২০১৯-০৯-১০ ১৬:০৮ বাংলাদেশ সময়
  • আলোচনা সভা ও তাজিয়া মিছিলের মাধ্যমে বাংলাদেশে আশুরা পালিত

আজ হিজরী পঞ্জিকা হিসেবে ১০ মহররম বা পবিত্র আশুরা। কারবালার যুদ্ধে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) এর দৌহিত্র ইমাম হোসেনের (আ.) শাহাদাতের এ দিনটি বিশ্বব্যাপী শোক দিবস পালন করে থাকেন মুসলিম সম্প্রদায়। এ দিনটিতে কারবালার বিয়োগাত্মক সেই ঘটনাকে স্মরণ করে আলোচনা সভা, তাজিয়া মিছিলসহ নানা কর্মসূচি পালন করা হয়।

দিবসটি পালন উপলক্ষে মঙ্গলবার রাজধানীর পুরান ঢাকার হোসেনি দালানে ইমামবাড়া থেকে বের হয় ঐতিহ্যবাহী তাজিয়া মিছিল। মহানগরীর অন্যান্য ইমামবাড়া থেকেও মিছিল এসে যোগ দেয় হোসেনি দালানের মূল মিছিলে। সকাল ১০টায় হোসেনি দালানের ইমামবাড়া থেকে বের হয়ে সম্মিলিত মিছিলটি পলাশী-আজিমপুর-নিউমার্কেট-সায়েন্সল্যাব মোড় ঘুরে ঝিগাতলা মোড়ে ধানমন্ডি লেকের পাড়ে গিয়ে শেষ হয়।

তাজিয়া মিছিলে ‘হায় হোসেন, হায় হোসেন’ মাতমে বুক চাপড়ে ফোরাত তীরের কারাবালার করুণ ঘটনাকে স্মরণ করছেন মিছিলে অংশগ্রহণকারী কিশোর-যুবা ও প্রবীণেরা। অংশগ্রহণকারীদের অনেকের পরনেই ছিল কালো পাজামা-পাঞ্জাবি। তাদের হাতে হাতে ছিল ঝালর দেওয়া লাল, কালো, সবুজ ঝাণ্ডা।

এদিকে, আশুরা উপলক্ষে আজ ঢাকার বাইরে বিভাগীয় ও জেলা শহর এবং বিভিন্ন ইমামবাড়ায় ধর্মীয় অলোচনা সভা, অনাহারীদের মাঝে খাদ্য পরিবেশন ও আশুরার মিছিল আয়োজন করা হয়। 

এ প্রসঙ্গে বিভাগীয় শহর খুলনা ইমামবাড়ার উদ্যোক্তা মাওলানা ইব্রাহিম রেডিও তেহরানকে জানান, পর্যাপ্ত সরকারি নিরাপত্তার মাঝে বিপুল সংখ্যক নারী-পুরুষের অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে তাদের তাজিয়া মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। 

মানিকগঞ্জের শতাব্দী প্রাচীন গড়পাড়া ইমামবাড়ি এবারও যথাযোগ্য প্রথম মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে পবিত্র আশুরা উদযাপনের উদ্যোগ নিয়েছে। আশুরা উপলক্ষে ১০ দিনব্যাপী কার্যক্রম হাতে নিয়েছে গড়পাড়া ইমামবাড়ি যা মহররমের দিন থেকে (১ সেপ্টেম্বর) থেকে শুরু হয়েছে। সেখানে ইফতার ও মাগরিবের নামাযের পর আশুরার গুরুত্ব, তাৎপর্য ও মর্যাদা সম্পর্কে এক শোক সভা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। গড়পাড়া ইমামবাড়ি দরবার শরীফের পীর ও বাংলাদেশ পাক পাঞ্জাতন অনুসারী পরিষদের সভাপতি শাহ্ মোখলেছুর রহমান সভায় সভাপতিত্ব করেন।

দিবসটির তাৎপর্য ব্যাখ্যা করে জাতীয় তফসির পরিষদ, বাংলাদেশ-এর চেয়ারম্যান মাওলানা আহমেদ আবদুল কাইউম রেডিও তেহরানকে বলেন, কারবালার শহীদদের আত্মত্যাগের অন্যতম শিক্ষা হচ্ছে যে, ইমাম হোসেন অন্যায়ের কাছে মাথানত না করে, সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার জন্য লড়াই করেছেন এবং জীবন দিয়েছেন। তার এ শিক্ষাকে ধারণ করে প্রতিটি ঈমানদার মুসলমানের উচিত আজকের রাষ্ট্র ও সমাজ ব্যবস্থায় যে অন্যায় ও জুলুমের শাসন কায়েম করা হয়েছে তার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়া এবং লড়াই করা।#

পার্সটুডে/আব্দুর রহমান খান/এমবিএ/আশরাফুর রহমান/১০

খবরসহ আমাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সব লেখা ফেসবুকে পেতে এখানে ক্লিক করুন এবং নোটিফিকেশনের জন্য লাইক দিন

 

 

ট্যাগ

মন্তব্য