২০১৮-১২-০৯ ১৬:৫৮ বাংলাদেশ সময়
  • ওবায়দুল কাদের
    ওবায়দুল কাদের

বাংলাদেশের আসন্ন একাদশ জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে বিএনপি ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের মধ্যে সংকট দেখা দিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। আজ (রোববার) দুপুরে ফেনী জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ও নৌকার মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী নিজাম উদ্দিন হাজারীর প্রধান নির্বাচনী কার্যালয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে এ কথা বলেন তিনি।

ওবায়দুল কাদের বলেন, দেশে নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ বিরাজ করছে, কোনো ধরনের সংকট নেই। এ সুষ্ঠু পরিবেশ বিঘ্নিত হবে না, যদি বিএনপি বিঘ্নিত না করে। বিএনপি যদি তাদের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে সরে না দাঁড়ায়, তবে নির্বাচন নিয়ে কোনো ধরনের সংকট নেই। আগামী নির্বাচন সুষ্ঠু, অবাধ ও অংশগ্রহণমূলক হবে। কিন্তু বিএনপি এবং জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নিজেদের ঘরেই এলোমেলো অবস্থায় রয়েছে।

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, বিএনপির মনোনয়ন বঞ্চিতরা গুলশান ও পল্টন অফিসে বার বার হামলা করছে। এই অবস্থায় তারা যদি পরিবেশ নেই বলে সরে দাঁড়ায়, তাহলে আমাদের কী করার আছে?

সংসদ সদস্য পদে থেকে নির্বাচনে অংশ নেয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমিতো প্রাক্তন সুযোগ-সুবিধা নিচ্ছি না। নির্বাচন নিয়ে আচরণবিধির লঙ্ঘন করছি না। সরকারের প্রত্যেক মন্ত্রী-এমপি অক্ষরে অক্ষরে আচরণবিধি মেনে চলছে।

ওবায়দুল কাদের বলেন, আওয়ামী লীগ যদি আবার ক্ষমতায় আসে, তাহলে দেশের গ্রামগুলোকে পূর্ণমাত্রায় শহরে রূপান্তর করবে। বর্তমানে উন্নয়নের যে ধারাবাহিকতা আছে তা বজায় থাকবে। এ সময়, ক্ষমতায় ফিরলে আওয়ামী লীগের এবং জোটের শরিকদের মনোনয়নবঞ্চিতদের যথাযথ সম্মান করা হবে বলেও জানান সাধারণ সম্পাদক।

আব্দুর রহমান

'পাকিস্তান দূতাবাসে ফখরুলের গোপন বৈঠক নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র'

এদিকে, পাকিস্তান দূতাবাসে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুলের সাক্ষাৎ এবং গোপন বৈঠক নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র বলে মনে করছে আওয়ামী লীগ। সেইসঙ্গে বিএনপির মনোনয়ন বাণিজ্য এবং বিএনপি অফিসে নিজেদের মধ্যে হামলা-ভাঙচুরের ঘটনা নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ বিঘ্নিত করবে বলেও মনে করে দলটি।

আজ (রোববার) দুপুরে রাজধানীর ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান এ অভিযোগ করেন।

তিনি বলেন, একটি রাষ্ট্রের সঙ্গে আরেকটি রাষ্ট্রের কূটনৈতিক সম্পর্কের কারণে দূতাবাসে যাতায়াত থাকতেই পারে। তবে বিজয়ের মাসে আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে পাকিস্তান দূতাবাসের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক জনমনে প্রশ্নের সঞ্চার করে। লন্ডনে তারেক রহমানের সঙ্গে পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই’র বৈঠক এবং পাকিস্তান দূতাবাসে মির্জা ফখরুলের বৈঠক ষড়যন্ত্রেরই আভাস। যেখানে আসন্ন নির্বাচন বানচাল এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনার রাজনীতিকে বিনষ্ট করার দুরভিসন্ধি রয়েছে।

জামায়াতের সঙ্গে বিএনপির সম্পর্ক অবিচ্ছেদ্য উল্লেখ করে আব্দুর রহমান বলেন, আমরা বার বার বলে এসেছি, বিএনপির সঙ্গে জামায়াতের জোট কোনো রাজনৈতিক জোট নয়, বরং এটা আদর্শিক। বিএনপির প্রধান শরিক ঐক্যফ্রন্ট নয়, জামায়াত। মনোনয়ন ভাগাভাগির মধ্য দিয়ে আবারও সেটা প্রমাণিত হয়েছে।#

পার্সটুডে/শামস মণ্ডল/আশরাফুর রহমান/৯

ট্যাগ

মন্তব্য