• উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগি আদিত্যনাথ
    উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগি আদিত্যনাথ

ভারতে বিজেপিশাসিত উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগি আদিত্যনাথ বলেছেন, ‘রাম ছাড়া ভারতে কোনো কাজ হতে পারে না। রাম আমাদের বিশ্বাসের প্রতীক এবং ভারতের বিশ্বাসের কেন্দ্রবিন্দু।’

আজ (মঙ্গলবার) উত্তর প্রদেশের অযোধ্যায় তিনি ওই মন্তব্য করেন। যোগি আদিত্যনাথ অযোধ্যা থেকে উত্তর প্রদেশে আসন্ন পৌর নির্বাচনে দলীয় প্রচার শুরু করেন।

অযোধ্যা বিতর্ক সমাধানের জন্য আধ্যাত্মিক গুরু হিসেবে পরিচিত শ্রী শ্রী রবিশঙ্করের পদক্ষেপের প্রশংসা করে আদিত্যনাথ বলেন, যেকোনো পর্যায়ে আলাপ আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের প্রচেষ্টা প্রশংসাযোগ্য। উত্তর প্রদেশে পৌর নির্বাচনের প্রচার অযোধ্যা থেকে শুরু করাকে বাবরী মসজিদ-রাম মন্দিরের বিতর্কের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

ভারতের উত্তর প্রদেশের অযোধ্যায় কয়েকশ’ বছরের পুরোনো বাবরী মসজিদকে প্রকাশ্য দিবালোকে ধ্বংস করে দেয় করসেবক নামধারী উগ্র হিন্দুত্ববাদীরা। তাদের দাবি, বাবরী মসজিদ আসলে রামের জন্মভূমি।

বাবরী মসজিদ ধ্বংসের দৃশ্য

সুপ্রিম কোর্টে ওই ইস্যুতে নিয়ে মামলা চলছে। কিন্তু তার আগে সংলাপের মাধ্যমে বাবরী মসজিদ-রাম মন্দির বিতর্ক সমাধানের জন্য মাঠে নেমেছেন শ্রী শ্রী রবিশঙ্কর। আগামী ১৬ নভেম্বর তিনি অযোধ্যা সফরে যাবেন।  

আজ উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগি আদিত্যনাথ বলেন, আলাপ-আলোচনা তখনই সম্ভব যখন উভয়পক্ষ প্রস্তুত হবেন। আগামীকাল বুধবার আদিত্যনাথ ও রবিশঙ্করের মধ্যে সাক্ষাৎ হবে।

উত্তর প্রদেশে আজ থেকে ১২ দিন ধরে কমপক্ষে ৩৩টি জনসভা করবেন মুখ্যমন্ত্রী যোগি আদিত্যনাথ। কিছুদিন আগেই অযোধ্যায় ধূমধাম করে দিওয়ালি উৎসব পালন করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। এবার রাজ্যে পৌরসভা নির্বাচন উপলক্ষে দলীয় প্রচারের সূচনা করলেন সেই অযোধ্যা থেকেই।#

যোগী আদিত্যনাথ গতকাল সোমবার ছত্তিশগড়ের রায়পুরে এক অনুষ্ঠানে ‘সেক্যুলার’ শব্দকে বড় মিথ্যা বলে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, স্বাধীনতার পরে ভারতে সবচেয়ে বড় মিথ্যা হল ধর্মনিরপেক্ষ শব্দ। নাগরিকদের কাছে এবং ভারতের ওই সকল  লোকেদের কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিত যারা ভারতে ওই শব্দের জন্ম দিয়েছে এবং যারা এই শব্দ ব্যবহার করে। কোনো ব্যবস্থা সেক্যুলার হতে পারে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

তিনি ‘হিন্দু’ শব্দের ওপরে জোর দিয়ে বলেন, শুধু ভারত নয়, বিশ্বে ‘হিন্দু’ গর্ববোধক শব্দ কিন্তু ‘পাকি’ শব্দকে গালি মনে করা হয়। নেপাল, ভুটান, কাম্বোডিয়া ও ইউরোপে হিন্দু শব্দ ভারতীয়তার পরিচয় বলে তার দাবি। হিন্দু শব্দ বিশ্বে স্বীকৃতি পাচ্ছে কিন্তু ভারতে কিছু মানুষ ওই শব্দে বিরক্ত হয় বলে তিনি আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন। #

পার্সটুডে/এমএএই্চ/এআর/১৪    

২০১৭-১১-১৪ ১৬:০৮ বাংলাদেশ সময়
মন্তব্য