২০১৯-০৯-১১ ২০:২৬ বাংলাদেশ সময়
  • রংপুর-৩ আসনের উপনির্বাচন: রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন হিসাব-নিকাশ

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলীয় জেলা রংপুর-৩ আসনের উপনির্বাচনে বাছাইপর্ব পার হবার পর সেখানকার রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এ নিয়ে দেশের প্রধান প্রধান রাজনৈতিক দলের মধ্যেও একটা নতুন হিসাব-নিকেশ শুরু হয়েছে। 

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদের মৃত্যুতে শূন্যঘেষিত রংপুর সদর আসনের উপনির্বাচনে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে আজ। আজ (বুধবার) রংপুরের আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা ও রিটার্নিং অফিসার জিএম শাহাতাব উদ্দিন যাচাই-বাছাই শেষে ন’জন প্রার্থীর মধ্যে সাত জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ বলে ঘোষণা দেন।

মনোনয়নপত্র বাছাই শেষে বিএনপির রিটা রহমান, আওয়ামী লীগের রেজাউল করিম রাজু, জাপার শাদ এরশাদ, জাতীয় পার্টির বিদ্রোহী প্রার্থী এরশাদের ভাতিজা আসিফ শাহারিয়ার, এনপিপির শফিউল আলম, গণফ্রন্টের কাজী শহিদুল্লা এবং খেলাফত মজলিসের তৌহিদুর রহমান রাজুসহ সাত জনের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়।

অন্যদিকে দেড়শ’ কোটি টাকার বেশি ঋণ খেলাপি হওয়ায় বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী কাওছার জামান বাবলা ও ঋণ খেলাপরি অভিযোগে বাংলাদেশ কংগ্রেস দলের প্রার্থী একরামুল হকের মনোনয়ন বাতিল ঘোষণা করা হয়।

রংপুর-৩ আসটি বরাবরই জাতীয় পার্টির নেতা এরশাদের দখলে থাকলেও এবার ক্ষমতাসীন জোটের প্রধান শরিক আওয়ামী লীগ তাদের নৌকার প্রার্থী মনোনয়ন দিয়েছে। তবে জাতীয় পার্টি প্রস্তাব দিলে একক প্রার্থীর বিষয়টি বিবেচনা করা হবে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। বুধবার সচিবালয় সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এ কথা জানান।

অ্যাডভোকেট রেজাউল করিম

এ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগ প্রার্থী অ্যাডভোকেট রেজাউল করিম বলেছেন, এ আসনে রংপুরবাসী স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদেরই দেখতে চায়। তবে বিএনপি প্রার্থী রিটা রহমান আশংকা প্রকাশ করেছেন, নির্বাচনে কারচুপি করে এবারও ফলাফল পাল্টে দেয়ার চেষ্টা হতে পারে। 

জাতীয় পার্টির বিদ্রোহী প্রার্থী এরশাদের ভাতিজা আসিফ শাহরিয়ার জানিয়েছেন, তার চাচা জিএম কাদের ও চাচী রওশন সাদ এরশাদকে সমর্থন দিলেও রংপুরবাসী কাকে সমর্থন দেয় সেটা ৫ তারিখের নির্বাচনেই দেখা যাবে।

এদিকে, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা নির্বাচনসহ রংপুর-৩ আসনের প্রার্থী নিয়ে অনৈক্য দেখা দিয়েছে রংপুর জেলা জাতীয় পার্টিতে। জিএম কাদের ও রওশন এরশাদের বিরোধ দৃশ্যত মিটে গেলেও রংপুর-৩ আসনের উপ নির্বাচনে জাতীয় পার্টির প্রার্থিতা নিয়ে নেতাকর্মীদের মাঝে ক্ষোভ ক্রমেই তীব্রতর হচ্ছে।   

জাতীয় পার্টির তৃণমূলের নেতাকর্মী ছাড়াও সাধারণ ভোটারদের মতে, দলের চেয়ারম্যান এইচ, এম এরশাদ এই আসনের এমপি হওয়ায় প্রায় দুই দশক ধরে তারা এমপিকে কাছে পান না। বিভিন্ন সময় বিষয় নিয়ে এমপি’র সুপারিশ কিংবা অন্য কোন প্রয়োজনে এমপি’র ধারে কাছেও তাদের যাওয়া সম্ভব হয়নি। এতদিন দলের চেয়ারম্যান এরশাদ এই আসনের প্রার্থী হওয়ায় তারা এ বিষয়টি মেনে নিয়েছেন। কিন্তু তার অবর্তমানে তারা এ বিষয়টিতে ছাড় দিতে নারাজ। তারা এখন স্থানীয় ব্যক্তিকেই এ আসনে এমপি হিসেবে দেখতে চান। সে কারণে মহানগর জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক এস, এম ইয়াসিরকে তারা প্রার্থী হিসেবে চেয়েছিলেন। কিন্তু দলের সর্ব শেষ সিদ্ধান্তে তারা চরম হতাশ ও ক্ষুব্ধ হয়ে পড়েছেন।#

পার্সটুডে/আবদুর রহমান খান/আশরাফুর রহমান/১১

খবরসহ আমাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সব লেখা ফেসবুকে পেতে এখানে ক্লিক করুন এবং নোটিফিকেশনের জন্য লাইক দিন

ট্যাগ

মন্তব্য