• কংগ্রেসের মুখপাত্র রণদীপ সূর্যেওয়ালা
    কংগ্রেসের মুখপাত্র রণদীপ সূর্যেওয়ালা

ফ্রান্সের সঙ্গে রাফায়েল যুদ্ধবিমান ক্রয় চুক্তি সম্পর্কে কেন্দ্রীয় সরকার মিথ্যা বলছে বলে অভিযোগ করেছে ভারতের প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস। আজ (শুক্রবার) কংগ্রেসের মুখপাত্র রণদীপ সূর্যেওয়ালা এক সংবাদ সম্মেলনে ওই অভিযোগ করেছেন।

তিনি বলেন, ‘রাফায়েল চুক্তি প্রসঙ্গে মোদি সরকার একটা মিথ্যাকে চাপা দিতে একশ’ মিথ্যা কথা বলছে। প্রতিরক্ষামন্ত্রী ২০১৭ সালের ১৭ নভেম্বর এক বিবৃতিতে রাফায়েল ক্রয়ের মূল্য জানানো হবে বলে জানিয়েছিলেন। কিন্তু আজও তা করা হচ্ছে না কেন? সরকার কোনো রহস্য লুকোতে চাচ্ছে যাতে দেশের বিপদ? কংগ্রেসের দাবি দেশের স্বার্থে রাফায়েলের মূল্য জানাতে হবে।’

কংগ্রেসের মুখপাত্র বলেন, 'অর্থমন্ত্রী কেন বলছেন এতে দেশের স্বার্থের ক্ষতি হবে? যুদ্ধ বিমানের মূল্য জাতীয় নিরাপত্তার বিষয় নয়, এটা দেশের রাজস্বের বিষয়। তার জবাব থেকেই তো স্পষ্ট হবে এতে দেশের কত অর্থ খরচ হয়েছে।'

রাফায়েল যুদ্ধবিমান

রণদীপ সূর্যেওয়ালার অভিযোগ, তিনশ’ শতাংশ বেশি মূল্যে রাফায়েল ক্রয় করা হয়েছে এজন্য জাতীয় স্বার্থের আড়ালে সরকার লুকোচ্ছে।

সম্প্রতি কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী ওই ইস্যুতে বলেন, ‘প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেছেন, রাফায়েল কিনতে কত খরচ হচ্ছে বলবেন না। তার অর্থ কী? অর্থ এটা‌ই যে তাতে বড় দুর্নীতি আছে। মোদিজি নিজে প্যারিসে গিয়ে চুক্তিপত্রে পরিবর্তন ঘটিয়েছেন। গোটা দেশ তা জানে।’

রাহুল গান্ধী

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম টুইটার বার্তায় রাহুল কটাক্ষ করে বলেন, ‘টপ সিক্রেট। প্রতিটি জেটের দরদাম করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও তার ‘বিশ্বস্ত বন্ধু’। কত টাকায় চুক্তি হল, সংসদে সেটা বললে বোধহয় জাতীয় সুরক্ষা লঙ্ঘন হয়‌!‌ যারা এ নিয়ে প্রশ্ন তুলবেন, তারা তৎক্ষণাৎ দেশদ্রোহী হয়ে যাবেন!‌’

কংগ্রেসের সিনিয়র নেতা গুলাম নবী আজাদ বলেছেন, ‘দেশের স্বার্থ, দেশের নিরাপত্তা নিয়ে ছিনিমিনি খেলছে সরকার, যা ক্ষমার অযোগ্য। বিমানবাহিনীর জন্য যুদ্ধবিমান কেনার নামে বিরাট ষড়যন্ত্র চলছে!‌’

অধ্যাপক ড. ইমানুল হক

'এ রকম দুর্নীতি ভারত আগে কখনো দেখে নি'

এ প্রসঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের ভাষা ও চেতনা সমিতির সম্পাদক ও কোলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজের সাবেক অধ্যাপক ড. ইমানুল হক রেডিও তেহরানকে বলেন, ‘ওটা ওরা দেখাবেন কী করে? ওরা সব বিষয়ে কথা বলবেন কিন্তু সাফল্য ও দুর্নীতি নিয়ে কথা বলবেন না। যখনই বিজেপি ক্ষমতায় এসেছে তখনই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় ভয়ঙ্কর দুর্বিপাকের মধ্যে পড়েছে। কার্গিল যুদ্ধ ও কফিন কেলেঙ্কারির মতো ঘটনা ঘটেছে। এদের আমলে কাটমানি খুব বেড়ে যায়। কাতার যেখানে রাফায়েল কিনছে ৬৯৮ কোটি টাকায় সেখানে বিজেপি সরকার ১৬১৮ কোটি টাকা। প্রায় এক হাজার কোটি টাকার তফাৎ হচ্ছে প্রত্যেক রাফায়েল কেনার মধ্যে। এরকম দুর্নীতি ভারত আগে কখনো দেখেনি।’

বিজেপি অতীতের সমস্ত দুর্নীতির ছবি ম্লান করে দেবে বলেও অধ্যাপক ড. ইমানুল হক মন্তব্য করেন।#

পার্সটুডে/এমএএইচ/এআর/৯

 

ট্যাগ

২০১৮-০২-০৯ ২০:০৬ বাংলাদেশ সময়
মন্তব্য