২০১৮-১২-১৩ ১৮:১৭ বাংলাদেশ সময়

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিনা কারণে কাউকে হয়রানি, মামলা ও গ্রেফতার না করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নুরুল হুদা।

আজ (বৃহস্পতিবার)  সকালে আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ে আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক সমন্বয় সভায় এ কথা বলেন সিইসি। এ সময় নুরুল হুদা বলেন, ভোট ভাগ্য সন্ত্রাসীদের হাতে ছেড়ে দেওয়া যাবে না। অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করতে হবে।

প্রত্যেক ভোটার বিশেষ করে নারী ভোটাররা যাতে অবাধ ও সুষ্ঠভাবে ভোট দিতে পারে সে পরিবেশ নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানান কে এম নূরুল হুদা। সিইসি বলেন, ২০১৪ সালের নির্বাচনের কথা ভুলে গেলে চলবে না। তখন যে ভয়ংকর অবস্থার সৃষ্টি হয়েছিল। সেই ঘটনার আলোকে আমাদের প্রস্তুতি নিতে হবে। প্রচারণার শুরুতেই যে প্রানহানি বা হামলা ভাংচুরের ঘটনা ঘটেছে তাকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে না দেখে এর মধ্যে তৃতীয় পক্ষের কোন উসকানি আছে কী না তা খতিয়ে দেখতে আইন-শৃংখলা বাহীনির প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার। 

এর আগে সকাল সাড়ে ১০টায় আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনের অডিটেরিয়ামে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদার সভাপতিত্বে আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক সমন্বয় সভা শুরু হয়। সভায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পুলিশ, বিজিবি, র‌্যাব, কোস্টগার্ড, আনসার ভিডিপিসহ সংশ্লিষ্ট বাহিনী ও সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তারা রয়েছেন।

এদিকে, বিএনপি মহাসচীব মির্জা ফথরুল ইসলাম আলমগীর তার নিজ নির্বাচনী এলাকা ঠাকুরগাঁওয়ে প্রচারনা চালাতে গিয়ে বলেছেন,দেশের বিভিন্ন নির্বাচনী এলাকায় তাদের দল ও জোটের প্রার্থী ও নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা, মামলা ও গ্রেপ্তার আভিযান চালাচ্ছে সরকারি বাহিনী। এর ফলে কোথাও তারা সুষ্ঠভাবে নির্বাচনী কার্যকলাপ চালাতে পারছেন না।

তবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেছেন, 'একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন মানে বড় নির্বাচন। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিক্ষিপ্তভাবে ছোট ছোট সহিংসতার ঘটনা ঘটতে পারে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, আমিও বিষয়টি দেখবো। বিষয়গুলো তদন্ত করে ফয়সলা করা হবে।'
বৃহস্পতিবার (১২ ডিসেম্বর) সকাল সোয়া ১১টার দিকে বিজয় স্বরণি থেকে নেতাকর্মীদের নিয়ে তেজকুনি পাড়া এলাকায় নির্বাচনি প্রচারণার সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেন, ‘সুনির্দিষ্ট ওয়ারেন্ট ছাড়া কাউকে ধরা হচ্ছে না এবং নির্বাচন কমিশনে আমাদের যারা দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি আছেন তাদের জানিয়ে ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিদের ধরা হচ্ছে। আপনরা জানেন যে ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিদের ধরা না হলে অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সৃষ্টি হবে। আমাদের গোয়েন্দারা বলছে, যাদের নামে নানা ধরনের ওয়ারেন্ট ছিল, যারা বিভিন্ন মামলার আসামি, যারা এতদিন বিদেশে বা অন্য কোথাও আত্মগোপন করেছিল তারা আবার ফিরে এসেছে। এজন্য তাদের ধরা হচ্ছে। আমাদের নিরাপত্তা বাহিনী যথেষ্ট সজাগ রয়েছে। তারা দক্ষতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রস্তুত রয়েছে।’

নির্বাচনে লেভেলে প্লেয়িং ফিল্ড আছে কিনা জানতে চাইলে আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেন, ‘বিষয়টি প্রার্থী হিসেবে আমার কিছু বলার নেই। এটা নির্বাচন কমিশনের ব্যাপার। আমি মনে করি, লেভেলে প্লেয়িং ফিল্ড আছে। আমি দেখেছি জোনায়েদ সাকি আছেন, তিনি প্রচারণা চালাচ্ছেন। এসময় তিনি জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের মনোনীত প্রার্থী সাইফুল ইসলাম নীরবকে ইঙ্গিত করে বলেন, আরেকজন আছেন শুনেছি তিনিও প্রচারণা চালাচ্ছেন।’

এদিকে আজকেও দেশের বিভিন্ন এলাকায় বিএনপি ও জাতীয় ঐক্য ফ্রন্টের প্রচার মিছিলে হামলা ও গ্রেপ্তারের খবর পাওয়া গেছে।

আজ বৃহস্পতিবার পাবনা-১ আসনের ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী অধ্যাপক আবু সাইয়িদের গাড়িবহরে হামলার করা হয়েছে। এ হামলার সঙ্গে কারা জড়িত সে বিষয়ে এখনও কিছু জানা যায়নি। নির্বাচনী জনসভায় যাওয়ার সময় বেলা ১১টার দিকে তার গাড়িবহরে একদল দুর্বৃত্ত হামলা চালায়। এ সময় তার দুটি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। পরে পুলিশ এসে তাকে উদ্ধার করে সাঁথিয়া থানায় নিয়ে যান।

প্রসঙ্গত, একাদশ সংসদ নির্বাচনেও তিনি নৌকার মনোনয়নবঞ্চিত হয়ে গণফোরামে যোগ দেন। এবার ধানের শীষ প্রতীক তিনি পাবনা-১ (বেড়া ও সাঁথিয়া) আসনে নির্বাচন করছেন।

সকালে ঝালকাঠি জেলা শহরের কলেজ রোডে বিএনপি  নির্বাচনী কার্যালয়ের সামনে দলীয় প্রর্থীর গাড়ী ভাংচুর এবং কর্মী-সমর্থকদের মারধরের অভিযোগ পাওয়া গেছে।  ঝালকাঠি-২ আসনের বিএনপি প্রার্থী জীবা আমিনা খান অভিযোগ করেন,  ছাত্রলীগ কর্মীরা এ হামলা  চালিয়েছে।  

এ ছাড়া, প্রতীক বরাদ্দের পর থেকে রাজধানীতে গত দুইদিনে পুরোনো ভাঙচুর ও নাশকতার মামলায় ঢাকায় বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের ১১২ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। নতুন করে পুলিশের গ্রেফতার অভিযানে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে দলটির তৃণমূলে।

আজকেও নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ জানিয়ে ফিরে যাওয়ার সময় ঢাকা-১৩ আসনে বিএনপি প্রার্থী আবদুস সালামের সঙ্গে থাকা বিএনপি নেতা ওসমান গণি শাজাহানকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তুলে নিয়ে গেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। আজ দুপুরে পুলিশ আগারগাঁওয়ের আইডিবি ভবনের সামনের এলাকা থেকে তাকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে  শেরেবাংলা নগর থানা পুলিশ জানিয়েছে, তারা এমন কাউকে আটক করেনি।

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদকসহ ১৪ নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার গভীর রাতে দৌলতপুর থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে নিজ নিজ বাড়ি থেকে তাদের গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তারকৃত বিএনপি নেতাদের পরিবার সূত্র জানিয়েছে, আজ বৃহস্পতিবার ভোররাত ৪টার দিকে উপজেলার রিফায়েতপুর গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে দৌলতপুর বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক শহীদ সরকার মঙ্গলকে আটক করে পুলিশ। নেতাদের আটক করা হয়েছে তাও জানায়নি পুলিশ। ।

বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, সশস্ত্র প্রতিপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে বাংলাদেশে নির্বাচনী প্রচারণা শুরুতেই বাধাগ্রস্ত হয়েছে। নির্বাচন পূর্ববর্তী সহিংসতায় এরই মধ্যে দু’জন নিহত হয়েছেন বলে বুধবার জানিয়েছে পুলিশ। আহত হয়েছেন অনেকে। সোমবার থেকে নির্বাচনী প্রচারণা ভিত্তিক সহিংসতায় শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। ওই সময় আগামী ৩০ শে ডিসেম্বরের নির্বাচনী প্রচারণায় নেমে পড়েন প্রধান দুই রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা। পুলিশ বলেছে, মঙ্গলবার বিরোধী পক্ষের সঙ্গে উত্তেজনায় আওয়ামী লীগের দু’জন সমর্থক নিহত হয়েছেন। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি। এতে আরো বলা হয়, দক্ষিণাঞ্চলীয় জেলা নোয়াখালিতে ছুরি ও লাঠিসোটা হাতে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে নেতাকর্মীরা।

আওয়ামী লীগই আক্রমণের শিকার হচ্ছে বেশি : এইচ টি ইমাম

তবে, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম  গতকাল নির্বাচন কমিশন অফিসে দেখা করে বলেছেন, নির্বাচনী প্রচার শুরুর পর দেশের বিভিন্ন জায়গায় সহিংস ঘটনায় আওয়ামী লীগই আক্রমণের শিকার হচ্ছে বেশি

বুধবার নির্বাচন কমিশনারদের সঙ্গে বৈঠকের পর ইমাম সাংবাদিকদের বলেন, “আওয়ামী লীগের ওপরই বেশি হামলা হচ্ছে। আমাদের দুইজন নেতাকর্মী নিহত হয়েছেন। তৃণমূলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে আওয়ামী লীগের এমন নেতাকর্মীদের উপর বেছে বেছে আক্রমণ হচ্ছে।”

তিনি অভিযোগ করেন, পটুয়াখালী, ময়মনসিংহ জেলার ফুলপুর, বগুড়া, চুয়াডাঙা, মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইর, মিরপুর, শাহজাদপুর ও নরসিংদীতে বিএনপি নেতাকর্মীরা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালিয়েছে।

নির্বাচন কমিশনারদের সঙ্গে আলোচনায় এসব অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে জানিয়ে এইচ টি ইমাম বলেন, “এই বিষয়টি আমরা নির্বাচন কমিশনকে অবহিত করেছি। কারণ তাদের কাছে অনেকে অন্য ধরনের কথা বলে।”#

পার্সটুডে/ আব্দুর রহমান খান/ বাবুল আখতার/১৩

 

 

ট্যাগ

মন্তব্য