বাংলাদেশের আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মুক্তিযুদ্ধবিরোধী শক্তির কোনো প্রার্থীকে মনোনয়ন না দিতে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে যুদ্ধাপরাধের বিরুদ্ধে সোচ্চার সংগঠন একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি (ঘাদানিক)।

একইসাথে, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে যাতে কোনো সাম্প্রদায়িক সহিংসতা না হয় সেজন্য নির্বাচন কমিশনকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সংগঠনের নেতারা।

এ প্রসঙ্গে, হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রানা দাশগুপ্ত রেডিও তেহরানকে বলেন, তাদের সংগঠনের পক্ষ থেকে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি এ রকম দাবি জানানো হয়েছে। এ দাবির সমর্থনে ধর্মীয় সংখ্যালঘুগোষ্ঠী আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে এক মহাসমাবেশ আহ্বান করেছে।

এদিকে গতকাল (মঙ্গলবার) জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির বলেছেন, যাদের বিরুদ্ধে ১৯৭১ সালে মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণহত্যার অভিযোগ রয়েছে তাদের কাউকে রাজনৈতিক দলগুলোর পক্ষ থেকে মনোনয়ন দেয়া উচিত নয়।

রানা দাশগুপ্ত

সংবাদ সম্মেলনে শাহরিয়ার কবির তার লিখিত বক্তব্যে উল্লেখ করেছেন, ২০০৯ সাল থেকে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার ক্ষমতায় থাকার পরও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর হামলা হুমকি বন্ধ হয়নি। সাম্প্রদায়িক হামলার জন্য অনেক সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে; তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রে সরকারদলীয় নেতা-কর্মীদের গ্রেপ্তার করা হয় নি।

শাহরিয়ার কবির দাবি করেছেন, যারা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে মৌলবাদী কার্যক্রম, মাদক ব্যবসা, চোরাচালান, দুর্নীতি ও অন্যান্য অপরাধে জড়িত তাদের যেন আগামী নির্বাচনে মনোনয়ন না দেয়া হয়।

জামায়াতে ইসলামীর কোনো প্রার্থী যাতে স্বতন্ত্র হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিতে না পারে তা নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন শাহরিয়ার কবির।  

সংখ্যালঘুরা যাতে নিজেদের পছন্দ মতো ভোট দিতে পারে সেজন্য নির্বাচনকালে তাদের নিরাপত্তার জন্য সরকারকে সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইন করার দাবি করেছে নির্মূল কমিটি।#

পার্সটুডে/আবদুর রহমান খান/আশরাফুর রহমান/১৯

ট্যাগ

২০১৮-০৯-১৯ ২০:১৭ বাংলাদেশ সময়
মন্তব্য