• সংখ্যালঘু যুব ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মো: কামরুজ্জামান
    সংখ্যালঘু যুব ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মো: কামরুজ্জামান

ভারতের ঐতিহাসিক বাবরী মসজিদ ধ্বংসে দোষীদের শাস্তির দাবি করা হয়েছে। আজ (বুধবার) কোলকাতায় মুসলিম ও দলিত সম্প্রদায় আয়োজিত সাম্য শান্তি সম্প্রীতি মঞ্চের সভায় ওই দাবি করা হয়।

আদালতের নির্দেশ অমান্য করে বাবরী মসজিদ ধ্বংসের সাথে সাথে জড়িতরা কেন কারাগারের পরিবর্তে নিরাপত্তাবাহিনী সাথে নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে এমন প্রশ্ন তোলেন সারা বাংলা সংখ্যালঘু যুব ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ কামরুজ্জামান। কোলকাতার সমাবেশে থেকে তিনি বলেন, "আমার লজ্জা হয় ভারতের কারাগারগুলোতে যখন দেখি সাধারণ অপরাধীদের ধরে রাখা হয়েছে। আর যারা প্রকৃত অপরাধী, দিনের আলোতে যারা ভারতের আইনকে অবজ্ঞা করে, সুপ্রিম কোর্টের রায়কে উড়িয়ে দেয়, তারা ভারতে জেড ক্যাটাগরির নিরাপত্তা নিয়ে ঘুরে বেড়ায়! এটাই কী ভারতে বিচার যে ২৫ বছরেও তাদেরকে শাস্তি দেয়া হবে না? বাবরী মসজিদ যারা ধ্বংস করেছে তাদের শাস্তি চাই।"

তিনি বলেন, ‘অযোধ্যায় রাম মন্দির হবে- না- বাবরী মসজিদ হবে এ কথা বলবে ভারতের সর্বোচ্চ আদালত। একথা নরেন্দ্র মোদির মুখে কিংবা প্রবীণ তোগাড়িয়ার মুখ থেকে শুনব না। আমরা যদি সুপ্রিম কোর্টের ওপরে এই আস্থা রাখতে পারি, তাহলে নরেন্দ্র মোদিরা কেন সেই আস্থা রাখতে পারেন না?

আদালতের বাইরে অযোধ্যা নিয়ে কোনো আলোচনা বা সিদ্ধান্ত হতে পারে না। আমরা ১৯৯২ সালের ৬ ডিসেম্বর যেভাবে আদালতের সিদ্ধান্তের ওপরে বিশ্বাস রেখেছিলাম। আজও আদালতের ওপরে আমাদের আস্থা রয়েছে বলে মন্তব্য করেন কামরুজ্জামান।

তিনি বলেন, "বাবরী মসজিদ-রাম মন্দির নিয়ে ভারতের সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্ত মেনে নেয়ার  কথা যারা বলতে পারে না তারা দেশপ্রেমী হতে পারে না। তারা দেশদ্রোহী ছাড়া অন্য কিছু নয়।"

মুহাম্মদ কামরুজ্জামান দলিত-মুসলিম ঐক্যের ওপরে জোর দিয়ে বলেন, ‘এই ঐক্য হলে নরেন্দ্র মোদি হিন্দু নিম্নবর্ণের মানুষদের যেভাবে মুসলিমদের বিরুদ্ধে উসকানি দিয়ে এর আগে ক্ষমতায় এসেছিল ২০১৯ সালে সেভাবে ক্ষমতায় আসতে পারবে না।

মুফতি আব্দুল মাতীন

কোলকাতার ওই সমাবেশে অল ইন্ডিয়া সুন্নাত অল জামায়াতের সাধারণ সম্পাদক মুফতি আব্দুল মাতীন ক্ষমতাসীন বিজেপি সরকারকে কটাক্ষ করে বলেন, ‘ওরা মাত্র ৩১ শতাংশ ভোট পেয়ে ক্ষমতায় এসেছে। কিন্তু এখনো হিন্দু-মুসলিমের মধ্যে ৬৯ শতাংশ মানুষ আছেন। এই ৩১ শতাংশ ভোট পেয়ে তারা কখনো মন্দির-মসজিদ নিয়ে দাঙ্গা, কখনও গরু, কখনও তাজমহল আবার কখনও তিন তালাক নিয়ে গোলযোগের পরিকল্পনা করছে।"

আবদুল মাতীন আরও বলেন, "সরকারের কাজ আসলে হিন্দু ধর্মের উন্নতির জন্য নয় বরং রাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ করতে এসব করছে। ধর্মকে সাইনবোর্ড হিসেবে ব্যবহার ওই ষড়যন্ত্রের জাল পেতেছে। যদি ৩১ শতাংশ ভোট পেয়ে তারা দাঙ্গার ষড়যন্ত্র করে তাহলে ৬৯ শতাংশ হিন্দু-মুসলিম, দলিত, আদিবাসী তাদেরকে এদেশ থেকে ও পার্লামেন্ট থেকে বিদায় করে দেবে। তারা এদেশের পার্লামেন্ট পরিচালনা করার ক্ষমতা রাখে না। যারা ভারতে মানুষ মারার রাজনীতি করতে চায় সেই নরখাদকদের কাছ থেকে দেশকে বাঁচানোর জন্য ৬৯ শতাংশ মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হওয়া অত্যন্ত জরুরি।"

তিনি বিজেপি ও আরএসএস মুক্ত ভারত গড়ার জন্য হিন্দু-মুসলিমের মধ্যে ঐক্য গড়ে তোলার ওপরে জোর দেন।  

কোলকাতার ওই সমাবেশে জামাতে ইসলামী হিন্দের পশ্চিমবঙ্গের আমীর মুহাম্মদ নূরুদ্দিন, দলিত নেতা সুকৃতি রঞ্জন বিশ্বাস, সুখনন্দন সিং আলুওয়ালিয়াসহ অন্য বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।#

পার্সটুডে/এমএএইচ/জিএআর/৬   

 

২০১৭-১২-০৬ ২১:০২ বাংলাদেশ সময়
মন্তব্য