রাজধানীর পরিবহনখাতে বিশৃঙ্খলার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। সরকারের নানা পদক্ষেপের পরও নিরাপদ করা যাচ্ছে না সড়ক। এরজন্য পরিবহণ শ্রমিক-মালিকদের পাশাপাশি যাত্রী ও পথচারীদের সচেতনতার অভাবও প্রকট হয়ে চোখে পড়ে।

সড়কে শৃঙ্খলার বিষয়টি নতুন করে চোখে আঙ্গুল দিয়ে প্রশাসনকে দেখিয়ে দেয় কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। গেলো ২৯ জুলাই, রাজধানীর কুর্মিটোলায় বাসের ধাক্কায় শহীদ রমিজউদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট স্কুল এন্ড কলেজের দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যুর পর, নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলন নামে তারা। রাজধানী ছাড়িয়ে মুহূর্তেই তা ছড়িয়ে পড়ে দেশজুড়ে। সড়কে শৃঙ্খলা ও ট্রাফিক আইন মানার নজির সৃষ্টি করে তারা।

এরই প্রেক্ষিতে আগস্টের প্রথম সপ্তাহে বিশেষ ট্রাফিক সপ্তাহ ঘোষণা দেয় পুলিশ। পরে ৩দিন বাড়ানো সেই অভিযানে পুরো দেশে মামলা হয় ১ লাখ ৮০ হাজারেও বেশি, জরিমানা করা হয় প্রায় ৭ কোটি ১০ লাখ টাকা, যার মধ্যে রাজধানীতেই জরিমানার সংখ্যা ৫ কোটি ৭০ লাখের মতো। এরপর, মঙ্গলবার থেকে মাসব্যাপি ট্রাফিক সচেতনতা কার্যক্রম ঘোষণা করে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)।

তবে, সুযোগ পেলেই নজর এড়িয়ে ফুটওভার ব্রিজ ব্যবহার না করে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রাস্তা পারাপার করছেন পথচারীরা। ঝুঁকি নিয়ে মাঝ রাস্তায় চলমান বাসে উঠছেন, নামছেনও। নিয়মের তোয়াক্কা করছেন না অনেক পরিবহন শ্রমিক। বেপরোয়া গতি, ঝুকিপূর্ণ ওভারটেক, অন্য বাসের সঙ্গে প্রতিযোগিতা, অতিরিক্ত ভাড়া আদায় কোনটাই বন্ধ হয়নি। তবে, চুক্তির পরিবর্তে কাউন্টার পদ্ধতিতে সেবা দিতে শুরু করেছে অনেক বাস। হয়রানির অভিযোগ থাকলেও, ড্রাইভিং লাইসেন্সসহ গাড়ির কাগজপত্রও সাথে রাখতে শুরু করেছেন তারা।

ট্রাফিক পুলিশের সার্জেন্ট মঞ্জুরুল ইসলাম জানান, ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, মোটর সাইকেল আরোহীদের মাথায় হেলমেট থাকা, রাস্তা পারাপারে ফুটওভার ব্রিজ ব্যবহার করা, নির্ধারিত স্থানে বাস দাঁড়ানো, চলার পথে বাসের গেট বন্ধ রাখা, লেগুনা চলাচল বন্ধসহ নানা বিষয়ে গুরুত্ব দিচ্ছে ট্রাফিক বিভাগ। এ কাজে তাদের সহায়তা দিচ্ছে স্কাউট সদস্যরা। এতে পরিস্থিতির কিছু উন্নতি দেখছেন তিনি।

ঢাকাবাসি সড়কে অনিয়মকে নিয়ম বানিয়ে ফেলেছে, ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়ার এমন মন্তব্যই যেন প্রতিফলিত হচ্ছে সড়কে। তার কঠোর হুশিয়ারির পরও, চলছে ঝুঁকিপূর্ণ লেগুনা। অনেক এলাকাতেই লাইসেন্সহীন ও অল্প বয়সী লেগুনা চালকের হাতেই নিজেদের তুলে দিচ্ছেন রাজধানীবাসী। এ অবস্থায়, সড়কে শৃংখলা আনতে শুধু আইনশৃংখলা বাহিনীর তৎপরতা নয়, সচেতন হতে হবে পরিবহন কর্মী, যাত্রী-পথচারী সবাইকেই, এমনটাই বলছেন সংশ্লিষ্টরা।#

পার্সটুডে/শামস মন্ডল/বাবুল আখতার/৭

 

 

 

২০১৮-০৯-০৭ ১৯:০৮ বাংলাদেশ সময়
মন্তব্য