২০১৯-০৯-১১ ২১:১২ বাংলাদেশ সময়
  • জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা
    জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

আওয়ামী লীগ যদি প্রতিহিংসার রাজনীতিতে বিশ্বাস করত তাহলে দেশে বিএনপির কোনো অস্তিত্ব থাকত না বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আজ (বুধবার) জাতীয় সংসদে বিএনপির সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার (সংরক্ষিত আসন-৫০) এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এ মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ হত্যার রাজনীতি করে না। আওয়ামী লীগ প্রতিহিংসার রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না। যদি আমরা তা করতাম তাহলে এ দেশে বিএনপির অস্তিত্ব থাকত না। কারণ, আমাদের চেয়ে কেউ বেশি বিএনপির হত্যা, নিপীড়ন ও নির্যাতনের শিকার হয়নি।'

বিএনপির সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা তার প্রশ্নে বলেন- এখন দেশে মানুষ হত্যা থেকে মশা মারা পর্যন্ত সব বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা প্রয়োজন হয়। যা রাষ্ট্রের অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের ভেঙে পড়া ও অকার্যকর হওয়ার ইঙ্গিত। রাষ্ট্রের প্রাতিষ্ঠানগুলোর সফলতা একটি কার্যকর রাষ্ট্রের পূর্বশর্ত উল্লেখ করে তিনি প্রশ্ন রাখেন যে, অকার্যকর প্রতিষ্ঠানগুলো রাষ্ট্র পরিচালনায় সরকারের সার্বিক ব্যর্থতার চিত্র তুলে ধরে কি না।

রুমিন ফারহানা

জবাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, 'সরকার প্রধানের অন্যতম কাজ ও দায়িত্ব সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগের কাজের সমন্বয় করা, মন্ত্রীদের কাজের তদারকি করা। জনগণ আমাকে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব দিয়েছেন তাদের কল্যাণ নিশ্চিত করার জন্য। আরাম-আয়েশের জন্য আমি প্রধানমন্ত্রিত্ব গ্রহণ করিনি। আমি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা, যিনি তার জীবনটাই উৎসর্গ করেছেন এ দেশের মানুষের কল্যাণে। তার কন্যা হিসেবে জনগণের প্রতি আমার দায়বদ্ধতার একটা আলাদা জায়গা রয়েছে। আমি সেটাই প্রতিপালনের চেষ্টা করি। সেজন্যই দিনরাত পরিশ্রম করি। কোনো প্রতিষ্ঠানকে অকার্যকর করার জন্য নয়, সব প্রতিষ্ঠানকে আরও সক্রিয় রাখার জন্য আমি সবসময় সচেষ্ট।'

সংসদ নেতা বলেন, 'আওয়ামী লীগ সরকারের নিরলস প্রচেষ্টা ও জনগণের অক্লান্ত পরিশ্রমে আজ বাংলাদেশ বিশ্বে মর্যাদার আসনে প্রতিষ্ঠিত, আর্থসামাজিক উন্নয়নে বিশ্বে রোল মডেল। দেশ খাদ্যে স্বয়ং সম্পূর্ণ, স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশের তালিকায় স্থান করে নিয়েছে, জিডিপি’র প্রবৃদ্ধিতে বিশ্বসেরার জায়গা দখল করেছে। এসব আপনাআপনি হয়নি। সবার পরিশ্রমে হয়েছে। প্রতিষ্ঠান অকার্যকর থাকলে এসব অর্জন সম্ভব হতো না।'

শেখ হাসিনা বলেন, 'বাংলাদেশ সামনে এগিয়ে যাচ্ছে। কারণ, রাষ্ট্রযন্ত্র ভালোভাবে কাজ করছে। কাজ করার বদলে তার (রুমিন ফারহানা) নেত্রী খালেদা জিয়ার মতো দুপুর ১২টা পর্যন্ত ঘুমিয়ে কাটালে কি প্রশ্নকারী খুশি হতেন?'

রুমিন তার প্রশ্নে মানুষ ও মশা মারাকে একই সমতলে নিয়ে আসায় প্রধানমন্ত্রী সমালোচনা করে বলেন,  বিএনপির সংসদ সদস্য একটি অনাকাঙ্ক্ষিত, অসংসদীয় ও অবান্তর প্রশ্ন করেছেন। তিনি মানুষ হত্যা আর মশা মারাকে একই সমতলে নিয়ে এসেছেন। কিন্তু তিনি কি ভুলে গেছেন— বহু ত্যাগ-তিতীক্ষার পর বঙ্গবন্ধু যখন যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশকে পুনর্গঠন করে ক্ষুধামুক্ত, দারিদ্র্যমুক্ত, সুখী-সমৃদ্ধ সোনার বাংলা বিনির্মাণে আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিলেন, ঠিক তখনই বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা মেজর জিয়াউর রহমান জাতির পিতাসহ আমার মা, তিন ভাই এবং অন্তঃসত্ত্বা ভ্রাতৃবধূসহ আমার পরিবার ও আত্মীয়-স্বজনের রক্তে রঞ্জিত হয়ে খুনিদের সহায়তায় ক্ষমতায় বসেছিলেন?

শেখ হাসিনা বলেন, জিয়াউর রহমানের প্রতিহিংসার বলি হয়েই জেলখানায় নির্মমভাবে নিহত হন জাতীয় চার নেতা। জিয়াউর রহমানই তো এ দেশে হত্যা-ক্যু’র অপরাজনীতি শুরু করেন। সশস্ত্র বাহিনীর শত শত অফিসার, সৈনিককে হত্যা করেন। ঘুষ, দুর্নীতি, লুটপাটের সংস্কৃতি চালু করেন। একটা পুরো প্রজন্মকে নষ্ট করে দেন জিয়াউর রহমান। তাই তার মুখে মানুষ মারা বিষয়টি অবলীলায় চলে আসে। এটাই তো তাদের দলীয় আদর্শ।#

পার্সটুডে/আশরাফুর রহমান/১১

খবরসহ আমাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সব লেখা ফেসবুকে পেতে এখানে ক্লিক করুন এবং নোটিফিকেশনের জন্য লাইক দিন

 

ট্যাগ

মন্তব্য