২০১৯-০১-১২ ১৮:০০ বাংলাদেশ সময়
  • গার্মেন্টস শ্রমিকদের বিক্ষোভ
    গার্মেন্টস শ্রমিকদের বিক্ষোভ

বাংলাদেশের পোশাক শ্রমিকরা তাদের নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের দাবিতে আজও রাজধানী ঢাকা ও আশে-পাশের শিল্প এলাকায় সড়ক অবরোধ করেছে এবং পুলিশের সাথে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়েছে।

সকাল থেকে রাজধানীর মিরপুর ও ভাষানটেক এলাকায় এবং আশুলিয়া ও গাজিপুরে সড়কে অবস্থান নেয় বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা। শ্রমিকদের বিক্ষোভ চলাকালে এসব এলাকায় যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকে এবং তাতে দারুণ জনভোগান্তির সৃষ্টি হয়। এ সময়  কয়েকটি বাস, প্রাইভেট কার ও মোটর সাইকেল ভাঙচুর করা হয়েছে। আশুলিয়া এলাকায় পুলিশ শ্রমিকদের ওপর লাঠিচার্জ করেছে এবং তাদের ছত্রভঙ্গ করতে জলকামান ব্যবহার করেছে।

ইন্ধনদাতাদের খুঁজে বের করব: আছাদুজ্জামান মিয়া

এদিকে, টানা এক সপ্তাহ ধরে চলমান পোশাক শ্রমিকদের বিক্ষোভের প্রেক্ষাপটে আজ ঢাকা মেট্রোপলিটান পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ‘ব্যক্তিগত বা গোষ্ঠীগত স্বার্থে এইভাবে রাস্তার ওপর বিশৃঙ্খলা করে কেউ জনগণের দুর্ভোগ সৃষ্টি করবেন না। আমরা খুঁজে বের করব এ পেছনে ইন্ধনদাতা কারা। তাঁদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'  

আছাদুজ্জামান মিয়া

উল্লেখ্য, বেতন কাঠামোতে বৈষম্য দূর করাসহ বিভিন্ন দাবিতে ৬ জানুয়ারি থেকে থেকে আন্দোলন করছে পোশাক শ্রমিকরা। শ্রমিক বিক্ষোভ নিরসনে গত ৮ জানুয়ারি শ্রম ভবনে পোশাক শ্রমিক-মালিক ও সরকারের ত্রিপক্ষীয় বৈঠক হয়। সেখানে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, গত ১ ডিসেম্বর থেকে কার্যকর হওয়া পোশাক শ্রমিকদের বেতন কাঠামোতে কোনো বৈষম্য বা অসঙ্গতি থেকে থাকলে চলতি জানুয়ারি মাসের মধ্যেই তা সংশোধন করা হবে। ফেব্রুয়ারিতে সংশোধিত গ্রেডিংয়েই বেতন পাবে শ্রমিকরা।

সরকারের পক্ষ থেকে একমাসের মধ্যে সমস্যা সমাধানের অশ্বাস দেয়া সত্ত্বেও আজ শনিবারও রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে, সাভার, আশুলিয়া ও গাজীপুরের গার্মেন্ট শিল্প অধ্যুষিত এলাকায় শ্রমিকরা বিক্ষোভ করেছেন।

জানা গেছে, মিরপুর এলাকায় অবস্থিত বিভিন্ন কারখানার শ্রমিকরা সকাল থেকেই   রাস্তায় নেমে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করতে থাকে। ফলে, মিরপুর ১৪, মিরপুর ১০, শ্যাওড়াপাড়া, মিরপুর ১, মিরপুর বাংলা কলেজ ও টেকনিক্যাল মোড়ে – এসব রাস্তায় যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে দুর্ভোগে পড়ে  যাত্রীসাধারণ।

সাভারে বিক্ষোভ (ফাইল ফটো)

ওদিকে, আশুলিয়ায় টানা ষষ্ঠ দিনের মতো আশুলিয়ায় জামগড়া এলাকায় বিক্ষোভ করেছে তৈরি পোশাক শ্রমিকরা। এ সময় শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের দফায় দফায় সংঘর্ষ ও ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ জলকামান টিয়ারশেল ব্যবহার ও লাঠিচার্জ করে শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করেন। তবে শ্রমিকরা পুলিশের ধাওয়া খেয়ে বিক্ষিপ্তভাবে মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে প্রায় ১০টি গাড়িতে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে ভাঙচুর চালায়। সকাল ৯ টা থেকে বেলা ১১ টা পর্যন্ত প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষে ১০ জন শ্রমিক আহত হয়। এ সময় মহাসড়কে যান চলাচল বিঘ্ন ঘটে।

একপর্যায় শ্রমিকরা বাইপাইল-আব্দুল্লাহপুর সড়ক অবরোধের চেষ্টা করে। এসময় পুলিশ বিক্ষুব্ধ শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করতে টিয়ারশেসেল ও জলকামান ব্যবহার করে এবং লাঠিচার্জ করে। শিল্প পুলিশের এসপি সানা শামিনুর রহমান জানান,  বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা প্রায় দশটি গাড়ি ভাঙচুর করে। এ সময় আমরা তাদেরকে ছত্রভঙ্গ করে দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনি। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। শ্রমিকরা যেন পুনরায় সড়ক অবরোধের চেষ্টা করতে না পারে সেজন্য অতিরিক্ত পুলিশ ও ৮ প্লাটুন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে।#

পার্সটুডে/আবদুর রহমান খান/আশরাফুর রহমান/১২

 

ট্যাগ

মন্তব্য