ভারতে বিজেপিশাসিত রাজস্থানে অজ্ঞাত দুর্বৃত্তদের আক্রমণে এক মুসলিম ব্যক্তি নিহত ও অন্য একজন আহত হয়েছে।

আজ (রোববার) গণমাধ্যমে প্রকাশ, রাজস্থানের আলওয়ার জেলা  থেকে পিকআপ ভ্যানে করে গরু নিয়ে ভরতপুরের ঘাটমিকা গ্রামে যাওয়ার সময় শনিবার গভীর রাতে তাদেরকে মারধর করা হয় এবং তাদের উপরে গুলি চালানো হয়। ওই ঘটনায় ওমর খান নামে এক ব্যক্তি নিহত এবং তাহির নামে অন্য একজন আহত হয়েছে।

আহত তাহিরকে হরিয়ানার এক বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা করা হচ্ছে। হতাহত ব্যক্তিরা মুসলিম গরু পালনকারী

ওই ঘটনার খবর পাওয়ার পরে প্রচুরসংখ্যক মেয় সমাজের মানুষজন রাজীব গান্ধী সরকারি জেনারেল হাসপাতালে জড়ো হন। তারা ওই ঘটনার উচ্চস্তরীয় তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। গোবিন্দগড় থানায় এ ব্যাপারে একটি অভিযোগ দায়ের হয়েছে।

প্রসঙ্গে আজ (রোববার) বিশিষ্ট সাংবাদিক ও ভারতীয় সংসদের উচ্চকক্ষ রাজ্যসভার সদস্য আহমদ হাসান ইমরান রেডিও তেহরানকে বলেন, ‘তথাকথিত গোরক্ষকরা আমাদের দেশে যা করছেন, তা খুবই অন্যায় হচ্ছে। সাধারণভাবে যারা গরুর ব্যবসা করেন বা চাসবাসের জন্য ও দুধের জন্য গরু নিয়ে যান তাদের ওপরেও হামলা করা হচ্ছে। না জেনে বুঝে, কোনো তদন্ত ছাড়াই হামলা করা হচ্ছে। এরফলে বেশ কিছু মানুষ ভারতের বিভিন্ন প্রদেশে নিহত হয়েছেন। এ ধরণের ঘটনা মানবাধিকার লঙ্ঘন ও সংবিধানবিরোধী। সুপ্রিম কোর্টও এধরণের ঘটনার বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করার জন্য রায় দিয়েছে। দেশের সমস্ত রাজনীতিবিদরা এর নিন্দা করেছেন, এমনকী বহুদিন চুপ থাকার পরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও বলেছেন এধরণের ঘটনা ঠিক নয়। কিন্তু তা সত্ত্বেও আমরা দেখতে পাচ্ছি, যারা এই গোরক্ষক বাহনী তৈরি করেছেন তারা কারা তা সকলেই জানেন। এরা খুব উগ্র ধারণা পোষণ করেন যা আমাদের দেশের সংবিধানের চরিত্র বিরোধী।

তিনি বলেন, ‘অবিলম্বে এসব বন্ধ হওয়া প্রয়োজন। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আদালতের কঠোর পদক্ষেপ নেয়া উচিত। পুলিশকে এ ব্যাপারে সক্রিয় হতে হবে। বিজেপিশাসিত রাজ্যে এসব ঘটনা ঘটছে। সেখানে পুলিশ প্রশাসন এ ব্যাপারে খুব বেশি সক্রিয় নয়। অনেক সময় দেখা যায় প্রকৃত অপরাধীদের গ্রেফতার না করে নির্দোষদের গ্রেফতার করা হচ্ছে। ফলে তাদের বিরুদ্ধে প্রমাণ না থাকায় তারা ছাড়া পেয়ে যায়।

আহমদ হাসান ইমরান বলেন, ‘ভারত বহু ধর্মের, বহু ভাষার দেশ। বৈচিত্রের মধ্যে আমাদের ঐক্য, সেই ঐক্যকে বিনষ্ট করার জন্য যারা চেষ্টা করছে তারা ভারতের বিরাট ক্ষতি করছে। এরফলে সত্যিকার অর্থে সংখ্যালঘুরা আতঙ্কের মধ্যে আছেন। এজিনিস কোনো দেশের পক্ষে শুভ নয়। তিনি অবিলম্বে এসব ঘটনা বন্ধ হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেন।  

প্রসঙ্গত, গত ৩ এপ্রিল কথিত গোরক্ষকদের হাতে নিহত হয়েছিলেন পহেলু খান নামে এক মুসলিম দুধ ব্যবসায়ী। তাকে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। সেসময় হামলাকারীরদের গণপিটুনিতে গুরুতর আহত হন পহেলু খান ও তার ছেলে ইরশাদ খান। দুদিন পরে এক হাসপাতালে মারা যান পহেলু খান।

মৃত্যুকালীন জবানবন্দিতে পুলিশকে পহেলু খান যে ৬ জনের নাম জানিয়েছিলেন, তাদের মধ্যে তিনজনই হিন্দুত্ববাদী একটি সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত। যদিও পুলিশি তদন্তে ওই অভিযুক্তদের ছাড় দেয়া হয়েছে। অভিযুক্তরা সেসময় ঘটনাস্থলে ছিল না বলে পুলিশের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।

যদিও রাজ্যে বিজেপি সরকার থাকার সুবাদে অভিযুক্তরা রেহাই পেয়েছে বলে বিভিন্ন মহলে অভিযোগ উঠেছে। সেই ঘটনার জের না মিটতেই এবার ফের আলওয়ারেই মুসলিম গরু পালনকারীকে হত্যার ঘটনা ঘটলো।

গত অক্টোবর মাসে রাজস্থানের আলওয়ার জেলার সাহুবাস এলাকায় সুব্বা খান নামে এক মুসলিম গরু পালনকারী দুধ ব্যবসায়ী পরিবার থেকে ৫১ টি গরু ছিনিয়ে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটে। গোরক্ষকরা সেসময় পুলিশের সঙ্গে যোগসাজশের মাধ্যমে গরুগুলোকে একটি গোশালায় পাঠিয়ে দিয়েছিল বলে অভিযোগ ওঠে। পুলিশ অবশ্য ওই ঘটনায় জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করেছিল।#

পার্সটুডে/ এমএএইচ/ বাবুল আখতার /১২

 

 

২০১৭-১১-১২ ১৯:২৬ বাংলাদেশ সময়
মন্তব্য