• সংবাদ সম্মেলনে ড. কামাল হোসেন
    সংবাদ সম্মেলনে ড. কামাল হোসেন

বাংলাদেশের সংবিধান প্রণেতা হিসেবে খ্যাত গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন অভিযোগ করেছেন, আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার সংবিধান অমান্য করে দেশ চালাচ্ছে।

আজ  (মঙ্গলবার)  জাতীয় প্রেস ক্লাবে  গণফোরাম আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ড. কামাল হোসেন বলেন, ‘অনেক মানুষ গুম হয়ে যাচ্ছে, নিখোঁজ হয়ে যাচ্ছে।  এভাবে গুম-নিখোঁজ হয়ে যাওয়ার বিষয়টি সংবিধান সমর্থন করে না। গুম-নিখোঁজ শেষে যারা ফিরে আসছে তারাও মুখ খুলছে না।এগুলোর বিষয়ে আদালতে তদন্ত হওয়া দরকার।’

তিনি ব্যাখ্যা করে বলেন, ‘সরকার সংবিধান অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছে না। সংবিধানে বলা আছে, কাউকে আটক করা হলে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তাকে আদালতে সোর্পদ করতে হবে। সংবিধানের এ নিয়ম মানা হচ্ছে না।

সংবিধান প্রণেতা আরও বলেন, ‘মৃত ব্যক্তিকে পুলিশ ককটেল ছুড়তে দেখেছে, আসামিকে বাদী চেনেন না। কিন্তু মামলা হচ্ছে। এগুলো আজব দেশেই ঘটতে পারে।’

‘সাদা পোশাকে ধর-পাকড় চলছে। সাদা পোশাকে যারা আটক করছে তারা কারা? সাদা পোশাকধারীদের ছিনতাইকারী ভেবে জনগণ যদি ব্যবস্থা নেয় তখন কী হবে? সংবিধানে রয়েছে কাউকে আটক করতে হলে ইউনিফর্ম পরে আটক করতে হবে। আমরা এ সব বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছি।'

তিনি বলেন, ‘পুলিশ যদি সরকারের অনুমতি ছাড়া এগুলো করে তাহলে সেটা গুরুতর অপরাধ। আর যদি সরকারের অনুমতি নিয়ে করে তাহলে সরকার সংবিধান অমান্য করছে। দেশ  সংবিধানের শাসনের বাইরে চলে যাচ্ছে।’

কোটা সংস্কার আন্দোলন ও নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনকারীদের আটকের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এভাবে কেন ছাত্রদের আটক করা হচ্ছে? ছাত্ররা কোটা সংস্কার চেয়েছে তারা বাতিল চায়নি। ৪৬ বছর আগে মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য কোটার কথা বলা হয়েছিল সেটা বিশেষ অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে। এত বছর পর কোটার দরকার আছে কি না সেটা ভাবতে হবে। সংবিধানে বলা আছে যোগ্যতার ভিত্তিতে সবাইকে মূল্যায়ন করতে হবে। সংবিধানে সকলের সমান অধিকারের কথা বলা হয়েছে।’

কারাগারে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিচার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘কর্নেল তাহেরের বিচারের সঙ্গে খালেদা জিয়ার বিচার মেলানো হয়েছে। কিন্তু মনে রাখতে হবে কর্নেল তাহেরের বিচার হয়েছিল সামরিক আদালতে। এভাবে কারাগারে খালেদা জিয়ার বিচার সংবিধান সম্মত না, এটা আমরা উচ্চ আদালতে বলব।’

‘খালেদা জিয়াকে হাসপাতালে নিয়ে উচ্চ চিকিৎসা দিতে হবে। দেশে যে অবস্থা চলছে তা সভ্য দেশে চলতে পারে না। এখানে অসভ্য কোনোকিছু করা হলে তা দেশের জনগণ মেনে নেবে না।’

২২ সেপ্টেম্বর রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে গণফোরাম ও যুক্তফ্রন্টের সমাবেশের বিষয়ে ড. কামাল হোসেন বলেন, ‘আমরা সমাবেশ করতে চেয়েছিলাম কিন্তু অনুমতি পাইনি। অনুমতি না পাওয়ায় মহানগর নাট্যমঞ্চে সমাবেশ করব। আওয়ামী লীগ তো সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ করে। তারা করতে পারলে অন্যরা করতে পারবে না কেন? আওয়ামী লীগকে এই জমিদারি মনোভাব পরিহার করতে হবে।’#

পার্সটুডে/আবদুর রহমান খান/আশরাফুর রহমান/১১

ট্যাগ

২০১৮-০৯-১১ ১৭:২৭ বাংলাদেশ সময়
মন্তব্য