২০১৯-০১-১১ ১৮:৪৯ বাংলাদেশ সময়

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সমুদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়বে, এতে ক্ষতির মুখে পড়বে বাংলাদেশ। পরিবেশ বিপর্যয়ের ক্ষতি এড়াতে এখনই উদ্যোগ না নেয়া হলে চরম মূল্য দিতে হতে পারে। এমন আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন পরিবেশ কর্মী ও বিশেষজ্ঞরা।

'বাংলাদেশ বদ্বীপ পরিকল্পনা ২১০০' নিয়ে, দু’দিনের এক বিশেষ সম্মেলনে এমন মত দেন বিশেষজ্ঞরা। সম্মেলনে পরিকল্পনাবিদ, বিশেষজ্ঞ, পরিবেশ কর্মী, বিপর্যয়ের সম্ভাব্য শিকার ও ক্ষতিগ্রস্ত উপকূল, হাওড় ও পাহাড়ি মানুষসহ বিভিন্ন পেশার প্রতিনিধিরা অংশ নিচ্ছেন।

আয়োজকরা বলছেন, যথাযথভাবে পরিকল্পনা গ্রহণ ও তার বাস্তবায়ন না হলে 'বাংলাদেশ বদ্বীপ পরিকল্পনা ২১০০' দেশের জনগণের উপকারে আসবে না। তাই বাংলাদেশ সরকারের ব্যাপক এবং সুদূরপ্রসারী এ পরিকল্পনায় জলবায়ু পরিবর্তনের আলোকে বাংলাদেশের পানি এবং ভূ-সম্পদের উত্তম ব্যবহারের একটি পূর্ণাঙ্গ কর্মকৌশল থাকা জরুরি। পরিকল্পনায় পার্বত্য চট্টগ্রাম, বরেন্দ্রভূমি, হাওর অঞ্চলসহ প্রায় সমগ্র বাংলাদেশের পানি সম্পদ, কৃষি, মৎস্য, বনায়ন, নৌ পরিবহনসহ অর্থনীতির ব্যাপক অংশ অন্তর্ভুক্ত।

বদ্বীপ পরিকল্পনার অধীনে গৃহিত বিভিন্ন প্রকল্পে প্রতি বছর দেশের মোট অভ্যন্তরীণ উৎপাদনের ২.৫ শতাংশ ব্যয় করার প্রস্তাব করা হয়েছে। ২০৩০ সনে এর পরিমাণ দাঁড়াবে ৩০ বিলিয়ন ডলার। প্রস্তাবিত বিনিয়োগের এই আকার থেকেই এই পরিকল্পনার আকাঙ্ক্ষা এবং গুরুত্ব সম্পর্কে ধারণা পাওয়া সম্ভব। তাই গুরুত্বপূর্ণ জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট এ পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে সবার অংশগ্রহণ জরুরি বলে মনে করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভুগোল ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. নজরুল ইসলাম।

তার মতে, বাংলাদেশ জনবহুল ছোট একটি দেশ। বর্তমানে জনসংখ্যা ১৬ কোটির ওপরে। ২০৫০ সালে জনসংখ্যা হবে ২৫ কোটির ওপরে। তাই বদ্বীপ পরিকল্পনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ ধরনের বাস্তুপরিকল্পনা সুচিন্তিত ও গবেষণামূলক হওয়া জরুরি।

যথাযথ গবেষণার মাধ্যমেই ডেল্টা প্ল্যান বা বদ্বীপ পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ড. শামসুল আলম। তিনি জানান, আলাদাভাবে উল্লেখ করা না হলেও পুরো বাংলাদেশই এ পরিকল্পনায় আওতায় আনা হয়েছে। এ নিয়ে দীর্ঘ গবেষণাপত্র প্রকাশ করা হয়েছে। এখন বদ্বীপ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের প্রধান পদক্ষেপ হলো পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা। তাই অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় ডেল্টা প্ল্যান, এসডিজি ও বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার সমন্বয়ে প্রণয়ন করা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভৌগলিক পরিবেশসহ আবহাওয়া অনুকূলে থাকলেই সভ্যতার বিকাশ ঘটে। উন্নত দেশগুলোর কারণে বাড়ছে পরিবেশ দুষণ; দেশেও নানাভাবে দুষিত হচ্ছে পরিবেশ। তাই সার্বিকভাবে ডেল্টাপ্ল্যান প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে সবপক্ষের সম্পৃক্ততা জরুরি।#

পার্সটুডে/শামস মণ্ডল/ মো.আবুসাঈদ/১১

খবরসহ আমাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সব লেখা ফেসবুকে পেতে এখানে ক্লিক করুন এবং নোটিফিকেশনের জন্য লাইক দিন  

ট্যাগ

মন্তব্য