২০১৯-০৯-১১ ১৪:১৭ বাংলাদেশ সময়
  • মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন মির্জা ফখরুল ইসলাম
    মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন মির্জা ফখরুল ইসলাম

ভারতের অসমে জাতীয় নাগরিক পঞ্জির (এনআরসি) চূড়ান্ত তালিকা থেকে বাদপড়া ১৯ লাখ মানুষকে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেয়ার যে হুমকি বিজেপির পক্ষ থেকে দেয়া হচ্ছে- তাকে ‘গভীর চক্রান্ত’ হিসেবে দেখছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

আজ (বুধবার) রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে ‘খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসা নিশ্চিত ও মুক্তির দাবিতে’ আয়োজিত এক মানববন্ধনে তিনি বলেন, ‘আজ আসাম থেকে হুমকি দেওয়া হচ্ছে, অনুপ্রবেশকারীদের খুঁজে বের করে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হবে। আমরা পরিষ্কার ভাষায় বলতে চাই, স্বাধীনতার পরে কোনো বাংলাদেশি কখনো ভারতে যায়নি। বাংলাদেশকে আরও বিপদে ফেলতে এটা নিয়ে গভীর চক্রান্ত শুরু হয়েছে।’

মানববন্ধনে রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে সরকারের অবস্থানের সমালোচনা করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘সরকার রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান করতে পারছে না। কারণ, তাদের সে বৈধতা নেই, সাহস নেই। নতজানু পররাষ্ট্রনীতির কারণে তারা এ সমস্যার সমাধান করতে পারছে না।’

দেশে ভয়াবহ সংকটে রয়েছে বলে মন্তব্য করে মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, দেশে একদলীয় শাসন ভর করেছে। জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নেয়া হয়েছে। বিচারব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। সবমিলিয়ে বিপর্যয়ের মুখে মাতৃভূমি। এই সংকট থেকে উত্তরণে দল-মত, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে একটি বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য দরকার।

খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবি করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী খালেদা জিয়া খুবই অসুস্থ। তাকে মিথ্যা মামলায় সাজা দিয়ে আটকে রাখা হয়েছে। অবিলম্বে তার মুক্তি দিতে হবে।

খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য আরও কর্মসূচি দেয়া হবে জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, আজকে সবার চাওয়া একটি, সেটি হচ্ছে গণতন্ত্রের নেত্রী খালেদা জিয়ার মুক্তি। সেজন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। মাঠে নামতে হবে। আন্দোলন করতে হবে।

মানববন্ধনে বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ অভিযোগ করেন, বেগম জিয়া দুটি মিথ্যা মামলায় বন্দী। রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের কারণে  বিচারকরা মুক্ত মনে কাজ করতে পারছে না।  এ কারণে আইনি প্রক্রিয়ার বেগম জিয়াকে মুক্ত করা যাচ্ছে না।

তিনি বলেন, আমরা আইনি লড়াই চালিয়ে যাব; কিন্তু আমাদেরকে একইসাথে ঐক্যবদ্ধভাবে দেশব্যাপী আন্দোলনের কর্মসূচি দিতে হবে। কারণ খালেদা জিয়ার মুক্তি একমাত্র রাজপথেই আন্দোলনের মাধ্যমেই আমরা অর্জন করতে পারি। অন্যথায় সম্ভবপর হবে না।

মানবন্ধনে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, নজরুল ইসলাম খান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জয়নুল আবদিন ফারুক, যু্গ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকনসহ বিএনপির কেন্দ্রীয়, মহানগর ও অঙ্গসংগঠনের নেতারা অংশ নেন।#

পার্সটুডে/আশরাফুর রহমান/আবদুর রহমান খান/১১

 

ট্যাগ

মন্তব্য