২০১৮-১২-১০ ১৯:৩৪ বাংলাদেশ সময়

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ও প্রবীণ রাজনীতিবিদ ড. কামাল হোসেন বলেছেন, দেশে স্বাভাবিক মৃত্যুর গ্যারান্টি নাই। দেশে আইনের শাসন ও সুশাসন নিশ্চিত হওয়া জরুরি দরকার।

বিশ্ব মানবাধিকার দিবস উপলক্ষে আজ (সোমবার) জাতীয় প্রেস ক্লাবে 'রাজনীতি ও মানবাধিকার' শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন।

তিনি বলেন, বিনা বিচারে হত্যাকাণ্ড মহামারি আকারে বাড়ছে যা মানুষের মনে উদ্বেগ উৎকণ্ঠা বাড়ছে। দেশে গণতন্ত্র না থাকার কারণে এসব হত্যাকাণ্ড বাড়ছে।

তিনি দাবি করেন, কেন দেশে মানবাধিকার লংঘন কিংবা গুম খুন আরও বাড়ছে তার তদন্ত হওয়া উচিত এবং এ জন্য সরকারের জবাবদিহি করা উচিত।

খুশী কবির

'মানবাধিকার পরিস্থিতি উন্নয়নে তেমন কোনো পদক্ষেপ নেই'

এ প্রসঙ্গে বিশিষ্ট মানবাধিকার নেত্রী খুশী কবির রেডিও তেহরানকে বলেন, আজ ঘটা করে বিশ্ব মানবাধিকার দিবস পালন হচ্ছে। কিন্তু বাস্তবে মানবাধিকার পরিস্থিতি উন্নয়নে সরকার বা রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে তেমন কোনো কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না।

মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) এর হিসাব অনুযায়ী- এ বছর জানুয়ারি থেকে অক্টোবর পযন্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হেফাজতে ও ‘বন্দুকযুদ্ধে’ ঘটনায় মারা গেছেন ৪৩৭ জন। গত মে মাসে দেশজুড়ে মাদকবিরোধী অভিযান শুরু হবার পর থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মারা যায় ২৬০ জন। এরমধ্যে র‍্যাবের সঙ্গে ‘বন্ধুকযুদ্ধে’ ১২৬ জন, পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ ১৯৩ জন, ডিবি পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ ৪৮ জন, নৌপুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ একজন, র‍্যাব ও বিজিবির সঙ্গে ‘বন্ধুকযুদ্ধে’র ঘটনায় মারা যায় ৩ জন।

আসক-এর নির্বাহী পরিচালক শিপা হাফিজ বলেছেন, ‘সমস্যা হলো, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড এ বছর বেশি দেখেছি; যদিও এর সঙ্গে মাদকবিরোধী আন্দোলনের সম্পৃক্ততা ছিল। জেনে না-জেনেও কিছু হত্যাকাণ্ড ঘটেছে।

কিন্তু দুঃখজনক, এখন পর্যন্ত রাষ্ট্র বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বিষয়টি স্বীকার করছে না। আর স্বীকার না করার ফলে কখনোই এসব ঘটনার বিচার হবে না।’

এ উপলক্ষে মানবাধিকারকর্মী নূর খান বলেছেন, ‘মানবাধিকার পরিস্থিতি দীর্ঘদিন ধরেই ভয়াবহ। মানবাধিকার রক্ষায় রাষ্ট্রের দৃশ্যমান উদ্যোগের অভাব দেখছি।’

এ প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, ‘সমাজে অপরাধ থাকবে স্বাভাবিক এবং সেজন্যই আইশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী গঠন হয়। কিন্তু অভিযান পরিচালনার নামে তারা নিজ হাতে বিচারের দায়িত্ব নিয়ে নিচ্ছে। এটা ভবিষ্যতের জন্য শঙ্কার বিষয়। এগুলো তদন্ত হওয়া দরকার। আস্থাশীল একটি তদন্ত কমিশন গঠন করে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের তদন্ত করে বিচার করা হোক।’#

পার্সটুডে/আবদুর রহমান খান/আশরাফুর রহমান/১০

ট্যাগ

মন্তব্য