২০১৮-১২-০৮ ২০:২৪ বাংলাদেশ সময়

রোহিঙ্গা মুসলমানদেরকে মিয়ানমারের যে আশ্রয় কেন্দ্রে পাঠানোর কথাবার্তা চলছে সেখানকার দুরবস্থার ব্যাপারে জাতিসংঘ উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা জানিয়েছে মিয়ানমারে তৈরি ওই আশ্রয় কেন্দ্রে খাবার দাবারের কোনো ব্যবস্থা নেই এবং তা স্বাভাবিক জীবন যাপনের অযোগ্য। এমনকি ওই আশ্রয় শিবিরে মিয়ানমারের কোনো নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেই এবং সাংবাদিকদেরকেও সেখানে প্রবেশের অনুমতি দিচ্ছে না সরকার যাতে সেখানকার অবস্থা সম্পর্কে বিশ্ববাসী জানতে না পারে। গত বছর ২৫ আগস্ট থেকে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী ও উগ্র বৌদ্ধরা রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর ব্যাপক হত্যাকাণ্ড শুরু করে, তাদের ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দেয় এবং খেত-খামার ধ্বংস করে দেয়। ওই হামলায় ছয় হাজার রোহিঙ্গা মুসলমান নিহত এবং আট হাজার আহত হয়েছিল। এ ছাড়া, শরণার্থীতে পরিণত হয় ১০ হাজারের বেশি মুসলমান।

এতবড় বিপর্যয়ের পরও আন্তর্জাতিক সমাজ এ ব্যাপারে কোনো পদক্ষেপ তো নেয়নি এমনকি তাদের নীরবতার কারণে রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর হত্যা-নির্যাতন অব্যাহত রয়েছে। জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক বিশেষজ্ঞ মার্ক পিয়ের্স বলেছেন, "বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া বহু রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্ষুধার্ত ও ক্লান্ত  এবং তাদের পর্যাপ্ত খাদ্য ও পানি নেই। শরণার্থীদের সংখ্যা অত্যধিক হওয়ায় তাদের খাদ্য ও চিকিৎসা সুবিধা দেয়াও সম্ভব হচ্ছে না। ফলে শরণার্থীরা অত্যন্ত মানবেতর জীবন যাপন করছে এবং এ পরিস্থিতি বিরাট মানবিয় বিপর্যয় সৃষ্টি করতে পারে।"

শরণার্থী প্রত্যাবর্তন বিষয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে সই হওয়া চুক্তি মিয়ানমার সরকার মানছে না বরং তারা উল্টো অভিযোগ করেছে রোহিঙ্গা শরণার্থী ইস্যুকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ সরকার আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে মিয়ানমারের ওপর চাপ সৃষ্টির চেষ্টা চালাচ্ছে। মিয়ানমারের ধর্মমন্ত্রী দাবি করেছেন, বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গা মুসলমানরা মিয়ানমারে সন্ত্রাসী হামলার চেষ্টা চালাচ্ছে। এ বক্তব্য থেকে বোঝা যায়, একদিকে তারা অসহায় শরণার্থীদেরকে সন্ত্রাসী বলে তুলে ধরার চেষ্টা করছে অন্যদিকে শরণার্থীদেরকে মেনে নিতে বাংলাদেশ সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে।

এ কারণে বাংলাদেশ সরকার ঢাকায় নিযুক্ত মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূতকে তলব করে ওই দেশটির ধর্মমন্ত্রীর এ ধরণের বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়েছে। অযৌক্তিক ও দায়িত্বজ্ঞানহীন বক্তব্য দেয়ার পরিবর্তে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের নিজ দেশে ফিরিয়ে নেয়ার পরিবেশ সৃষ্টির জন্য মিয়ানমার সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকার।

যাইহোক, মিয়ানমারের ধর্মমন্ত্রীর বক্তব্য থেকে বোঝা যায়, বর্তমান সরকারে উগ্রপন্থীদের ব্যাপক প্রভাব রয়েছে এবং এ অবস্থায় শরণার্থী সমস্যা সমাধানের চেষ্টা কোনো কাজে আসবে না বলে পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন। #       

পার্সটুডে/রেজওয়ান হোসেন/৮      

ট্যাগ

মন্তব্য