বাংলাদেশের প্রধান বিরোধীদল বিএনপিকে নির্বাচনে আনতে কোনো ধরনের আপোশ মীমাংসার সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

রোববার বিকেলে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন, বিএনপির কাছে কোনো আলোচনার প্রস্তাব নিয়ে তিনি যাবেন না এবং কারাবন্দী খালেদা জিয়ার মুক্তির ব্যাপারেও সরকারের কিছু করণীয় নেই- সেখানে যা হবার তা আইনি প্রক্রিয়াতেই হবে।

আগের দিন বিএনপি’র প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর সমাবেশে দলের মহাসচিব দাবি জানিয়েছেন, নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার আগেই খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিতে হবে এবং সেই সঙ্গে সরকার ও সংসদ ভেঙে দিতে হবে।

দুদিন আগে ক্ষমতাসীর ১৪ দলের সভা শেষে জোটের মুখপাত্র আওয়ামী লীগ প্রেসিডিয়াম সদস্য ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেছেন, ডিসেম্বরে হবে আগামী জাতীয় নির্বাচন এবং চলতি মাসের ১৮ তারিখ থেকে তারা আনুষ্ঠানিকভাবে মাঠে নামছে।

এদিকে, রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে কোনো আলোচনা ছাড়াই নির্বাচন কমিশন হঠাৎ করে আরপিও (রিপ্রেজেন্টেশন অব পিপল অর্ডার) সংশোধন এবং আগামী নির্বাচনে একশ’ আসনে ইভিএম (ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন) ব্যবহারে উৎসাহ প্রকাশ করে অনাবশ্যক বিতর্কের সৃষ্টি করেছে। এরকম জটিলতার মধ্যে কোন কোন মহল আগামী নির্বাচন অনুষ্ঠান নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছে।

সাইফুল হক

এ প্রসঙ্গে, সম্প্রতি গঠিত আট-দলীয় বাম গণতান্ত্রিক জোটের সমন্বয়কারী এবং বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক রেডিও তেহরানকে বলেন, জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য দেশবাসীকে আশাহত করেছে;  তাদের মধ্যে নতুন করে আশংকাও সৃষ্টি হয়েছে। তিনি মনে করেন, এখনো সব কিছূ শেষ হয়ে যায় নি। মানুষ আশা করে,  সরকার একটি রাজনৈতিক উদ্যোগ নিয়ে  সকলের আংশগ্রহণমূলক নির্বাচন অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা করতে। কারণ, মানুষ  আবারো ২০১৪ সালের মতো একটি নির্বাচন দেখতে চায় না। 

একই বিষয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক দিলারা চৌধুরী বলেছেন, দেশে একটি অস্বচ্ছ রাজনৈতিক পরিবেশ বিরাজ করছে। ২০১৪ সালের মতো আরেকটি নির্বাচন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা হয়তো করতে পারবেন। কিন্তু তাতে রাজনৈতিক সংকট আরো ভয়াবহ আকার ধারণ করবে।

তিনি মনে করেন,  ‘প্রধানমন্ত্রীর কথাই শেষ কথা নয় বরং পর্দার আড়ালে আলোচনা হতেই পারে। সরকার পক্ষের দায়িত্ব যেহেতু বেশি সেহেতু তারাও একটি প্রস্তাব দিতে পারে।’

সিইসি নুরুল হুদা

ইভিএম নিয়ে উৎকণ্ঠা স্বাভাবিক: সিইসি

এদিকে, আজ (সোমবার) সকালে ইভিএম ব্যবহার-সংক্রান্ত নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তাদের দুই দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধনকালে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে. এম. নুরুল হুদা বলেছেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইভিএমের ব্যবহার নির্ভর করছে রাজনৈতিক দলের সমর্থন, নিজেদের সক্ষমতা, সংশ্লিষ্টদের প্রশিক্ষণ আর আইন কার্যকরের ওপর।

কে. এম. নুরুল হুদা বলেন, ‘আমরা এখন প্রস্তুতিমূলক অবস্থানে রয়েছি। জাতীয় সংসদে যদি আইন পাস হয়, তখন আমাদের প্রশিক্ষিত লোকজনের যদি সক্ষমতা অর্জন হয় এবং জনগণের কাছে যদি গ্রহণযোগ্য হয়, তাহলে যতটুকু পারব ততটুকু জায়গায় ইভিএম ব্যবহার করব।’

সিইসি বলেন, ‘কোনো কিছু নতুনভাবে শুরু করলে আলোচনা-সমালোচনা হয়। ইভিএম কীভাবে ব্যবহার হবে, সেটা নিয়ে স্বাভাবিকভাবে উৎকণ্ঠা থাকবে, সেটাই তারা করেছে। অনেক প্রশ্নের উদ্ভব হয়েছে, সেগুলো প্রাসঙ্গিক।#

পার্সটুডে/আবদুর রহমান খান/আশরাফুর রহমান/৩

ট্যাগ

২০১৮-০৯-০৩ ১৬:৫৪ বাংলাদেশ সময়
মন্তব্য