২০১৮-১২-১৫ ১৩:২৩ বাংলাদেশ সময়
  • মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর
    মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অভিযোগ করে বলেছেন, সরকার রাষ্ট্রীয় যন্ত্র ব্যবহারের মাধ্যমে বিরোধীদের নির্যাতন করছে। হামলা-মামলা করে বিএনপিকে নির্বাচনী মাঠ থেকে সরিয়ে দেওয়ার সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হচ্ছে। কিন্তু সরকারের এই উদ্দেশ্য কখনো সফল হবে না।

আজ (শনিবার) বেলা ১১টায় বগুড়া শহরের উডবার্ন পাবলিক লাইব্রেরি মিলনায়তনে দেশের সার্বিক নির্বাচনী পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন। বিএনপির মহাসচিব বলেন, আমরা জনগণকে সঙ্গে নিয়ে নির্বাচনী মাঠে আছি। শেষ পর্যন্ত থাকব। সরকার আবারো একতরফা নির্বাচন করতে চায়। কিন্তু সরকারকে এবার সেই সুযোগ দেওয়া হবে না।

বিএনপির এই নেতা বলেন, দেশে আজ চরম ভয়াবহ অবস্থা বিরাজ করছে। স্বাধীনতার পতাকা উত্তোলনকারী আ স ম রবের ওপর হামলা করা হয়েছে। সংবিধান প্রণেতা ড. কামাল হোসেনও হামলার হাত থেকে রেহাই পাননি। দেশে বর্তমানে নির্বাচনের লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নেই। নির্বাচন কমিশন অসহায়। পুলিশ নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ মানছে না। সরকারের নির্দেশে চলছে পুলিশ প্রশাসন। এরপরও নির্বাচনী মাঠে আছি আমরা। জনগণ আমাদের সঙ্গে আছে।  

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের জন্য আওয়ামী লীগ, জামায়াত ও জাতীয় পার্টিকে সঙ্গে নিয়ে ১৭৩ দিন হরতাল করেছিল উল্লেখ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, তাদের সেই দাবি মেনে নিয়ে বিএনপি তখন তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রতিষ্ঠা করেছিল। সেই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে তিনটি নির্বাচন হয়েছে। নির্বাচনগুলো নিয়ে কেউ কোনো ধরনের প্রশ্ন তোলেনি। অথচ আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করে দিলো। ২০১৪ সালে ভোটারবিহীন নির্বাচন করল।’

আওয়ামী লীগ সরকার কোনো প্রতিশ্রুতি মানছে না মন্তব্য করে তিনি আরো বলেন, ‘বিএনপির নেতাকর্মীদের নামে গায়েবি মামলার তালিকা চাইল। সেই তালিকা দেওয়া হলো। কিন্তু কোনো কাজ হলো না। উল্টো মামলা-হামলা বেড়েই চলছে। প্রতিদিন দলের নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করা হচ্ছে। এতো কিছুর পরও জনগণকে সঙ্গে নিয়ে বিএনপি নির্বাচনে থাকবে। কারণ বিএনপি মনে করে জনগণই সব ক্ষমতার উৎস।’

সংবাদ সম্মেলন রুহুল কবির রিজভী (ফাইল ফটো)

৩০০ আসনেই গণগ্রেফতার চলছে: রিজভী

এদিকে, বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী অভিযোগ করেছেন, সারাদেশের ৩০০ আসনেই গণগ্রেফতার ও ধানের শীষের প্রার্থীদের ওপর আওয়ামী সন্ত্রাসী ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর হামলা হয়েছে।

শনিবার দুপুরে নয়াপল্টনের দলীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন। রিজভী বলেন, আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সারাদেশে এখন পর্যন্ত বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের দেড়শ’ প্রার্থীর উপর আওয়ামী সন্ত্রাসী ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর হামলা হয়েছে। দু’জন প্রার্থীকে কারাগারে আটক রাখা হয়েছে। খালেদা জিয়াসহ বেশ কয়েকজন প্রার্থীকে আইনি জটিলতা সৃষ্টি করে প্রার্থী হওয়া অনিশ্চিত করে রাখা হয়েছে।

রিজভী অভিযোগ করে বলেন, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ড. কামালসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের উপর হামলা হয়েছে। হামলার পর গতকাল বর্ষীয়ান জননেতা ড. কামাল হোসেনের নামে ষড়যন্ত্রমূলক মামলা দায়ের করা হয়েছে। এই মামলা দায়েরের মাধ্যমে সরকার যে বার্তাটি দিল তা নিম্নরুচির।

তিনি বলেন, জাতীয় সংসদের ৩০০ আসনেই বিএনপি প্রার্থীর সমর্থক ও নেতাকর্মীদের ওপর হামলা হয়েছে। পুলিশের উপস্থিতিতেই এই হামলাগুলো সংঘটিত হয়। সব আসনেই বিএনপি প্রার্থীর পোস্টার লাগাতে বাধা দেওয়া হয়েছে, পোস্টার ছিড়ে ফেলা হয়েছে। প্রায় সব প্রচারণায় মাইক ভাঙচুর করা হয়েছে, ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে। ৩০০ আসনেই গণগ্রেফতার চলছে। এসব হামলা, আক্রমণ, গ্রেফতার সিইসির ইঙ্গিতে অথবা প্রশ্রয়ে হয়েছে। এসবের জন্য সিইসির দায় এড়ানোর কোনো সুযোগ নেই। তফসিল ঘোষণার পর যেহেতু নির্বাচনী সব কার্যক্রম কমিশনের উপর চলে আসে সেহেতু সিইসি-ই এর জন্য দায়ী। তার পেছনে কলকাঠি নাড়ছে আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা।#

পার্সটুডে/ আশরাফুর রহমান/১৫

খবরসহ আমাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সব লেখা ফেসবুকে পেতে এখানে ক্লিক করুন এবং নোটিফিকেশনের জন্য লাইক দিন

ট্যাগ

মন্তব্য