• পুলিশের গাড়িতে ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ
    পুলিশের গাড়িতে ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ

রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করতে আসা নেতা-কর্মীদের ভীড় সরানোর সময় পুলিশের সংঘর্ষ হয়েছে। এ সময় মুখে কালো কাপড় বেঁধে ও মাথায় হেলমেট পড়ে একদল যুবক পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর করে। 

আজ (বুধবার) বেলা পৌনে একটার দিকে এ সংঘর্ষ চলাকালে পুলিশের ছোড়া রাবার বুলেটে কমপক্ষে ১২ জন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষ চলাকালে বিএনপির বিক্ষুব্ধ নেতা-কর্মীরা পুলিশের একটি পিকআপসহ দুটি গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয় এবং বেশকিছু গাড়ি ভাঙচুর করে। 

সরকার নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করছে: মির্জা ফখরুল

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন, ‘নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র করতে সরকার এ ঘটনা ঘটিয়েছে। গত চারদিন ধরে আওয়ামী লীগ শোডাউন করল, এত কিছু করল, কিছু হলো না। আজ বিএনপির নেতা-কর্মীদের উপর পুলিশ কেন চড়াও হলো?

উসকানি দিয়ে হামলার ঘটনা ঘটানো হয়েছে দাবি করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘কালকে (মঙ্গলবার) হঠাৎ করে চিঠি দিল। এই চিঠি দিয়ে আজকে পুলিশের অ্যাকশন। প্রভোকেশন (উসকানি) করে নির্বাচনকে বানচাল করার ষড়যন্ত্র করছে।’

পুলিশের গাড়িতে আগুন

'আপনারা মৌচাকে ঢিল মেরেছেন কেন?

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী সাংবাদিকদের বলেন, বিনা উস্কানিতে সরকারের লেলিয়ে দেয়া পুলিশবাহিনী অতর্কিতভাবে বিএনপির নেতাকর্মীদের উপর হামলা চালিয়েছে।

আপনারা মৌচাকে ঢিল মেরেছেন কেন? পুলিশ বাহিনীর কাছে এমন প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, আপনারা ভেবেছেন আমাদের শান্তিপূর্ণ এই মনোনয়ন ফরম বিক্রি করার সময় হামলা চালিয়ে আমাদের স্বাভাবিক কাজ বন্ধ করবেন সেটি আর হবে না। কোন রক্ত চক্ষুকে শহীদ জিয়া সৈনিকেরা ভয় করে না।

এই আক্রমণ সরকারের নির্দেশে দাবি করে রিজভী নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, সরকারের নির্দেশেই আমাদের নেতাকর্মীদের রক্তাক্ত করেছে সরকারের লেলিয়ে দেয়া পুলিশ বাহিনী। আমাদের নেতাকর্মীদের গুলি করা হয়েছে। বেশ কয়েকজন গুলিবিদ্ধ হয়েছে। 

আহত এক বিএনপিকর্মী

নির্বাচন বানচাল করতেই হামলা: অভিযোগ কাদেরের

নির্বাচন বানচাল করতেই সম্পূর্ণ বিনা উস্কানিতে মির্জা আব্বাসের নেতৃত্বে পুলিশের ওপর বিএনপি নেতাকর্মীরা পুলিশের ওপর হামলা করেছে বলে অভিযোগ করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

বুধবার বেলা ৩ টায় ধানমন্ডির কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপি নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র শুরু করেছে। সম্পূর্ণ বিনা উস্কানিতে নয়াপল্টনে মির্জা আব্বাসের নেতৃত্বে বিএনপি নেতাকর্মীরা পুলিশের ওপর হামলা চালিয়েছে। তারা পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর করে এতে আগুন দিয়েছে।

নয়াপল্টনে পুলিশের অবস্থান

বিএনপিকে দায়ী করল পুলিশ

বিনা উস্কানিতে পুলিশের ওপর বিএনপির নেতাকর্মীরা হামলা করেছে বলে দাবি করেছেন পুলিশের মতিঝিল জোনের ডিসি আনোয়ার হোসেন। 

আজ (বুধবার) রাজধানীর নয়াপল্টন মোড়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে আনোয়ার হোসেন বলেন, পুলিশ শুধু তাদের রাস্তায় থেকে সরে যেতে বলেছে যেন যানচলাচল স্বাভাবিক থাকে। কিন্তু তারা এ কথা না শুনে হঠাৎ করে বিনা উস্কানিতে পুলিশের ওপর হামলা করে। পরে তারা আমাদের দুইটা গাড়ি পুড়িয়ে দেয়। আমাদের কয়েকজন সদস্যও এ ঘটনায় আহত হয়। তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত পুলিশ ধৈর্য সহ পরিস্থিতি সামলানোর চেষ্টা করছে। এ ঘটনায় কাউকেই এখন পর্যন্ত আটক করা হয়নি। আমরা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছে, সকাল থেকে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে মনোনয়নপ্রত্যাশী নেতা-কর্মী-সমর্থকদের ভিড় ছিল। পুলিশ রাস্তায় তাঁদের দাঁড়াতে দিচ্ছিল না। দুপুর পৌনে একটার দিকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বড় একটি মিছিল নিয়ে ঢাকা-৮ আসনের জন্য মনোনয়ন ফরম কিনতে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে আসেন। ওই সময় কার্যালয়ের সামনে থেকে তাঁর মিছিল সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে পুলিশ। তবে কর্মী-সমর্থকেরা সরে না যাওয়ায় একপর্যায়ে পুলিশের গাড়ি মিছিলের ওপর উঠে যায়। ওই সময় কয়েকজন আহত হন। এ নিয়ে কয়েকজন কর্মীর সঙ্গে পুলিশের বাগবিতণ্ডা হয়। মুহূর্তে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

হেলমেট পড়ে একদল যুবক পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর করে

পুলিশ কয়েকজন কর্মী-সমর্থককে লাঠিপেটা করে। পুলিশের সঙ্গে নেতা-কর্মীদের পাল্টাপাল্টি ধাওয়া হয়। একপর্যায়ে পুলিশ রাবার বুলেট ও কাঁদানে গ্যাসের শেল ছোড়ে। তবে বিএনপির নেতা, কর্মী ও সমর্থক সংখ্যায় এত বেশি ছিল যে, পুলিশ সেখান থেকে পিছু হটতে বাধ্য হয়। সংঘর্ষের কারণে ওই এলাকায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ফলে আশপাশের এলাকার সড়কে প্রচণ্ড যানজটের সৃষ্টি হয়েছে।

রাবার বুলেটে আহত ১২ জনকে শনাক্ত করা গেছে। তাঁরা হলেন- পিরোজপুরের নেছারাবাদের মো. শামসুল হক, রাজধানীর মুগদার মেহেদি হাসান মিরাজ, অরিন, পল্টনের মো. কাদির, হৃদয় শেখ, মতিঝিলের মকবুল হোসেন, সবুজবাগের মনির হোসেন, খিলগাঁওয়ের মোস্তাক, কলাবাগানের সুমন, বিমানবন্দর থানা এলাকার মহিউদ্দিন রতন, মাদারীপুরের সাখাওয়াত হোসেন এবং পিরোজপুরের আসাদুজ্জামান। তাঁদের গলায়, মাথায়, পিঠে রাবার বুলেট বিদ্ধ হয়েছে।

 

পার্সটুডে/আবদুর রহমান খান/আশরাফুর রহমান/১৪

খবরসহ আমাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সব লেখা ফেসবুকে পেতে এখানে ক্লিক করুন এবং নোটিফিকেশনের জন্য লাইক দিন

ট্যাগ

২০১৮-১১-১৪ ১৫:৪৬ বাংলাদেশ সময়
মন্তব্য