২০১৮-১২-১৬ ১৮:০১ বাংলাদেশ সময়
  • নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় পোশাক শ্রমিকদের বিক্ষোভ (ফাইল ফটো)
    নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় পোশাক শ্রমিকদের বিক্ষোভ (ফাইল ফটো)

মজুরি নিয়ে আন্দোলনরত বাংলাদেশে রপ্তানি আয়ের প্রধান খাত তৈরি পোশাক কারখানার শ্রমিকদের ১৭ ডিসেম্বর থেকে কাজে যোগ দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মুজিবুল হক চুন্নু।

শনিবার সচিবালয়ে পোশাক খাতের ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট কোর কমিটির জরুরি সভা শেষে প্রতিমন্ত্রী এই আহ্বান জানান। সভায় মালিক ও শ্রমিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

মুজিবুল হক চুন্নু বলেন, মজুরিতে কোনও অসামঞ্জস্যতা বা দুর্বলতা থাকলে তা সমাধান করা হবে।

প্রসঙ্গত, নতুন ন্যূনতম মজুরিতে বৈষম্য দূর করার দাবিতে গত বেশকিছু দিন গাজীপুর, আশুলিয়া ও নারায়ণগঞ্জে পোশাক কারখানার শ্রমিকরা বিক্ষোভ করে আসছেন। কোথাও কোথাও কারখানা ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটেছে। এই প্রেক্ষাপটে শনিবার সাপ্তাহিক ছুটির দিনে সভায় বসে এ সংক্রান্ত ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট কোর কমিটি।

মুজিবুল হক চুন্নু

গত সেপ্টেম্বর মাসে পোশাক শিল্পের শ্রমিকদের জন্য ন্যূনতম মজুরি ঘোষণা করেছে সরকার। আগের মজুরি থেকে দুই হাজার ৭০০ টাকা বাড়িয়ে নতুন ন্যূনতম মজুরি করা হয়েছে ৮ হাজার টাকা। চলতি  ডিসেম্বর থেকে এই মজুরি কার্যকর হবার কথা। তবে  ন্যূনতম এই মজুরি প্রত্যাখ্যান করেছে পোশাক শিল্পের শ্রমিক সংগঠনগুলো। ন্যূনতম ১৬ হাজার টাকার দাবিতে অনড় সংগঠনগুলো বিক্ষোভ সমাবেশ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে।

গত এক সপ্তাহ ধরে শ্রমিক বিক্ষোভের কারণে আশুলিয়ার ১০০ পোশাক কারখানা বুধবার বন্ধ ছিল। বুধবার থেকেই বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে সাভার, টঙ্গী ও গাজীপুরে। এসব শিল্পাঞ্চলে অবস্থিত পোশাক কারখানার শ্রমিকরা  কাজ বন্ধ করে সর্বনিম্ন মজুরি ৮,০০০ টাকার দাবিতে বিক্ষোভ, সড়ক অবরোধ এবং ভাঙচুর করে।

সাভার, গাজীপুর, টঙ্গী ও হেমায়েতপুরে শ্রমিকদের সঙ্গে শিল্প পুলিশের সংঘর্ষ হয়েছে। এই ঘটনায় ৫০ জনের মতো শ্রমিক আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

বাংলাদেশ গার্মেন্টস শ্রমিক ঐক্য পরিষদের আহ্বায়ক সিরাজুল ইসলাম গণমাধ্যামকে বলেছেন, মালিকদের কথার অস্বচ্ছতার কারণেই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। মালিকরা মুখে মজুরি বোর্ড ঘোষিত ৫,৩০০ টাকা সর্বনিম্ন মজুরি বিবেচনার কথা বললেও এর বিরুদ্ধে আপিল করেছেন। তাই শ্রমিকরা মালিকদের বিশ্বাস করতে পারছেন না। তাঁরা মনে করেন মালিকরা শেষ পর্যন্ত ৫,৩০০ টাকা মজুরিও মানবেন না। ফলে শ্রমিকদের মধ্যে অসন্তোষ দানা বাঁধছে। আর এই অসন্তোষ এবং ক্ষোভ থেকেই তাঁরা আন্দোলন করছেন।

মুশরেফা মিশু

এ প্রসঙ্গে গার্মেন্টস শ্রমিক নেতা মুশরেফা মিশু রেডিও তেহরানকে বলেন, শ্রমিকগণ দাবি করেছিল সর্বনিম্ন ১৬ হাজার টাকা মজুরি, পেয়েছে অর্ধেক টাকা। সে কারণেই তারা ক্ষুব্ধ। তবে আমরা তাদের বুঝিয়ে বলছি অন্তত নির্বাচন পর্যন্ত যেন তারা শান্ত থাকে। আর সরকারের উচিত হবে শ্রমিকদের গ্রেফতার বা মামলা দিয়ে যেন হয়রানি না করা হয়। তাদের দাবি বিবেচনার মতো একটা আশ্বাস সরকারের পক্ষ থেকে দেয়া উচিত।

এদিকে পোশাক কারখানার মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ'র সহ-সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান বলেছেন, যে দামে তাঁরা পোশাক রপ্তানি করেন তাতে তাঁদের পক্ষে এত বেশি মজুরি দেয়া সম্ভব নয়। আর আন্দোলনের নামে ভাঙচুর করে, উৎপাদন বন্ধ করে তাঁদের সক্ষমতা আরো কমিয়ে দেয়া হচ্ছে।

সম্প্রতি বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজের (বিল্স) উদ্যোগে ‘তৈরি পোশাক শিল্পে মজুরি পর্যালোচনা : বাস্তবতা ও করণীয়’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা মত দিয়েছেন যে, বর্তমান সময়ের প্রেক্ষাপটে তৈরি পোশাক শিল্প শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ৮ হাজার ঠাকা ধার্য করা যথাযথ হয়নি

রাজধানীতে আয়েআজিত এ  বৈঠকে বক্তারা বলেছেন, ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধির ক্ষেত্রে মূল মজুরির ২০০৬ সালের ৬৭.৬৯ থেকে কমিয়ে বর্তমানে ৫১.২৫ শতাংশ করা হয়েছে। এতে শ্রমিকরা সর্বক্ষেত্রে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যা কোনো ভাবেই মেনে নেয়া যায় না। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট বিবেচনা করলেও এ মজুরি কম বলে তারা অভিমত ব্যক্ত করেন।

তারা বলেন, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা, ভিশন-২০২১, সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা এবং সর্বোপরি বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত করতে হলে পোশাক শিল্প শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরিকে মানসম্মত পর্যায়ে নেয়ার প্রয়োজন রয়েছে।

মূল মজুরির ওপর যেহেতু অন্যান্য সুবিধা বৃদ্ধি নির্ভর করে সেহেতু এটি গ্রহণযোগ্য পর্যায়ে নেয়া প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে মূল মজুরি ৭০ শতাংশ বৃদ্ধির প্রয়োজন রয়েছে বলে অভিমত ব্যক্ত করেন বক্তারা। তারা বলেন, সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ের মধ্যে যে মজুরি বৈষম্য রয়েছে তাও দূর করতে হবে।#

পার্সটুডে/আবদুর রহমান খান/আশরাফুর রহমান/১৬

খবরসহ আমাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সব লেখা ফেসবুকে পেতে এখানে ক্লিক করুন এবং নোটিফিকেশনের জন্য লাইক দিন

ট্যাগ

মন্তব্য