বাংলাদেশের সাম্প্রতিক কোটা সংস্কার ও নিরাপদ সড়কের দাবিতে ছাত্রদের  আন্দোলনের জের ধরে ‘নিখোঁজ’ ১২ জন শিক্ষার্থীর পরিবার দাবি করেছে,  তাদের সন্তানদের পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ধরে নিয়ে গেছে। তারা তাদের সন্তানদের নিরাপত্তা দাবি করেছেন। গতকাল রাজধানীতে এক সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষার্থীদের বাবা, ভাই ও সহপাঠীরা এই দাবি জানান।

সংবাদ সম্মেলনের একদিন পর আজ (সোমবার) দুপুরে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানায় দায়ের করা পুলিশের কাজে বাঁধা প্রদান, ছাত্র আন্দোলনে গুজব সৃষ্টির অভিযোগ দেখিয়ে শিক্ষার্থীদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

‘নিখোঁজ’ সাইফুল্লাহ বিন মানসুরের বাবা মানসুর রহমান গতকাল সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, তাঁর দুই সন্তান সাইফুল্লাহ ও সিফাতকে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে সিফাতকে ছেড়ে দেওয়া হয়। সাইফুল্লাহর সম্প্রতি একটি ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানিতে চাকরি হয়েছে। ১৫ দিনের প্রশিক্ষণ নিতে তিনি ঢাকায় এসে ছোট ভাই সিফাতের মেসে ওঠেন। সেখান থেকে দুই ভাইকে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়।

সিফাত ফিরে এসে বলেছেন, ডিবি অফিসে শিক্ষার্থীদের নির্যাতন করা হচ্ছে। তাঁদের জিজ্ঞেস করা হচ্ছে, তাঁরা নিরাপদ সড়ক ও কোটা আন্দোলনে ছিলেন কি না।

‘আটক’ করার বিষয়ে ডিবি অফিস থেকে কোনো কিছু না জানানোয় শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে তাঁদের পরিবার গভীর উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার মধ্যে আছে বলে সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করা হয়।

অপর এক অভিভাবক বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে আমাদের আবেদন, সন্তানদের যেন দ্রুত আদালতে হাজির করা হয়। তাদের নিয়ে যেন কোনো নাটক না সাজানো হয়। তারা যদি দোষী হয়, সেটা আদালত দেখবেন।’

এ প্রসঙ্গে সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের সাধারণ সম্পাদক স্নেহার্দী চক্রবর্তী রেডিও তেহরানকে বলেন, এ ঘটনায় প্রমাণ হচ্ছে সরকার ছাত্রদের আন্দোলন দেখে ভয়  পেয়েছে। দেশে যে আইনের শাসন নেই এটা তারও প্রমাণ।

পত্রিকায় প্রকাশিত খবরে জানা গেছে, গত ৫ সেপ্টেম্বর মহাখালী, তেজকুনিপাড়া ও বিজি প্রেস এলাকা থেকে ৩১ জন শিক্ষার্থীকে তুলে নিয়ে যায় ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ। এক দিন পর ১২ জনকে আটকে রেখে বাকি শিক্ষার্থীদের মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়। #

পার্সটুডে/আবদুর রহমান খান/আশরাফুর রহমান/১০

ট্যাগ

২০১৮-০৯-১০ ২০:১২ বাংলাদেশ সময়
মন্তব্য