• ভারতের ঐতিহাসিক বাবরী মসজিদ (ধ্বংসের আগে তোলা ছবি)
    ভারতের ঐতিহাসিক বাবরী মসজিদ (ধ্বংসের আগে তোলা ছবি)

ভারতে বাবরী মসজিদ বনাম রাম জন্মভূমি বিতর্ক মামলায় ধর্ম ও রাজনীতির ভিত্তিতে সাফাই শোনা হবে না বলে সুপ্রিম কোর্ট জানিয়ে দিয়েছে।

আজ (বৃহস্পতিবার) সুপ্রিম কোর্টে এ সংক্রান্ত শুনানির সময় আদালত বিষয়টি স্পষ্ট করে দিয়েছে। ওই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে আগামী ১৪ মার্চ। আগামী দু’সপ্তাহের মধ্যে সমস্ত নথি ইংরেজি অনুবাদ করে তা সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

উত্তর প্রদেশ সরকারের পক্ষে অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা বলেন, ওই মামলায় ৫০৪ টি প্রমাণ ও ৮৭ সাক্ষী আছে। 

প্রধান বিচারপতি দীপক মিশ্র’র নেতৃত্বাধীন বিচারপতি অশোক ভান ও বিচারপতি এস আবদুল নাজিরকে নিয়ে গঠিত সমন্বিত বেঞ্চ গুরুত্বপূর্ণ অভিমত ব্যক্ত করে মামলাটিকে কেবল জমি বিতর্ক হিসেবে দেখা হবে জানানো হয়েছে। এর আগে দেশের একশ’ কোটি হিন্দুদের অনুভূতির বিষয়টি মাথায় রাখার দাবি জানানো হয়েছিল।  

ভারতের সুপ্রিম কোর্ট

১৯৯২ সালের ৬ ডিসেম্বর ভারতের উত্তর প্রদেশের অযোধ্যায় প্রকাশ্য দিবালোকে কয়েকশ’ বছরের পুরোনো বাবরী মসজিদকে ধ্বংস করে করসেবক নামধারী উগ্রহিন্দুত্ববাদী জনতা। বাবরী মসজিদের স্থানে ভগবান রামের জন্ম হয়েছিল বলে তাদের দাবি।

এ সংক্রান্ত বিবাদে ২০১০ সালে এলাহাবাদ হাইকোর্ট বিতর্কিত জমিটি রামলালা বিরাজমান, নির্মোহী আখড়া ও সুন্নী ওয়াকফ বোর্ডের মধ্যে তিনভাগে ভাগ করে দেয়। হাইকোর্টের ওই আদেশের বিরুদ্ধে সমস্ত পক্ষ সুপ্রিম কোর্টে বিশেষ আবেদন জানায়। ২০১১ সালের ৯ মে সুপ্রিম কোর্ট এলাহাবাদ হাইকোর্টে রায়ে স্থগিতাদেশ জারি করে স্থিতাবস্থা বজায় রাখার আদেশ দেয়। তার পর থেকে এ সংক্রান্ত মামলা বিচারাধীন রয়েছে।

মুহাম্মদ কামরুজ্জামান

এ প্রসঙ্গে আজ (বৃহস্পতিবার) সারা বাংলা সংখ্যালঘু যুব ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ কামরুজ্জামান বলেন, ‘বাবরী মসজিদ মামলায় সুপ্রিম কোর্ট যেভাবে এগোচ্ছে তা সন্তোষজনক। সুপ্রিম কোর্টের কাছে আমাদের প্রত্যাশা ছিল বাবরী মসজিদের জায়গার মালিকানা নির্ধারণ করা। মানুষের আবেগ দিয়ে নয়, রাজনৈতিক চাপের কাছে নতিস্বীকার করে বা সরকারের কাছে মাথানত করে নয়, আদালত যেভাবে নথিপত্রের ভিত্তিতে এগিয়ে যাচ্ছে তা অত্যন্ত ইতিবাচক দিক। আমরা আদালতের কাছে প্রত্যাশা রাখি, জমির মালিকানা দস্তাবেজের ভিত্তিতে নির্ধারণ হলে ওটা বাবরী মসজিদের জায়গা হিসেবে আদালত রায় ঘোষণা করবে। এরফলে একটা নতুন নজির সৃষ্টি হবে এবং বিচার ব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা অটুট থাকবে।’ #

পার্সটুডে/এমএএইচ/এআর/৮

 

ট্যাগ

২০১৮-০২-০৮ ১৯:১৮ বাংলাদেশ সময়
মন্তব্য