• কক্সবাজারে রোহিঙ্গাদের বিক্ষোভ
    কক্সবাজারে রোহিঙ্গাদের বিক্ষোভ

বাংলাদেশের মিয়ানমার সীমান্তবর্তী জেলা কক্সবাজারে আশ্রিত রোহিঙ্গারা তাদের  নিরাপদ প্রত্যাবাসনের দাবিতে আজ (শানিবার) সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১১টা পর্যন্ত  টেকনাফ এবং উখিয়ার কুতুপালং, বালুখালী ও মধুরছড়ার বিভিন্ন ক্যাম্পে একযোগে বিক্ষোভ করেছেন। আজ ২৫ আগস্ট রোহিঙ্গা সংকটের এক বছর পূর্ণ হওয়া উপলক্ষে তারা কর্মসূচি পালন করেন।

উখিয়ার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবুল খায়ের জানান, ‘আজ সকালে হঠাৎ করেই রোহিঙ্গারা ক্যাম্প থেকে রাস্তার নামার চেষ্টা করে। আমরা বাধা দিলে তারা উখিয়া ও বালুখালীর বিভিন্ন ক্যাম্পের ভেতরেই শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভ সমাবেশ কর্মসূচি পালন করে। রোহিঙ্গারা প্রতিবাদ স্বরূপ প্রায় দুই ঘণ্টা তাদের বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন। এতে কোনো ধরণের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।’

এসব বিক্ষোভ সমাবেশে রোহিঙ্গা নেতারা বলেছেন, ‘মিয়ানমারের রাখাইনে সেনাবাহিনী ও উগ্রপন্থি মগরা আমাদের ওপর নির্বিচারে হত্যা, ধর্ষণ ও বর্বর নির্যাতন চালিয়েছে। প্রাণ বাঁচাতে বাধ্য হয়ে আমাদের বাংলাদেশে পালিয়ে আসতে হয়েছে। কিন্তু, এক বছর পার হয়ে গেলেও আন্তর্জাতিক মহল এখনও পর্যন্ত কোনো ধরনের সুরাহা করতে পারেনি। আমরা আমাদের মাতৃভূমি মিয়ানমারে চাই ফেরত যেতে। এজন্য আমাদের নিরাপদ পরিবেশ, নাগরিকত্ব ও একটি রাষ্ট্রের যাবতীয় সুযোগ-সুবিধা দিতে হবে।

উখিয়ায় বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার সময় রোহিঙ্গা নেতা মোহাম্মদ ইদ্রিস বলেন, ‘রোহিঙ্গা নির্যাতনের এক বছর পেরিয়ে গেছে। কিন্তু, আমাদের ভাগ্যের কোনও উন্নয়ন হয়নি। এজন্য আন্তর্জাতিক মহলকে নাড়া দিতে আজকের এই বিক্ষোভ সমাবেশ।’

রোহিঙ্গাদের বিক্ষোভ

উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পের রোহিঙ্গা নেতা মোহাম্মদ আবু তাহের বলেন, ‘সকাল থেকে আমরা আমাদের ব্লকে শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভ করছি। এতে করে অন্তত আমাদের মনে একটু হলেও শান্তি আসবে। আমরা আমাদের অধিকার ফিরে পেতে চাই। আমরা দেশে ফিরে যেতে চাই।’

উখিয়ার বালুখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্পের লালু মাঝি বলেন, ‘আমাদের এই বিক্ষোভ মিয়ানমারের বিরুদ্ধে। আমরা আন্তর্জাতিক মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করার জন্য এই বিক্ষোভ সমাবেশ করছি। আজ এক বছর পার হলেও আমরা সুষ্ঠু বিচার নিয়ে সন্দিহান। আমরা বিচার চাই, মিয়ানমারের শাস্তি চাই।’

১৯৮০ সালে আইন করে রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব কেড়ে নেয়ার পর মিয়ানমার সরকার রোহিঙ্গাদের ওপর দমন নিপীড়ন শুরু করে। এর পর নানা অজুহাতে রোহিঙ্গাদের ওপর নেমে আসে বর্বর নির্যাতন। গত ১৯৭৮ ও ১৯৯২ সাল থেকে রোহিঙ্গারা অধিক সংখ্যায় বাংলাদেশে পালিয়ে আসতে  শুরু করে। মিয়নমার সেনাবহিনী রোহিঙ্গাদের ওপর ২০১৬ সালের ৯ অক্টোবর এবং ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট ভয়াবহ নির্যাতন শুরু করে।

মূলত ২০১৭’র আগস্টের পর থেকে ধাপে ধাপে সামরিক প্রচারণা চালিয়ে সেখানকার বাসিন্দাদের রোহিঙ্গাবিদ্বেষী করে তোলা হয়। ফলে নিপিড়নের মুখে প্রায় ৭ লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে আসে। বর্তমানে নতুন পুরোনো মিলিয়ে এখন ১১ লাখ ১৬ হাজার ৪১৭ জন তালিকাভুক্ত রোহিঙ্গা বাংলাদেশের অশ্রয় শিবিরে অবস্থান করছেন। এর বাইরেও দেশের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে প্রায় তিন লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা। এখনো মিয়ানমার থেকে রোহিঙ্গাদের পালিয়ে আসা বন্ধ হয়নি।

বাংলাদেশে পালিয়ে আসা এসব রোহিঙ্গাদের নিয়ে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ব্যাপক আলোচনা হয়েছে। কীভাবে রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে নিরাপদ ও স্বেচ্ছায় প্রত্যাবাসন করা যায় সেই ব্যাপারে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে জাতিসংঘ, আন্তর্জাতিক বিশ্ব ও বাংলাদেশ সরকার। কিন্তু প্রত্যাবাসনের কোনও প্রক্রিয়ায় এখনও সেভাবে চোখে পড়েনি। ছোট পরিসরে উদ্যোগ নেওয়া হলেও কোনো গতি নেই প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায়।

কক্সবাজার শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মো. আবুল কালাম বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে বাংলাদেশের তরফ থেকে সব ধরণের প্রস্তুতি রয়েছে। তবে মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা, জীবিকা, অবাধ চলাচল, শিক্ষাসহ যেসব মৌলিক অধিকার রয়েছে, সেসব বিষয় নিশ্চিত করতে মিয়ানমার বিলম্ব করছে। অবশ্য মিয়ানমারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে খুব দ্রুত মিয়ানমারের একটি দল বাংলাদেশের রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করবে এবং অনুকূল পরিবেশ তৈরি হলে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু করা হবে।’#

পার্সটুডে/আবদুর রহমান খান/আশরাফুর রহমান/২৫ 

খবরসহ আমাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সব লেখা ফেসবুকে পেতে এখানে ক্লিক করুন এবং নোটিফিকেশনের জন্য লাইক দিন

ট্যাগ

২০১৮-০৮-২৫ ১৫:৪৯ বাংলাদেশ সময়
মন্তব্য