২০১৯-০২-২০ ১৯:১৯ বাংলাদেশ সময়
  • গ্রামীণফোনের বিজ্ঞাপন ও প্রচারণা কার্যক্রমে বিটিআরসির বিধি-নিষেধ

বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় মোবাইল অপারেটর গ্রামীণফোনের ব্যবসায়িক প্রভাব নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রমে কিছু বিধি-নিষেধ আরোপ করেছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা- বিটিআরসি।

আরোপিত বিধি-নিষেধ অনুযায়ী, গ্রামীণফোন কোনো মাধ্যম ব্যবহার করে দেশব্যাপী কোনো ধরনের বাণিজ্যিক প্রচারণা চালাতে পারবে না। বিটিআরসির নিষেধাজ্ঞায় বলা হয়েছে, নতুন সেবার (প্যাকেজ, অফার, কলরেট) তথ্য জানিয়ে কোনো মাধ্যমে বিজ্ঞাপন দিতে পারবে না গ্রামীণফোন।

গ্রামীণ ফেনের গ্রাহকসংখ্যা মোট গ্রাহকের ৪০ ভাগের বেশি। এছাড়া অর্জিত রাজস্ব আয়ের দিক থেকেও বাজারের মোট রাজস্বের ৪০ ভাগের বেশি। এই এ দুটি কারণ দেখিয়ে বিটিআরসি কর্তৃপক্ষ গত১০ ফেব্রুয়ারি গ্রামীণফোনকে এসএমপি (সিগনিফিকেন্ট মার্কেট পাওয়ার) বলে ঘোষণা করে।

বিটিআরসি কর্তৃপক্ষ বলেছে, নতুন এ সিদ্ধান্ত পহেলা মার্চ থেকে কার্যকর হবে এবং এজন্য গ্রামীণফোনকে করণীয় কিংবা বর্জনীয় সম্পর্কে ১৫টি বিষয় জানিয়ে দেয়া হয়েছে। এ সিদ্ধান্তের ফলে বাজার নিয়ন্ত্রণে কোম্পানিটির একচেটিয়া ক্ষমতা হ্রাস পাবে। অন্যান্য কোম্পানির ক্ষেত্রে বাজারে টিকে থাকার পথ সহজ হবে।

গত সোমবার বিটিআরসির পক্ষ থেকে গ্রামীণ ফোনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার (সিইও) কাছে এ সংক্রান্ত চিঠি পাঠিয়ে জানিয়ে দেয়া হয়েছে, অন্যকোনো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে স্বতন্ত্র এবং একক স্বত্বাধিকার চুক্তি করা যাবে না। কোনোভাবেই মাসে কল ড্রপের সর্বোচ্চ হার ২ শতাংশের বেশি হতে পারবে না।

এছাড়া, অন্য অপারেটর থেকে কেউ গ্রামীণে এলে এতদিন তাকে তিন মাস গ্রামীণের সাথেই থাকতে হতো। এখন এ ধরণের গ্রাহকের জন্য গ্রামীণের লকিং পিরিয়ড হবে তিন মাসের বদলে একমাস।

বিটিআরসি মুখপাত্র জাকির হোসেন খান বলছেন, "আমরা একটা মার্কেট ব্যালেন্স করার জন্য, বিশেষ করে টেলিযোগাযোগ খাতকে সুশৃঙ্খল, প্রতিযোগিতামূলক ও সবার জন্য সমান করার জন্য এ পদক্ষেপ নিয়েছি।"

তবে, বিটিআরসির চেয়ারম্যান জহুরুল হক সাংবাদিকদের বলেন, গ্রামীণফোন সেবার ক্ষেত্রে তাদের গুণগত মান বজায় রাখতে পারছে না। এ কারণে তাদের আর কোনো বিজ্ঞাপন দিতে দেওয়া হবে না। মোবাইল ফোনের সেবার মান নিশ্চিত করতে কমিশন প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। কোয়ালিটি অব সার্ভিস রেগুলেশন অনুযায়ী, ইতোমধ্যে সেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে অপারেটরগুলোকে বিভিন্ন নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে। সেবার মানের বিষয়ে কমিশনের নির্দেশনা অমান্য করার কোনো সুযোগ নেই। এ ক্ষেত্রে জরিমানা ও শাস্তির বিধানও রয়েছে।

ওদিকে, গ্রামীণফোন জানিয়েছে, তারা বিটিআরসির নির্দেশনা পেয়েছে তবে তারা মনে করে কোনো প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায়িক প্রবৃদ্ধি, উদ্ভাবন কিংবা বিনিয়োগ করার ক্ষমতা সীমাবদ্ধ করা উচিত নয়।

তবে তরঙ্গ ব্যবহারের দিক থেকে কোনো কোম্পানিই ৪০ ভাগ অতিক্রম করতে পারেনি। তাই গ্রাহক ও রাজস্ব আয়ের ভিত্তিতে এসএমপি ঘোষণা করা হয় গ্রামীণফোনকে।

জানা গেছে, বাংলাদেশে এখন মোবাইল ফোনের গ্রাহক সংযোগ আছে ১৫ কোট ৩০ লাখের মতো এবং এর মধ্যে ৪৬ শতাংশই গ্রামীণফোনের। আর মোট রাজস্বের ৫০ ভাগেরও বেশি

নরওয়ের বহুজাতিক কোম্পানি টেলিনরের মালিকানাধীন গ্রামীণফোন বাংলাদেশে একমাত্র কোম্পানি যারা সারাদেশে তথ্য সঞ্চালনের জন্য অপটিক্যাল ফাইবার নেটওয়ার্ক আছে। যেটা তারা ১৯৯৭ সালে রেলওয়ের কাছ থেকে নিয়েছিল।

পরে এটা সম্প্রসারণ করা হয় কিন্তু অন্য অপারেটররা সে সুযোগ পায়নি। ফলে টেলিযোগাযোগ খাতে অসম পরিস্থিতি তৈরি হয়। এ কারণে, ব্যবসা পরিচালনায় জিপির খরচ অন্যদের তুলনায় অনেক কম।#

পার্সটুডে/আবদুর রহমান খান/আশরাফুর রহমান/২০

খবরসহ আমাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সব লেখা ফেসবুকে পেতে এখানে ক্লিক করুন এবং নোটিফিকেশনের জন্য লাইক দিন  

 

 

ট্যাগ

মন্তব্য