• প্রেস ব্রিফিংয়ে ড. কামাল হোসেন
    প্রেস ব্রিফিংয়ে ড. কামাল হোসেন

বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ নির্বাচন আরেকদফা পেছানোর ব্যাপারে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সর্বশেষ প্রস্তাব বিবেচনা করে দেখার আশ্বাস দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

নির্বাচনের তারিখ এক মাস পেছানোর দাবি নিয়ে আজ (বুধবার) বিকেলে ইসির সঙ্গে বৈঠক করেছে ঐক্যফ্রন্ট। বেলা সাড়ে তিনটায় ইসি কার্যালয়ে শুরু হওয়া ওই বৈঠক ঐক্যফ্রন্টের ১৪ নেতা অংশ নেন। বৈঠক শেষে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেন সন্ধ্যায় এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে বলেন, নির্বাচন পেছানো হবে কি না, সে বিষয়ে ইসি বলেছে তারা বিষয়টি বিবেচনা করবে।

ড. কামাল বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন (ইসি) আমাদের কথা ধৈর্য ধরে শুরেছেন এবং নির্বাচন অবাধ-সুষ্ঠু হবার আশ্বাস দিয়েছেন। তাঁরা আমাদের নির্বাচনে সাহায্য সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। আশা করি তাঁরা সহযোগিতা দেবেন।’

ড. কামাল বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে সংঘটিত সংঘর্ষের বিষয়ে বলেন, এটি সরকারি বাহিনীর উৎসাহী কাজ।

আজকের এই বৈঠক থেকে কী ফল আশা করছেন- এমন প্রশ্নের জবাবে ড. কামাল হোসেন বলেন, ‘সেটা আসলে বোঝা যাবে আমরা যেসব কথা বলেছি সেগুলোর সবগুলোর নোট নিয়েছেন তাঁরা। অনেকগুলো কথার জবাবে বলেছেন, বিবেচনা করে আলোচনা করে, কি করা যায় সেটা তাঁরা করবেন। পরে আমরা তা বুঝতে পারব।’

নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে ঐক্যফ্রন্ট নেতাদের বৈঠক

নির্বাচনে যাওয়া নির্ভর করছে সরকার-ইসির আচরণের ওপর: ফখরুল

ইসির সাথে বৈঠক শেষে ঐক্যফ্রন্টের মুখপাত্র ও বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আরো সুনির্দিষ্ট করে বলেন, ‘বিরোধী দলের নির্বাচনে টিকে থাকাটা ইসি ও সরকারের আচরণের ওপর নির্ভর করছে। আমরা ইভিএম ব্যবহার করতে না করেছি। ইসি বলেছে, তারা সিটি করপোরেশন এলাকায় সীমিত আকারে এসব ব্যবহার করবে। সেনা মোতায়েন প্রসঙ্গে ইসি বলেছে, তারা স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে থাকবে। তবে প্রতি কেন্দ্রেই সেনা মোতায়েন করা যায় কি না, তা ইসি বিবেচনা করবে।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘গণভবনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী বাছাইয়ের কাজ চলছে। এটা সরকারি ভবন। এটা প্রধানমন্ত্রী পারেন কি না, সে বিষয়ে আমরা ইসির দৃষ্টি আকর্ষণ করেছি।’ ইসি বলেছে, ‘তারা এটি খতিয়ে দেখবে।’

ফখরুল বলেন, বৈঠকে জনপ্রশাসনে রদবদল, বদলি ও গায়েবি মামলা প্রভৃতি বিষয়ে ইসির দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, কেন্দ্র থেকে নির্বাচনের খবরাখবর সম্প্রচার নিয়ে ইসির সঙ্গে কথা হয়েছে। ইসি বলেছে, সাংবাদিকেরা নির্বাচন কেন্দ্রে প্রবেশ করতে পারবে। কিন্তু কেন্দ্রের ভেতরে থেকে সরাসরি সম্প্রচার করতে পারবে না।

ফখরুল বলেন, ‘আমরা ইসিকে বলেছি, খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিতে হবে। তাঁকে ছাড়া সুষ্ঠু নির্বাচন হবে না। ইসি বলেছে, তারা বিষয়টি দেখবে।’

ব্রিফিংয়ে মির্জা ফখরুল আরও বলেন, ‘ইসি আমাদের সব কথা শুনেছে। প্রতিবারই শোনে। তবে তারা কতটা পালন করবে, তা জনগণ দেখবে।’

ইসির সঙ্গে বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপি নেতা খন্দকার মোশারফ হোসেন, মওদুদ আহমদ; কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের কাদের সিদ্দিকী, হাবিবুর রহমান তালুকদার; জেএসডির আবদুল মালেক রতন, শহীদ উদ্দিন স্বপন; গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের জাফরুল্লাহ চৌধুরী; নাগরিক ঐক্যের মাহমুদুর রহমান মান্না, এস এম আকরাম; জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার সুলতান মো. মনসুর আহমদ এবং গণফোরামের সুব্রত চৌধুরী, মোস্তফা মহসিন মন্টু ও মোকাব্বির খান।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরুল হুদার নেতৃত্বে বৈঠকে অংশ নেন নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার, রফিকুল ইসলাম, কবিতা খানম ও ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ।#

পার্সটুডে/আবদুর রহমান খান/আশরাফুর রহমান/১৪

খবরসহ আমাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সব লেখা ফেসবুকে পেতে এখানে ক্লিক করুন এবং নোটিফিকেশনের জন্য লাইক দিন

ট্যাগ

২০১৮-১১-১৪ ১৯:২৯ বাংলাদেশ সময়
মন্তব্য