২০১৮-১২-১৫ ১২:৫৬ বাংলাদেশ সময়
  • গতকাল জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন ড. কামাল হোসেন
    গতকাল জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন ড. কামাল হোসেন

শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসে ঢাকার মিরপুর স্মৃতিসৌধে জামায়াতে ইসলামীকে নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়ার ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন গণফোরাম সভাপতি ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেন।

আজ (শনিবার) সংবাদমাধ্যমে পাঠানো প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে তিনি ঘটনাটির বিস্তারিত বর্ণনা করে দুঃখ প্রকাশ করেন। বিজ্ঞপ্তিতে ড. কামাল হোসেন বলেন, “শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস বাংলাদেশের সকল নাগরিকের জীবনে অসামান্য তাৎপর্যপূর্ণ। আমি প্রত্যেক বছরের মতো এবারও শহীদ বুদ্ধজীবীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে মিরপুর স্মৃতিসৌধে গিয়েছি। এই দিনে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছিল, যার মধ্যে আমার অনেক ঘনিষ্ঠ বন্ধুরাও ছিলেন। ১৯৭২-৭৩ সালে বঙ্গবন্ধুর নির্দেশনায় স্বাধীনতাবিরোধী যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের জন্য প্রণীত আইনগুলোর সঙ্গে জড়িত থাকতে পারা আমার কাছে সর্বদাই আবেগ অনুভূতির বিষয়। আমি বিশ্বাস করি, সর্বস্তরের মানুষ শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে শুধুই শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য যান। ১৪ ডিসেম্বর শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে স্মৃতিসৌধের বেদিতে দাঁড়িয়ে আমি বলেছিলাম, আমরা কতো মেধাবী সন্তানদের হারিয়ে তবে স্বাধীনতা পেয়েছি। তখন হঠাৎ করে বেদিতেই আমার কাছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে জামায়াতের অবস্থানের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলো। আমি তাৎক্ষণিক সবিনয়ে বলি, আজকের এই দিনে, যেখানে আমাদের গভীর অনুভূতির বিষয়, এই বিষয়ে এখানে কোনো মন্তব্য করতে চাই না। পুনরায় একই প্রশ্ন তুললে আমি একই মনোভাব ব্যক্ত করি। কিন্তু তৃতীয়বার ভিড়ের মধ্যে থেকে কোথাও অনবরত দুই থেকে তিনবার আমি শুধু ‘জামায়াত জামায়াত’ শুনতে পাই। তখন আমার খুবই খারাপ লেগেছিল। এ বিষয়ে আমি প্রশ্নকর্তাকে থামানোর চেষ্টা করেছিলাম। আমার বক্তব্য যদি কোনোভাবে কাউকে আহত বা বিব্রত করে থাকে, তাহলে আমি আন্তরিকভাবে দুঃখিত।”

বিজ্ঞপ্তিতে ড. কামাল হোসেন আরও বলেন, “সকলে অবগত আছেন যে, আমি সারাজীবন সংবাদক্ষেত্রের স্বাধীনতা ও সাংবাদিকদের অধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে সামিল থেকেছি। আশা করি, জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানরা তাদের জীবনের বিনিময়ে যে ধর্মনিরপেক্ষ বাংলাদেশ বিনির্মানের স্বপ্ন দেখেছিলেন, তা আমরা সকলে মিলে গড়তে সক্ষম হব।”

গতকাল (শুক্রবার) সকালে মিরপুরে শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান বুদ্ধিজীবীদের প্রতি ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন ঐক্যফ্রন্টের নেতারা। সেখান থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে একপর্যায়ে জামায়াত সম্পর্কিত প্রশ্নে ক্ষেপে যান সংবিধানের অন্যতম এই প্রণেতা। তিনি বলেন, শহীদ মিনারে এসব বিষয়ে কোনো কথা তিনি বলবেন না।

এরপরও সাংবাদিকরা প্রশ্ন করতে থাকেন। একজন বলেন, জামায়াতের নিবন্ধন বাতিল হয়েছে। তারপরও তারা ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে নির্বাচন করছে।

এসময় অশীতিপর ড. কামাল ক্ষেপে ওঠে বলেন, ‘প্রশ্নই ওঠে না। বেহুদা কথা বল। কত পয়সা পেয়েছ এই প্রশ্নগুলো করতে? কার কাছ থেকে পয়সা পেয়েছ? তোমার নাম কি? জেনে রাখব তোমাকে। চিনে রাখব। পয়সা পেয়ে শহীদ মিনারকে অশ্রদ্ধা কর তোমরা। শহীদদের কথা চিন্তা কর। চুপ কর। চুপ কর। খামোশ। আশ্চর্য!’

ড. কামালের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন

সাংবাদিকদের হুমকি ও ভয়-ভীতি দেখানোর অভিযোগে গতকাল রাতে  সভাপতি ড. কামাল হোসেনের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলার আবেদন করা হয়েছে।

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) থানায় আবেদনটি করেছেন দৈনিক বাংলাদেশ সময়ের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক ও ফোকলোর স্টাডিস বিভাগের শিক্ষক মিঠুন মোস্তাফিজ।

অভিযোগে মিঠুন মোস্তাফিজ বলেছেন , ‘গতকাল শুক্রবার শহীদ বেদীতে ড. কামাল হোসেনকে আগামী নির্বাচনে জামায়াতের অংশগ্রহণ বিষয়ে প্রশ্ন করা হয়। এ বিষয়ে ঐক্যফ্রন্টের অবস্থান নিয়ে জানতে চাইলে তিনি সাংবাদিকদের সম্মানহানি করেন। এমনকি তিনি সাংবাদিকদের হুমকি ও ভয়-ভীতি দেখান।’

মিঠুন মোস্তাফিজ বলেন, ‘জাতির এ ক্রান্তিকালে ড. কামাল ডিজিটাল ডিভাইসে সরাসরি সম্প্রচাররত অবস্থায় সাংবাদিকদের সম্মানহানি করেছেন এবং ভীতি প্রদর্শন করেছেন। যা একজন সাংবাদিক হিসেবে আমার জন্যও লজ্জাকর।’

মিঠুন মোস্তাফিজের লিখিত অভিযোগটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) হিসেবে গ্রহণ করেছে ইবি থানা।#

পার্সটুডে/ আশরাফুর রহমান/১৫

খবরসহ আমাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সব লেখা ফেসবুকে পেতে এখানে ক্লিক করুন এবং নোটিফিকেশনের জন্য লাইক দিন

ট্যাগ

মন্তব্য