• ঘাতক শম্ভু লাল
    ঘাতক শম্ভু লাল

ভারতে বিজেপিশাসিত রাজস্থানে এক মুসলিমকে অত্যন্ত নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। কথিত ‘লাভ জিহাদ’র অভিযোগে তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।  এই অভিযোগ পুরো মিথ্যা বলে মনে করছে পরিবার।

আজ (বৃহস্পতিবার) গণমাধ্যমে প্রকাশ, ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মালদহ জেলার বাসিন্দা আফরাজুল খানকে (৫০) পিটিয়ে এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপানোর পরে তার গায়ে পেট্রল ঢেলে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়। অত্যন্ত নির্মমভাবে হত্যার ওই ঘটনার ভিডিওচিত্র বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে ওঠায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।

আফরাজুল নামে ওই শ্রমিক প্রাণ রক্ষা করার জন্য বারবার আকুতি জানালেও হত্যাকারী ঘাতকের হৃদয় তাতে সাড়া দেয়নি। পুলিশ এ ব্যাপারে অভিযুক্ত শম্ভুলাল রেগারকে আজ সকালে গ্রেফতার করেছে। তার কাছ থেকে একটি কুঠার এবং একটি মোটর বাইক উদ্ধার হয়েছে।  

ওই ঘটনার পরে রাজস্থানের রাজসামন্দ এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হওয়ায় ইন্টারনেটে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।

ঘাতক শম্ভু লাল

আফরাজুলের বাড়ি পশ্চিমবঙ্গের মালদা জেলার সায়েদপুর এলাকায়। তিনি রাজস্থানে শ্রমিক সরবরাহের কাজ করতেন। তিনি তিন মেয়ের জনক। বড় দুই মেয়ের বিয়ে হয়েছে। তাঁর মতো একজন বয়স্ক লোকের বিরুদ্ধে আনা কথিত লাভ জিহাদের অভিযোগ মিথ্যা বলে দাবি করেছেন পরিবারের সদস্য ও এলাকাবাসী। তারা ঘাতকের ফাঁসি চেয়েছেন।

রাজস্থান পুলিশের উর্দ্ধতন কর্তা শ্রীবাস্তব জানান, ”আমরা জেনেছি শম্ভু লালের পরিবারের কারোর ভিন্ন ধর্মে বিয়ে হয়নি। এই ভিডিওগুলোতে সে ঘৃণা ছড়ানো বিবৃতি দিয়েছে। সহিংসতা এড়ানোর জন্য আমরা দুই সম্প্রদায়কে নিয়ে বৈঠক করছি।”

ড্রাইভিং লাইসেন্স অনুযায়ী আফরাজুলের বয়স ৫০ বছরেরও বেশি

এ নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের প্রদেশ কংগ্রেসের প্রেসিডেন্ট অধীর চৌধুরি তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলেন, ‘ওই ঘটনা অত্যন্ত নিন্দার ও উদ্বেগের। ভারতের কিছু ব্যক্তি ও গোষ্ঠী যাদের হাতে ক্ষমতা আছে তারা ঠিক করে দিচ্ছে ‘লাভ জিহাদ’ কাকে বলে, ভারতের সংস্কৃতি কাকে বলে। ভারতে কে কী খাবে, না খাবে তারা ঠিক করে দিচ্ছে। তাদের মনমতো না হলে, পিটিয়ে হত্যা করার ঘটনা ঘটছে। স্বাধীন ভারতে এ ধরণের বর্বরতা, গোটা দেশবাসীর কাছে চিন্তা ও উদ্বেগের বিষয়।’

পশ্চিমবঙ্গের প্রদেশ কংগ্রেসের প্রেসিডেন্ট অধীর চৌধুরি

অধীর চৌধুরি বলেন, ‘আমি ওই ঘটনার নিন্দা করাসহ ঘৃণা ব্যক্ত করছি। এর  পাশাপাশি ওই ঘটনাকে নিয়ে আমরা ভারত সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনে রূপান্তরিত করবো। সাম্প্রদায়িক শক্তির বিরুদ্ধে ভারতের মানুষের কণ্ঠস্বর এ ধরণের বর্বরোচিত আক্রমণকে প্রতিহত করতে পারে বলে আমরা মনে করি। গোটা ভারত জুড়ে যেভাবে কোথাও মাংস খাওয়ার নামে, কোথাও লাভ জিহাদের নামে একের পর এক হত্যাকাণ্ড সংগঠিত হচ্ছে তাতে মনে হচ্ছে ভারতের গণতন্ত্র ক্রমশ বিপন্নতার মধ্যে এগিয়ে চলেছে।’  

সিপিআইএম নেতা মুহাম্মদ সেলিম

পশ্চিমবঙ্গের সিপিআইএম নেতা ও সংসদ সদস্য মুহাম্মদ সেলিম ওই ঘটনার তীব্র নিন্দা করে বলেন, ‘ভারতকে কোথায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে? জিহাদ কারা করল? যে ভালোবেসে বিয়ে করল সে? না যে তাকে পুড়িয়ে হত্যা করল সে? আসলে ‘সঙ্ঘ   পরিবার’ তালিবানি রাজত্ব করছে। আমরা দেখেছি আফগানিস্তান ও পাকিস্তানে এভাবে হত্যালীলা হয়। বিয়ে করা, প্রেম করা ব্যক্তিগত ব্যাপার। অনেক সময় বাবা মায়ের পছন্দ না হলেও ছেলে মেয়েরা পালিয়ে যেয়ে বিয়ে করে। এখানে অবশ্য ধর্মকে প্রাধান্য দেয়া হচ্ছে। যেন সবার ওপরে ধর্ম সত্য তাহার উপরে নাই।’

রাজস্থানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী গুলাবচাঁদ কাটারিয়া বলেন, ওই ঘটনার ভাইরাল ভিডিও'র যে ছবি প্রকাশ্যে এসেছে তা অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। যে ভাবে তাকে হত্যা করা হয়েছে তা দেখলে যেকোনো মানুষই চমকে উঠবেন! অভিযুক্তর বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি পদক্ষেপ  নেয়া হবে বলে শ্রী কাটারিয়া আশ্বাস দিয়েছেন।#

পার্সটুডে/এমএএইচ/এআর/৭

 

২০১৭-১২-০৭ ১৫:১৪ বাংলাদেশ সময়
মন্তব্য