২০১৯-১২-৩১ ১০:৪২ বাংলাদেশ সময়
  • রোববার ভোট দেয়ার পর দুই আঙুল তুলে বিজয়ের চিহ্ন দেখান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা
    রোববার ভোট দেয়ার পর দুই আঙুল তুলে বিজয়ের চিহ্ন দেখান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

বাংলাদেশের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। এই বিজয়ের মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা টানা তৃতীয়বারের মতো প্রধানমন্ত্রী হওয়ার রেকর্ড গড়তে যাচ্ছেন।

গতকাল (রোবার) অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ২৯৯টি আসনের মধ্যে ২৯৮টির বেসরকারি ফলাফল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। জোটগতভাবে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট পেয়েছে ২৮৮ আসন। আর বিএনপি নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট পেয়েছে মাত্র ৭টি আসন।

ঘোষিত ফল অনুযায়ী ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ এককভাবে পেয়েছে ২৫৯টি আসন। এইচ এম এরশাদের জাতীয় পার্টি (জাপা) জিতেছে ২০টি আসন। বিএনপি পেয়েছে মাত্র ৫টি আসন। এছাড়া, ওয়ার্কার্স পার্টি জিতেছে ৩টি আসন। জাসদ, বিকল্পধারা ও গণফোরাম পেয়েছে ২টি করে আসন। তরিকত ফেডারেশন ও জেপি পেয়েছে একটি করে আসন। স্বতন্ত্র প্রার্থীরা পেয়েছেন ৩টি আসন।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মহাজোট ও ১৪ দলের নেতৃত্বে থাকা আওয়ামী লীগ মোট ৩০০ আসনে প্রার্থী দেয়। এর মধ্যে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ২৬০, ১৪ দলের ১০ এবং মহাজোটের ৩০ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। জাতীয় পার্টি (এরশাদ) মহাজোটের শরিক হিসেবে ২৬টি আসনে লাঙ্গল প্রতীকে ও জেপি-মঞ্জু একটি আসনে বাইসাইকেল প্রতীকে নির্বাচনে অংশ নেয়। মহাজোটে থাকা অন্য সব প্রার্থীর প্রতীক ছিল নৌকা।

নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীন ভোটের দাবিতে ২০১৪ সালের নির্বাচন বর্জনকারী দল বিএনপি ১০ বছর পর দলীয় সরকারের অধীন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেয়। ১০ বছর পর অংশগ্রহণমূলক এই নির্বাচনে গতকাল ২৯৯টি আসনে ভোট হয়। একজন প্রার্থী মারা যাওয়ায় গাইবান্ধা-৩ আসনে আগেই ভোট গ্রহণ স্থগিত করা হয়। সেখানে পরে ভোট নেওয়া হবে। তিনটি কেন্দ্রের ভোট স্থগিত হওয়ায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের ফল গতকাল স্থগিত করা হয়।

বিএনপির অভিযোগ, দলটিকে শুরু থেকেই মাঠে নামতে নামতে দেওয়া হয়নি। গতকাল ভোটের দিনও তাদের এজেন্টদের বের করে দিয়ে নজিরবিহীন কারচুরি করা হয়েছে। ভোট চলাকালেই বিএনপি, জাতীয় পার্টিসহ বিভিন্ন দলের ৭৬ জন প্রার্থী ভোট বর্জন করেন। ১২ জেলায় সংঘাতে নিহত হন ১৭ জন।

সংবাদ সম্মেলনে ড. কামাল হোসেন

চূড়ান্ত ফল ঘোষণার আগেই ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নির্বাচনের ফলাফল প্রত্যাখ্যান করেছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে পুনর্নির্বাচনের দাবি করেছে রাজনৈতিক জোটটি।

অন্যদিকে, বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল ২২১ আসনে কারচুপির অভিযোগ এনে বলেছেন, ‘আমাদের কথাই প্রমাণিত হল, দলীয় সরকারের অধীনে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হতে পারে না।’

বাম গণতান্ত্রিক জোটও একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফলকে প্রত্যাখ্যান করেছে। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বাম জোটের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ‘গোটা দেশকে অবরুদ্ধ করে ভোটারদের ভোটাধিকার হরণ করে আরও একবার যে জবরদস্তিমূলক প্রহসনের নির্বাচন মঞ্চস্থ করা হল। বাম গণতান্ত্রিক জোট এই নির্বাচন ও নির্বাচনের ফলাফলকে ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করছে।’

তবে, আওয়ামী লীগের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কো-চেয়ারম্যান এইচ টি ইমাম বলেছেন, ‘দলীয় সরকারের অধীনে যে নির্বাচন শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু হওয়া সম্ভব তা এই নির্বাচনের মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে।’

৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় নির্বাচনকে ‘ঐতিহাসিক’ উল্লেখ করে এইচ টি ইমাম বলেন, ‘নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও নিরপেক্ষ হয়েছে। বিদেশি ও স্থানীয় পর্যবেক্ষকরাও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ এবং স্বতঃস্ফূর্ত ভোটের জন্য তাদের সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।’

এর আগে, ২০১৪ সালে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রধান বিরোধীদল বিএনপির বর্জনের মধ্যে ৩০০ সংসদীয় আসনের মধ্যে ২৬৩টি আসনে জয়লাভ করে আওয়ামী লীগ। যার মধ্যে ১৫৪টি আসনের প্রার্থীদের বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজয়ী ঘোষণা করা হয়।

২০০৮ সালে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট ২৬৩টি আসনে জয়লাভ করেছিল। এর মধ্যে আওয়ামী লীগ পায় ২৩০টি আসন। ওই নির্বাচনে বিরোধীদলে থাকা বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় ঐক্যজোট পেয়েছিল ৩৩টি আসন। আর স্বতন্ত্র প্রার্থীরা জয়লাভ করে ৪টি আসনে।#

পার্সটুডে/আশরাফুর রহমান/৩১

খবরসহ আমাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সব লেখা ফেসবুকে পেতে এখানে ক্লিক করুন এবং নোটিফিকেশনের জন্য লাইক দিন

ট্যাগ

মন্তব্য