনিয়োগকারী শেয়ারবাজার ছেড়েছেন। নিষ্ক্রিয় রয়েছে অনেক বেনিফিশিয়ারি ওনার্স (বিও) হিসাব। এ ছাড়া যারা বাজারে টিকে আছেন, তারাও লোকসান গুনতে গুনতে হাঁপিয়ে উঠেছেন।

এদিকে সরকারের পক্ষ থেকে পুঁজিবাজারের উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতার জন্য নানা ধরনের পদক্ষেপের কথা বলা হলেও প্রকৃতপক্ষে তার কোনোটাই পুরোপুরি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে না। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গত কয়েক বছর ধরে একই ধরনের পদক্ষেপের কথা বলা হচ্ছে। কিন্তু এসবের কার্যকর বাস্তবায়ন নেই। নির্বাচনী বছরে নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষের নজরদারিও কমেছে বলে অভিযোগ বিনিয়োগকারীদের।#

পার্সটুডে/আবদুর রহমান খান/আশরাফুর রহমান/২১

২০১৮-০৭-২১ ১৬:৫৩ বাংলাদেশ সময়
মন্তব্য